আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সার নিয়ে নাটকীয়তা শেষ হচ্ছে না। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার একটি ইটভাটা থেকে ১৬ বস্তা ইউরিয়াসহ ২৩ বস্তা সার উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে সার সংকটের অভিযোগ তুলে সারের দাবিতে ফের শোরগোল শুরু করেন স্থানীয় কৃষকরা।
সারের দাবিতে কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কে জড়ো হয়ে অবরোধ করার চেষ্টা করেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিয়ে মাইকে ঘোষণা দেন। কৃষকদেরকে লাইনে দাঁড়িয়ে সার কেনার অনুরোধ জানান। বিতরণ শুরু হলে কৃষকরা লাইনে দাঁড়িয়ে সার নেওয়া শুরু করেন।
সার নিতে আসা কয়েকজন কৃষক জানান, সকালে ডিলার পয়েন্ট থেকে সার বিক্রি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তাতে দেরি হচ্ছিল। এর মধ্যে অনেক কৃষক ডিলার পয়েন্টে এসে অপেক্ষা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সার সংকটের আশঙ্কায় তারা সড়কে দাঁড়িয়ে শোরগোল শুরু করেন। এ সময় স্থল বন্দরগামী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ইউএনও এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডিলার পয়েন্ট থেকে সুষ্ঠুভাবে সার বিক্রির ব্যবস্থা করেন।
সারের জন্য ডিলার পয়েন্টে আসা কৃষকরা বলেন, ‘সারের জন্য আসছি। কিন্তু যে পরিস্থিতি তাতে মনে হচ্ছে সার পাওয়া যাইবো না। কয়েকদিন ধরে ঘুরেও সার পাইতাছি না।’
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, ‘আজ সোনাহাট কলেজমোড় পয়েন্টে সার বিতরণের কথা ছিল না। কিন্তু কৃষকরা ওই ডিলার পয়েন্টে এসে সারের জন্য অপেক্ষা করেন। তারা লাইনে না দাঁড়িয়ে একসঙ্গে হুড়োহুড়ি করে সার নেওয়া চেষ্টা করেন। সড়ক ব্লক করার চেষ্টা করেন। এতে কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই। বর্তমানে সুষ্ঠুভাবে সার বিক্রি চলছে।’
এক প্রশ্নে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ‘উপজেলায় সারের কোনও সংকট নেই। চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সারের সরবরাহ রয়েছে। কৃষকদের উৎকণ্ঠিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাবেন।’
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (দুপুর ১টা) সোনহাট ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ডিলার পয়েন্টসহ ক্যাম্প মোড় ডিলার পয়েন্টে কৃষকরা সুষ্ঠুভাবে সার ক্রয় করছিলেন।