১৫ বছরেও হয়নি ডা'ম্পিং স্টেশন প্রবেশপথে ম'য়লার ভা'গাড়, ঝূঁ'কিতে জনর্স্বস্থ্য ও পরিবেশ

আপলোড সময় : ০১-০৯-২০২৬ ১২:৩৭:০৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-০৯-২০২৬ ১২:৩৯:৪৪ অপরাহ্ন
আব্দুল্লাহ আল নোমান ময়মনসিংহ ( ঈশ্বরগঞ্জ) প্রতিনিধি


১২.৪১ বর্গ কি. মি আয়তনে মোট ৯ টি ওয়ার্ড নিয়ে ১৯৯৭ সালে গঠিত ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা টির বর্তমান জনসংখ্যা ৬৫ হাজার ৬ শত ৭৫ জন । যা প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হিসাবে মর্যাদা লাভ করে ২০১১সালে । প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা লাভের ১৫ বছর পরও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ডাম্পিং স্টেশন বা আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় কাঁচামাটিয়া নদীর তীর ও ময়মনসিংহ- কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক যা অত্র পৌর- বাজারে প্রবেশের অন্যতম একটি প্রবেশপথ । যার পাশ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ময়লার ভাগার। যেখানে বিভিন্ন বাসাবাড়ি, হোটেল এবং দোকান পাটের নানা ধরনের বর্জ্য প্রতিদিন'ই ফেলা হচ্ছে। প্রতিদিনের কাজের তাগিদে যে প্রবেশ পথ (ভাগাড়ের) পাশ হয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন ইউনিয়নের লোকজনসহ পৌরসভায় অবস্থিত বিভিন্ন স্কুল, কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের হাজারো মানুষ শহরে প্রবেশ করে থাকে । এ ছাড়াও ভাগারের আশপাশ এলাকায়


রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, একাধিক সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের শাখা সহ ছোট ছোট নানা ধরনের অনেক ব্যাবসা। ফলে ময়লার ভাগাড় থেকে ভেসে আসা উৎকট দূরগন্ধে একদিকে যেমন পরিবেশ বিপর্যয় ঘটেছে অন্যদিকে হুমকিতে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। বাড়ছে শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্ট সহ মশাবাহিত রোগ। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাঁচামাটিয়া নদীর তীর ও পৌরবাজারের অন্যতম প্রবেশপথ ময়মনসিংহ - কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশেই পচনশীল ও অপচনশীল নানা ধরনের বর্জ্যে ভাগারে পরিনত হয়েছে। যে ভাগার থেকে ময়লা মূল সড়কের উপড়ের অংশেও ছড়িয়ে রয়েছে । যাথেকে আশপাশ এলেকায় ছড়িয়ে পড়েছে উৎকট দূরগন্ধ । উৎকট এ দূর্গন্ধ থেকে বাঁচতে পথচারিগণ নাকে- মুখে হাত চেপে ধরে দ্রুত ভাঁগারের স্থান ত্যাগ করছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। প্রতিবেদনটি লেখার সময় মহাসড়কের উপড়ে ছড়িয়ে থাকা ময়লা সরিয়ে নেওয়া সহ প্রতিদিনের ময়লা নদীর তীরে ফেলা হচ্ছে। ময়মনসিংহ -কিশোরগঞ্জ পাশের ভাগাড় এলাকার পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ী আক্কাস আলী বলেন, দিনের অধিকাংশ সময় ভাগার থেকে ভেসে আসা দুর্গন্ধে বসে থাকাটাই অনেক কষ্টকর হয়ে যায়। অনেক সময় ক্রেতা চলে যায়।


