ছাতিয়ানগ্রাম মাজার থেকে‘গুরুত্বপূর্ণ পাথর’নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ,জানে না থানা-পাশ্ববর্তী বিজিবি-

আপলোড সময় : ২৯-০৮-২০২৬ ০১:০৭:১৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-০৮-২০২৬ ০১:০৭:১৩ অপরাহ্ন
আদমদীঘী (বগুড়া) প্রতিনিধি- বগুড়ার আদমদীঘী উপজেলার ছাতিয়ান গ্রাম ইউনিয়নের বাজারসংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী ছাতিয়ান গ্রাম গাজী পাতলা পীরের মাজার শরীফ থেকে গভীর রাতে মাজারের গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করা কয়েকটি পাথরের নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ২৫ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে বিজিবি সদস্যরা পোশাক পরিহিত তিনটি পিকআপ ও চারটি মোটরসাইকেলে সিভিলে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে মাজার এলাকায় এসে এসব পাথর নিয়ে যান।ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হলেও বিষয়টি সম্পর্কে আদমদীঘী থানা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট বিজিবি ইউনিটের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয় ও একাধিক সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের কয়েকজনের দাবি, ওই রাতে বিজিবি সদস্য পরিচয়ে একটি দল মাজারে অভিযান পরিচালনার মতো করে প্রবেশ করে। তারা মাজারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পাথর নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা নৈশপ্রহরী ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের লোকজন ওই সময় ঘটনাস্থলে যেতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়। চুরি নাকি নিয়মিত অভিযান’প্রশ্ন স্থানীয়দের মাজার থেকে পাথরগুলো নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। কেউ কেউ ঘটনাটিকে চুরি বলে সন্দেহ করছেন, আবার অনেকে বলছেন—কোনো সরকারি সংস্থা যদি আইনগত বা প্রশাসনিক কারণে এসব জিনিস নিয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে তার লিখিত আদেশ, জব্দ তালিকা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার প্রক্রিয়া থাকার কথা। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাজারের ঐতিহ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এসব পাথর দীর্ঘদিন ধরে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম বিষয় ছিল। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষ মাজারে এসে এসব নিদর্শন দেখতেন। হঠাৎ করে সেগুলো না থাকায় মাজারের ঐতিহ্য ও দর্শনার্থী আকর্ষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত না হলে প্রকৃত ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বাড়বে। সরকারি কোনো সংস্থা যদি আইনগতভাবে এসব নিদর্শন নিয়ে থাকে, তাহলে মাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি পরিষ্কার করা প্রয়োজন। দর্শনার্থী কমলে ক্ষতির আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের,মাজারকে কেন্দ্র করে ছাতিয়ান গ্রাম বাজারে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দোকানপাট ও ছোট ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা মাজারে আসার কারণে বাজারের দোকানগুলোতেও কেনাবেচা বাড়ে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি। তাদের আশঙ্কা, মাজারের ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনগুলো না থাকলে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের আগ্রহ কমতে পারে। এতে মাজারের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। অন্যদিকে, ওই রাতে ছাতিয়ান গ্রাম বাজার এলাকায় দায়িত্বে থাকা পুলিশের এসআই আনিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। মাজার কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি—ঘটনাটি নিয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। সত্যিই কোনো সরকারি সংস্থা অভিযান চালিয়ে থাকলে, কার নির্দেশে এবং কী আইনগত প্রক্রিয়ায় মাজারের পাথর বা নিদর্শনগুলো নেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। আর যদি কোনো সরকারি অভিযান বা জব্দের ঘটনা না ঘটে থাকে, তাহলে রাতের আঁধারে কারা মাজারে প্রবেশ করে এসব গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন নিয়ে গেছে, সেটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। ঘটনার সত্যতা ও প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মাজার কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট বিজিবি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে আদমদিঘী থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া বলেন বিষয়টি তদন্তধীন রয়েছে দ্রুত প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে জয়পুরহাট বিজিবি ব্যাটেলিয়নের এক কর্মকর্তা ব'লেন আমাদের ইউনিট উল্লেখিত বিষয়ে কোন অভিযান পরিচালনা করেনি। এ বিষয়ে নওগাঁ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের সাথে যোগাযোগ করলে তারা-ও অভিযান সম্পর্কে অবগত নই বলে জানান।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]