নিজস্ব প্রতিবেদক
২০১৯ সালে হামলা চালাতে গিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে ভূপাতিত হয়েছিল ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন বর্তমানের যুদ্ধবিমান। এরপর তাকে আটক করেছিল পাকিস্তানি সেনারা। সেই ঘটনার তিনদিনের মাথায় মুক্তি পাওয়া অভিনন্দন এবার যুদ্ধবিমান ছেড়ে যাত্রীবাহী বিমান চালাবেন। ভারতীয় বিমানবাহিনী থেকে আগাম অবসর নিয়ে তিনি বেসরকারি এয়ারলাইনস ফ্লাই৯১-এ বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানে হামলা চালাতে গিয়ে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর আটক হওয়া পাইলট অভিনন্দন বর্তমান ভারতীয় বিমানবাহিনী থেকে আগাম অবসর নিয়ে বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে নতুন করে বিমান চলাচল ক্যারিয়ার শুরু করেছেন। একটি বেসরকারি বিমান সংস্থায় চাকরি শুরু করতে তিনি বিমানবাহিনীর চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অবসর নিয়েছেন।
দীর্ঘ ২২ বছর বিমানবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন অভিনন্দন। কিন্তু ২০১৯ সালে পাকিস্তানের হাতে ধরা পড়ার পর ব্যাপক আলোচনায় আসেন।
পিটিআই জানিয়েছে, অভিনন্দন গোয়াভিত্তিক আঞ্চলিক এয়ারলাইন ফ্লাই৯১-এ গত আগস্টে একজন সাধারণ পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
অভিনন্দন নিজে এ ব্যাপারে এখন কিছু বলেননি। ফ্লাই৯১-এর মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল পিটিআই। তবে তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি।
এয়ারলাইনটির এক মুখপাত্র বলেন, নিজেদের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করেন না তারা।
২০২৪ এর মার্চ থেকে ফ্লাই৯১ তাদের যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এটিআর ৭২-৬০০ মডেলের ছয়টি বিমান দিয়ে নিজেদের কার্যক্রম চালাচ্ছে তারা।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতশাসিত কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৪২ জন জওয়ান নিহত হন। ভারত এই ঘটনায় পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠনকে দায়ী করে।
পুলওয়ামা হামলার জবাব দিতেই পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে হামলা চালায় ভারত। ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হামলায় অন্তত ৩০০ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তান জানায়, হামলায় কিছু গাছের ক্ষতি হওয়া ছাড়া কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
মূলত পুলওয়ামায় হামলার ১২ দিনের মাথায় মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে আকাশপথে পাকিস্তানের বালাকোটে হামলা চালায় ভারতীয় বিমান বাহিনী। এরপর আকাশপথে ভারতকে আক্রমণ করে পাকিস্তান। ভারতীয় যুদ্ধবিমানকে ধাওয়া করে পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমান সেটি গুলি করে ভূপাতিত করে এবং ভারতীয় বিমানটির পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে বন্দী করে। ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করা দুই পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার নোমান আলী খান এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন ফাহিম আহমেদ খান। এর মধ্যে উইং কমান্ডার নোমান আলী খানকে সিতারা-ই-জুরাত (বীরত্বের তারকা) এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন ফাহিম আহমেদ খান ও স্কয়ার লেডার হাসান মাহমুদ সিদ্দিকীকে তমঘা-ই-জুরাত (বীরত্বের পদক) প্রদান করা হয়েছিল। মূলত ভারতের ‘বালাকোট স্ট্রাইক’-এর জবাবে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পাল্টা হামলা পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত ভারত ও পাকিস্তানকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছিল। মূলত ভারতীয় সামরিক বিমান পাকিস্তানশাসিত আজাদ কাশ্মিরের মুজাফফরাবাদ সেক্টরের কাছে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) লঙ্ঘন করার পরই এই সংঘাত হয়েছিল।
ওই বছরের শেষ দিকে অভিনন্দনকে ভারত সরকার বীরচক্র পুরস্কারে ভূষিত করে। যা যুদ্ধকালীন সময়ে সামরিক দক্ষতার জন্য ভারতের দেওয়া তৃতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার।