অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি, তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর বংশাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে মো. সাব্বির হোসেন (২০) নামে এক তরুণ এ জিডি করেন। জিডির ট্র্যাকিং নম্বর 54OPQV এবং জিডি নম্বর ১৫৫৫।
জিডিতে সাব্বির হোসেন অভিযোগ করেন, বেশ কিছুদিন ধরে তার অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত ছবি ও বিভিন্ন তথ্য ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি তার ফেসবুক আইডিসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ ও ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডির আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে এ ধরনের সাইবার কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলে ভুক্তভোগীর সন্দেহ। অভিযোগে Elite Cyber, Cyber Zone, Expert Cyber, Global Cyber, Zero Trace ও Darknet Cyber-সহ কয়েকটি নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সরাসরি ঘটনার সঙ্গে জড়িত-এমন কোনো বিষয় এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
ভুক্তভোগী সাব্বির হোসেন জানান, তার কাছে এ-সংক্রান্ত কিছু স্ক্রিনশট, অ্যাকাউন্টের তথ্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ভবিষ্যতে ব্ল্যাকমেইল, প্রতারণা বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জিডিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জিডিটি গ্রহণ করে বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল মিয়াকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাহফুজুল হক বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তাধীন এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হবে।