মির্জাগঞ্জে বিএনপির অ'ভ্যন্তরীণ বি'ভক্তি, দি'শেহা'রা তৃণমূল

আপলোড সময় : ০৩-০৯-২০২৬ ০৬:৫৫:৪০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-০৯-২০২৬ ০৭:০০:০৮ অপরাহ্ন
মির্জাগঞ্জ, (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:


পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন আর আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। একই দলের দুই পক্ষের পৃথক কর্মসূচি, পৃথক মঞ্চ ও পৃথক স্লোগানে উপজেলার রাজনীতিতে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। মাঠের চিত্র বলছে, এক প্রান্তে চলছে এক পক্ষের সমাবেশ, অন্য প্রান্তে চলছে আরেক পক্ষের মানববন্ধন। ব্যানারে দলের নাম একই থাকলেও বক্তা আলাদা, কর্মীও আলাদা। এমনকি কেন্দ্র থেকে ঘোষিত একই কর্মসূচিও এখানে পালিত হচ্ছে দুই দফায়। সকালে এক পক্ষ, বিকালে অন্য পক্ষ।


দুই পক্ষই নিজেদের দলের ‘আসল’ প্রতিনিধি বলে দাবি করেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভক্তির সূচনাটা হয়েছিল একেবারে ছোট পরিসরে। চায়ের দোকানে বসে নিত্যদিনের আলাপচারিতার মধ্য দিয়েই প্রথম মতপার্থক্যগুলো সামনে আসে। এরপর ধাপে ধাপে তা ইউনিয়ন পর্যায়ের সভা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে প্রকাশ পেতে থাকে। সময়ের ব্যবধানে সেই বিভক্তি এখন আর ব্যক্তিগত আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং দলীয় কর্মসূচির মূল মঞ্চ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।


ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা মাঝখানে আটকে গেছি। এক পক্ষের প্রোগ্রামে গেলে পরের দিন অন্য পক্ষ ফোন দিয়ে বলে, ‘আপনি অমুকের লোক। মাঠে কাজ করার চেয়ে এখন নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ বিভক্তির প্রভাব পড়েছে নতুন প্রজন্মের ওপরও। একাধিক তরুণ কর্মী জানান, রাজনীতিতে এখন যোগ্যতার চেয়ে বড় পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে “কার লোক”। এক তরুণ কর্মী বলেন, ‘দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে রাজনীতিতে এসেছিলাম। এখন দেখি কেবল পাল্টাপাল্টি অবস্থান আর নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি।’ অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহলের মতে, দুই পক্ষ আলাদা কর্মসূচি করায় মাঠের শক্তি ভাগ হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের বদলে শক্তিক্ষয় হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সহজেই সুবিধা নেয়। কোন্দলের কারণে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সাধারণ নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন। তারা কার নেতৃত্ব মানবেন তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে থাকে এবং দলের প্রতি আস্থা হারায়। স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য, সমস্যার সমাধান এখন আর উপজেলা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। বিষয়টির নিষ্পত্তির জন্য জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তারা বলছেন, বিভক্তি ঠেকাতে দুই পক্ষকে দ্রুত এক টেবিলে বসিয়ে ঐক্য পুনঃস্থাপন করতে হবে। অন্যথায় বিভাজন আরও গভীর হবে এবং এর দায় শীর্ষ নেতৃত্বকেই বহন করতে হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]