বুড়িচংয়ে নিলাম ছাড়াই সরকারি স্কুলের লোহার সিঁড়ি ও মালামাল বিক্রির অ'ভিযোগ

আপলোড সময় : ৩০-০৮-২০২৬ ১১:১২:৪৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-০৮-২০২৬ ১১:১৬:১৬ অপরাহ্ন
বুড়িচং কুমিল্লা প্রতিনিধি।।


কুমিল্লার বুড়িচং আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবন নিলামে বিক্রি হলেও ভবনের লোহার সিঁড়ি ও অন্যান্য মালামাল নিলাম বা টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান ও কয়েকজন সহকারী


শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উত্তর-পূর্ব পাশে থাকা পুরোনো দোতলা ‘যমুনা ভবন’ নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হলেও ভবনের লোহার সিঁড়ি ও কিছু মালামাল নিলামের আওতায় ছিল না। পরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষকের যোগসাজশে সিঁড়িটি জসিম নামের এক ব্যক্তির কাছে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সরেজমিনে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাবেক প্রধান শিক্ষক এ কে এম আমিনুল ইসলাম দায়িত্বে থাকাকালে জরাজীর্ণ যমুনা ভবনটি নিলামের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে গত ৭ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে স্থানীয় সোহাগ নামের এক ব্যক্তির সহযোগিতায় কুমিল্লার এক ঠিকাদার ভবনটি নিলামে ক্রয় করেন। তবে


অভিযোগ রয়েছে, ভবনটির লোহার সিঁড়ি ও আরও কিছু মালামাল নিলামের অংশ ছিল না। ভবনটি নিলামে বিক্রির পর সিঁড়িটি কীভাবে এবং কার অনুমতিতে বিক্রি করা হয়েছে-তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক প্রধান শিক্ষক এ কে এম আমিনুল ইসলাম বিদ্যালয় থেকে বিদায় নেওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন মোখলেছুর রহমান। অভিযোগকারীদের দাবি, এরপরই লোহার সিঁড়িসহ অন্যান্য মালামাল বিক্রির ঘটনা ঘটে। তবে অভিযোগ অস্বীকার বা স্বীকার না করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান বলেন, সাবেক প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় থেকে যাওয়ার আগেই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জরাজীর্ণ যমুনা ভবনটি বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু লোহার সিঁড়ি ও অন্যান্য মালামাল কীভাবে বিক্রি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সঠিকভাবে জানেন না। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে আর কোনো মন্তব্য করেননি। সাবেক প্রধান শিক্ষক এ কে এম আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি দায়িত্বে থাকাকালে জরাজীর্ণ দোতলা যমুনা ভবনটি বিক্রি করা হয়েছে। পরে বিদ্যালয়ের সব হিসাব ও অন্যান্য মালামাল ভারপ্রাপ্ত প্রধান


শিক্ষক মোখলেছুর রহমানের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে তিনি চলে যান। তিনি জানান, লোহার সিঁড়িটি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় কেনা হয়েছিল। তবে বর্তমানে সিঁড়িটি কীভাবে বিক্রি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবন কিংবা মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি নিয়ম অনুসরণ করার কথা। কিন্তু লোহার সিঁড়ি ও অন্যান্য মালামাল বিক্রির বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, আমি শুনেছি জরাজীর্ণ ভবনটি নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। তবে সিঁড়ি ও অন্যান্য মালামাল কী


করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয়টির সভাপতি মোঃ তানভীর হোসেন বলেন, জরাজীর্ণ দোতলা ভবনটি নিলামে বিক্রির বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। তবে লোহার সিঁড়ি বিক্রির বিষয়ে তাকে জানানো হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]