সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে পে'টালেন কৃষকেরা, শেষে ব্যবসায়ীর বাড়িতে আশ্রয়

আপলোড সময় : ২১-০৯-২০২৬ ০২:০৯:৪০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৯-২০২৬ ০২:১৩:০৪ অপরাহ্ন
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-


এবার কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নে এক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার উপর হামলা করেছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা। এতে মাথায় ও নাকে আঘাত পেয়ে আহত হয়েছেন ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদের কাছে ডিলারের গুদামের সামনে এ ঘটনা ঘটে। কয়েকজন পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। দৌড়ে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে আশ্রয় নেন ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সদর উপজেলা কৃষি অফিসার এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে অপেক্ষমান কৃষকদের মাঝে গুদামে থাকা সার বিতরণ করা হয়।


এদিকে নির্ধারিত সময়ে গুদাম খুলে সার বিতরণ না করায় ‘মেসার্স অলিল মোল্লা’ নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ অলিল মোল্লাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। তবে এ ব্যাপারে ওই ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। হামলার শিকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার নাম মোঃ মামুন অর রশিদ। তিনি গত এক মাস আগে কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ব্লক সুপারভাইজার (বিএস) হিসেবে দায়িত্ব পান। হামলায় বিএস মোঃ মামুন অর রশীদ মাথা ও পিঠে আঘাত পেয়েছেন। এ সময় তার চশমার গ্লাস ভেঙে গিয়ে নাগের কাছে কেটে যায় বলে জানিয়েছেন তিনি।

মোঃ মামুন অর রশিদ বলেন, ‘কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা মেসার্স অলিল মোল্লা নামে সার ডিলারের গুদামে আজ সকাল থেকে ১২০ বস্তা সার বিতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু ডিলার নির্ধারিত সময়ে গুদাম খোলেননি। সকাল থেকে কৃষকরা গুদামের সামনে ভিড় করতে থাকেন। আমি ডিলারকে বারবার ফোন করলেও গুদাম খোলেননি। এর মধ্যে অপেক্ষায় থাকা কৃষকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। দুপুর ১২টার দিকে কিছু কৃষক আকস্মিক আমাকে ডিলার ভেবে তেড়ে আসেন। কিছু বুঝে ওঠার আগে হামলা করে পেটান।’


এই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি ওই ইউনিয়নে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত। সবাইকে চিনি না। হামলায় আমার পিঠে ও মাথায় আঘাত পেয়েছি। চশমা ভেঙে নাক কেটে গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তারা আমাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর সহায়তায় তার বাড়িতে আশ্রয় নিই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মালেক বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে ডিলার গুদাম না খোলায় কৃষকরা উত্তেজিত হয়ে ব্লক সুপারভাইজারের ওপর হামলা করেছেন। ইউনিয়নে সারের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু যে পরিমাণ কৃষক সারের জন্য আসছেন, তা সন্দেহজনক। ভিড়ে অন্য পক্ষ প্রবেশ করে উসকানি দিয়েছে কিনা, তা দেখা দরকার। ব্লক সুপারভাইজারদের সঙ্গে কৃষকদের পরিচিতি ও যোগাযোগ না থাকায় কৃষকের বাইরের লোকজন সুযোগ নিয়েছেন।’ কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ নাহিদা আফরীন বলেন, ‘ওই ডিলারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটিকে অনুলিপি দেওয়া হবে। তারা পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।


কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলাকারীদের ভিডিও দেখে শনাক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কৃষকদের সারের চাহিদার প্রশ্নে কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ নাহিদা আফরীন বলেন, ‘আমনে এখন সারের প্রয়োজন নেই। বন্যা না হওয়ায় নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বিলম্বে কিছু আমন চাষ হয়েছে। কৃষকদের কিছু সারের চাহিদা রয়েছে। সেজন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কৃষকদের সঙ্গে কিছু সাধারণ মানুষও সার নিতে জড়ো হচ্ছেন। যাদের ১০ কেজি সারের দরকার তারাও ১ বস্তা দাবি করছেন। ফলে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে।’ এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কামাল হোসেন বলেন, ‘শত শত মানুষ ছিল। পুলিশ ছিল তিন জন। এজন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে রক্ষা করতে পারেনি পুলিশ। এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ থেকে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর সকালে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের রৌমারী মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজ নামের ডিলারের গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে গেছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা।


একইভাবে গত ২৩ আগস্ট কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে গেছেন কৃষকেরা। সারের কৃত্রিম সংকট এবং অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে এসব সার নিয়ে যান তারা। ওই দিন দুপুরের দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]