নিজস্ব প্রতিবেদক
দেচট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে ‘পেটানোর’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর থানার এক কর্মকর্তাকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট নগরের পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষক গত বৃহস্পতিবার খুলশী থানায় মামলা করেন। মামলায় ওয়াকিল হোসেনকেও আসামি করা হয়েছে। এদিকে মামলা হওয়ার পর শুক্রবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে ওয়াকিল হোসেনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় পুলিশ। এদিকে এ সময় তার অনুসারীরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের পথ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল, বোতল ও ককটেলসদৃশ বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়। এতে ওসি, তার বডিগার্ডসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় পুলিশের একটি সরকারি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
পুলিশ জানায়, হামলার একপর্যায়ে ওয়াকিল হোসেন তার বাসার ভেতরের একটি গোপন সুড়ঙ্গপথ দিয়ে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একইসঙ্গে সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের আহত করার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াকিল হোসেন পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তিনি চাঁদাবাজি, মাদক, বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা ১৭টি মামলার আসামি। পাহাড়তলী, আকবর শাহ ও খুলশী থানা এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওয়াকিলের বাহিনীর চাঁদাবাজি, জমি দখল ও অস্ত্রবাজিতে তারা অতিষ্ঠ। সরকারি জায়গার দখল নিয়ে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনার পর ৮ জুন তাকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওয়াকিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র শাহাদাত হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।