কাউখালীতে শিক্ষক সং'কটে কাঙাল দুই সরকারি বিদ্যালয়/ভবিষ্যৎ নিয়ে শ'ঙ্কায় ৯০০ শিক্ষার্থী

আপলোড সময় : ২১-০৯-২০২৬ ০৪:৩০:১১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৯-২০২৬ ০৪:৩৩:১৫ অপরাহ্ন
কাউখালী প্রতিনিধি:


পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম দুই ভিত্তি কাউখালী কেজি ইউনিয়ন সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও কাউখালী এসবি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এখন তীব্র শিক্ষক সংকটে জর্জরিত। সরকারি ঘোষণার প্রায় চার দশক পার হতে চললেও প্রতিষ্ঠান দুটি কখনোই পূর্ণাঙ্গ শিক্ষক কাঠামো পায়নি। বর্তমানে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন


শিক্ষক-কর্মচারী সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, যার ফলে সাধারণ পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।প্রতিষ্ঠান দুটিতে মোট ৩৪টি শিক্ষক পদের মধ্যে ২২টি পদই খালি। প্রায় ৯০০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১ জন শিক্ষক। এছাড়া কর্মচারীদের ১০টি পদের বিপরীতে অধিকাংশ পদই খালি পড়ে আছে। পাঠদানের এই বেহাল দশায় অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে এবং সচ্ছল পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে শহরের দিকে পাড়ি জমাচ্ছে।শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান রক্ষায় অভিভাবক সমাজে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।


অভিভাবক এনামুল হক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সারাদেশের সরকারি স্কুলগুলোতে কম-বেশি শিক্ষক সংকট থাকলেও কাউখালীর এই দুটি স্কুলের সংকট সবচেয়ে ভয়াবহ। এভাবে চলতে থাকলে কাউখালীর পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাই শূন্যতায় ভেসে যাবে।অন্য এক শিক্ষার্থী অভিভাবক সানজিদা রেশমা ক্ষোভের সাথে জানান, শিক্ষকদের খালি পদগুলো অতি দ্রুত পূরণ করা না হলে সন্তানদের ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেবে কে? কাউখালী এসবি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৪৫৬ জন ছাত্রী থাকলেও ১৭টি অনুমোদিত শিক্ষক পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ ১১টি পদই দীর্ঘদিন ধরে খালি। কর্মচারীদের ৪টি পদের সবকটিই শূন্য। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আকতার হোসেন হাওলাদার জানান, শিক্ষক না থাকায় বর্তমানে দুইজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে পাঠদান চালু রাখা হয়েছে।কাউখালী কেজি ইউনিয়ন সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৩৫ জন ছাত্রের এই বিদ্যাপীঠে ১৭ জন শিক্ষকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় দাপ্তরিক কাজ


মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজন হালদার বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান শিক্ষক সংকটের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টিতে পাঠদান দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং এ বিষয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।


বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসাইন সংকট স্বীকার করে আশ্বাস দিয়েছেন যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই শিক্ষক সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি আশ্বাসের খাতা বন্ধ করে অবিলম্বে যেন শূন্য পদে শিক্ষক পদায়ন করা হয়।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]