বিক্রি কমেছে, বাড়ছে আর্থিক ক্ষতি। ষার্ট উর্ধ্ব ইসব আলী বলেন , পুরো বাজারের পচা-ময়লা গাড়ি ভর্তি করে রাস্তার পাশে ফেলে যায় এবং শুকনো ময়লায় কে জানি আগুন ধরিয়ে দেয় তা থেকে মাঝেমধ্যে এমন তিব্র দূরগন্ধে আসে শ্বাসকষ্ট ও কাশিতে এই বুঝি দম যায় অবস্থা।তখন মাঝেমধ্যে দোকান থেকে দূরে চলে যাই। হোসেন আলীও একই কথা বললেন । ময়লার ভাগাড়ের পাশ দিয়ে নাক- মুখ চেপে ধরে আসা পথচারী ,চর হোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বারেক বলেন, শহড়ের বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা এখানে ফেলে স্তপু করায় দূর্গন্ধে বাজারে ঢূকার এ রাস্তাটি দিয়ে প্রবেশ করতে খুব কষ্ঠ হয়ে পড়ে । ময়লার ভাগাড়ের পাশে বুলবুল টাওয়ারের গার্মেন্ট কাপড় ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিন বলেন, ময়লার ভাগাড়ের দূরগন্ধ পেরিয়ে ক্রেতাগণ দোকানে আসতে কষ্ট হয় অনেক সময় গাড়ির নিচে পিষ্ট হওয়া কুকুর ময়লার ভাগাড়ের উপড়ে ফেলে রাখায় দোকানের গ্লাস বন্ধ রাখতে হয়। ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মো.


আব্দুল হান্নান বলেন, প্রথম শ্রেণীর এ পৌরসভাটিতে আমাদের সরকারি কলেজ সহ অনেক সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাকে আমরা শিক্ষা নগরী হিসাবে ধরে নিতে পারি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র -ছাত্রী সহ অসংখ্য মানুষজন মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠা ময়লার ভাগাড়ের পাশ দিয়ে অনেক বিড়ম্বনা নিয়ে চলতে হয় । পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট প্রত্যাশা তারা সরকারি অন্যকোন জায়গায় ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করে জনসাধারণ সহ ছাত্র ছাত্রীদেরকে স্বস্তি ফির দিবে। এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর - প্রশাসক সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ময়লার ভাগাড়টি এখান থেকে সরিয়ে নিতে (হরি শর্রী) এলাকায় সরকারি একটি জায়গায় ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে ,যা বর্তমানে স্থানীয় কিছু লোকের বাঁধার মুখে পড়েছে , আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রর ( আবাসিক সার্জন - রোগ নিয়ন্ত্রণ ) ডঃ তানভিন হাসান তরঙ্গ বলেন, ময়লার দূষিত দূরগন্ধে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, হাঁপানি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট সহ নানা ধরনের রোগ হয়ে থাকে। এ থেকে বেঁচে থাকতে হলে আমাদের প্রয়োজন নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে ,স্থ্যাসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা । সুশাসনের জন্য নাগরিক ( সুজন ) ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, পৌর নাগরিকদের কাছ থেকে ট্যাক্স আদায় করলেও পৌর কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের কে প্রয়োজনমাফিক সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে । শহরের প্রবেশপথে ময়লার ভাগাড়ের ব্যাপারে উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে। ফলে জনভোগান্তি সহ জনস্থেবাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে এ থেকে মুক্তি দিতে যে কোন জায়গায় চাহিদা মোতাবেক জায়গা ক্রয় করে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের সক্ষমতা পৌর কর্তৃপক্ষের রয়েছে। কাজেই পৌর-কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত জায়গা ক্রয় করে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করে এ জনভোগান্তি থেকে মানুষ কে মুক্তি দেওয়া। এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর - প্রশাসক সালাউদ্দিন

বিশ্বাস বলেন, ময়লার ভাগাড়টি এখান থেকে সরিয়ে নিতে (হরি শর্রী) এলাকায় সরকারি একটি জায়গায় ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে ,যা বর্তমানে স্থানীয় কিছু লোকের বাঁধার মুখে পড়েছে , আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]