স্বাভাবিক ছ'ন্দে আদ্-দ্বীন, বাড়ছে রো'গীর চাপ

আপলোড সময় : ০৫-০৯-২০২৬ ১২:১৫:০৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০৯-২০২৬ ১২:১৮:০২ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক

সকাল থেকেই রোগী-স্বজনের পদচারনে মুখর রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতাল। জরুরি বিভাগ থেকে বহির্বিভাগÑসবখানেই রোগীর ভিড়। কেউ এসেছেন নবজাতক কোলে নিয়ে, কেউ স্বজনকে নিয়ে ডেলিভারি বা অন্য চিকিৎসার জন্য। টিকিট কাউন্টার, প্রসূতি ও শিশু বিভাগ, ডায়ালাইসিসসহ বিভিন্ন বিভাগে

অপেক্ষমাণ মানুষের দীর্ঘ সারি। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ৪৭ দিনের মতো সেবা কার্যক্রমে ছন্দপতন হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে এখন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে হাসপাতালটি। বিজ্ঞাপন মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, লাইসেন্স পুনর্বহালের ৩৬তম দিনে সকাল থেকেই হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে রোগী ও স্বজনদের চাপ বেড়েছে। টিকিট কাউন্টার, প্রসূতি ও শিশু বিভাগ, ডায়ালাইসিস ইউনিটসহ বিভিন্ন স্থানে অপেক্ষমাণ মানুষের দীর্ঘ সারি । নবজাতক থেকে শুরু করে প্রসূতি ও অন্যান্য রোগে চিকিৎসা নিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন।


রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তুলনামূলক কম খরচ, চিকিৎসক ও নার্সদের পরিচর্যার কারণে হাসপাতালটির ওপর এখনো আস্থা রয়েছে তাদের। বিশেষ করে স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়ার বিষয়টি তারা গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে সেবার মান ধরে রাখা এবং ছয় নবজাতকের মৃত্যুর পর হারানো আস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনাই হাসপাতালটির বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তাদের অনেকেই। সেবায় আমূল পরিবর্তন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইসেন্স পুনর্বহালের পর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে অবকাঠামো ও সেবায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, ভেন্টিলেশন ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের সংক্রমণ প্রতিরোধব্যবস্থা অনুসরণ করে আইসিইউ, এনআইসিইউ, সিসিইউ ও ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক, নার্স ও অন্য কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ২,৮০০ থেকে ৩ হাজার রোগী সেবা নেন। হাসপাতালটিতে মোট শয্যা ৭০০টি। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি বিনামূল্যের। শিশু ওয়ার্ডে বিনামূল্যের শয্যা রয়েছে ৬৬টি। অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য রয়েছে আরো ১৫টি বিশেষ ফ্রি বেড। এ ছাড়া ১০১ শয্যার এনআইসিইউ রয়েছে। গর্ভবতী সেবাকেন্দ্রে প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ জন গর্ভবতী নারী অ্যান্টিনেটাল কেয়ার নিতে আসেন। চেকআপ ও প্রসবের আগে তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হয়। কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে হাসপাতালে সন্তান প্রসবে উৎসাহিত করা হয়। ‘ওয়ান টু ওয়ান’ সেবায় একজন মায়ের জন্য একজন মিডওয়াইফ দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি স্বাভাবিক এবং ৬০ থেকে ৬৫টি সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে রেফার করা রোগীরাও এখানে প্রসবসেবা নেন। জানা গেছে, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ১৯৯৭ সাল থেকে সবার সাধ্যের মধ্যে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে হাসপাতালের মেডিসিন, জেনারেল সার্জারি, এন্ডোক্রাইনোললি, চক্ষু, কার্ডিওলজি, নাক-কান-গলা, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, অর্থোপেডিক্স, হেপাটোলজি, শিশু সার্জারি, ডায়াবেটোলজি, নেফ্রোলজি, নিউরোমেডিসিন, ইউরোলজি, মনোরোগ, রেডিওলজি ও ইমেজিং, ফিজিক্যাল মেডিসিন, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, জেনারেল প্যাথলজি, শিশু রোগ, নিউট্রিশন, স্ত্রী রোগ ও ধাত্রী বিদ্যা, জরুরি বিভাগ, ফিজিওথেরাপি, ও ইনফার্টিলিটি বহির্বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ঢাকা শহরে মাত্র ৩৮০ টাকায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এছাড়া গরিব ও অসহায় রোগীদের সেবায় বিনামূল্যে এবং নামমাত্র মূল্যে সারা বছরই বিভিন্ন সেবা চালু থাকে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। TravelGuides & Travelogues সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ যে ওয়ার্ডে ছয় নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয় সরেজমিনে সেই


ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, রোগীদের কমফোর্ট লেভেল সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়ার্ডে ‘পজিটিভ এয়ার প্রেসার’ বা পজিটিভ অক্সিজেন প্রেসারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে কার্বন ডাই-অক্সাইড পুরোপুরি ওয়াশ আউট হয়ে যায়। এছাড়া ভেন্টিলেশন ব্যবস্থাসহ আমূল সংস্কার করা হয়েছে। শিশু ওয়ার্ডের বাইরে কথা হয় কেরানীগঞ্জ থেকে আসা হাবিব হোসেনের সঙ্গে। তিনি আমার দেশকে বলেন, এখানে আমার প্রথম সন্তান নরমালে এবং দ্বিতীয় সন্তান চারদিন আগে সিজারের মাধ্যমে হয়েছে। কম খরচে ভালো সেবা পেয়েছি। আদ্-দ্বীন হাসপাতালসমূহের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন আমার দেশকে বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল একটি অলাভজনক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। ঢাকার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৭০০ বেডের মধ্যে ২০০টি বেড বিনামূল্যের। ফ্রি বেডের রোগীদের থাকা-খাওয়া সবকিছুই বিনামূল্যে। হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন, আলো-বাতাস চলাচলসহ অক্সিজেনের উপস্থিতি নিশ্চিত এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ নার্স ও কর্মী দ্বারা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। স্বল্প খরচে রোগীদের মানসম্মত ও উন্নত চিকিৎসাসেবা দিতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি আমরা। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা গত ২৭ মে সকালে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি করে। প্রথমে প্রতিবেদন প্রকাশের কথা বলা হলেও পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও দায়িত্বরত নার্স-স্টাফদের চরম অবহেলার কথা উল্লেখ করে। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর ৫ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। ৭ জুন মধ্যস্থতাকারী আইনজীবী শিশির মনির জানান, মৃত ছয় নবজাতকের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দিতে সম্মত হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আইন পর্যালোচনা শেষে ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। ৪৭ দিন চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর গত ২৭ জুলাই তিন শর্তে


লাইসেন্স ফিরিয়ে দিয়ে সেবা চালুর অনুমতি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট আইন ও লাইসেন্সের নির্দেশনা মেনে চলা, দ্রুত ডিউটি ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ এবং শর্ত ভঙ্গ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]