জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) পাঠাগার ও সেমিনার বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রিয়াসাল রাকিবের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আসন সংকট নিরসনে নতুন করে অর্ধ-শতাধিক আসন বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জকসুর পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক রিয়াসাল রাকিব নিজে উপস্থিত থেকে আসন বৃদ্ধির এই কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
জানা যায়, এতদিন জবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির ধারণক্ষমতা ছিল ২৮০টি আসন। নতুন এই আসন বৃদ্ধির ফলে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিটিতে পড়াশোনার আরও সুন্দর পরিবেশ এবং একসাথে আরও বেশি শিক্ষার্থী পড়ালেখার সুযোগ তৈরি হলো।
এই উদ্যোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, আগে সকালে লাইব্রেরিতে আসার পর অনেক সময় সিট পাওয়া যেত না। আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন লাইব্রেরিতে সিট পাওয়ার ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে এবং নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথ আরও সুগম হবে।
চাকরিপ্রত্যাশী জবি শিক্ষার্থী মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, "আগে লাইব্রেরিতে প্রতিদিন সকালে সিট পাওয়া নিয়ে এক প্রকার যুদ্ধ করতে হতো। ১০-১৫ মিনিট দেরি হলেই সিট পাওয়া যেত না, যা আমাদের মতো চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য খুব হতাশার ছিল। নতুন করে আসন সংখ্যা বাড়ানোয় এখন অনেক শিক্ষার্থী একসাথে পড়ার সুযোগ পাবে এবং আমাদের পড়াশোনার প্রস্তুতিটাও আরও গতি পাবে।"
ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন বলেন, "আমাদের লাইব্রেরিতে সিটের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবসময়ই অনেক বেশি থাকত। রিয়াসাল রাকিব ভাইয়ের এই উদ্যোগে আসন বাড়ায় সেই তীব্র সংকট কিছুটা হলেও কমবে। লাইব্রেরির পরিবেশ আগের চেয়ে আরও প্রাণবন্ত হবে এবং নিয়মিত পড়ার জন্য সবাই এখন আরও বেশি অনুপ্রেরণা পাবে।"
উদ্যোগটির বিষয়ে লাইব্রেরি ও সেমিনার সম্পাদক রিয়াসাল রাকিব বলেন, "জকসুতে আমার অন্যতম একটি ইশতেহার ছিল সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে আসন বৃদ্ধি করা। সেটি বাস্তবায়ন করলাম। আগে আসনের স্বল্পতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী চাইলেও লাইব্রেরির শান্ত ও অনুকূল পরিবেশে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতেন। এখন ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আরও অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী একসাথে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে আমাদের যে ভাই-বোনেরা বিসিএস কিংবা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই বাড়তি আসনগুলো অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে আশা রাখছি।"
তিনি আরও বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, লাইব্রেরির এই পরিবেশ এবং সুযোগ-প্রসারণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করবে।"