'এস-৪০০ এর ভ'য়ে ভা'র'তে গু'প্ত'চ'র' ও স্লি'পা'র সে'ল সক্রিয় করেছিল পাকিস্তান'

আপলোড সময় : ২৮-০৮-২০২৬ ১১:৩৫:২০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৮-০৮-২০২৬ ১১:৩৫:২০ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
অপারেশন সিঁদুরের সময় রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভারতের সীমান্তের ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে আসতে পারেনি বলে দাবি করেছেন ভারতের অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র। তার দাবি, এস-৪০০ এর অবস্থান জানতে পাকিস্তান ভারতের ভেতরে থাকা ‘গুপ্তচর’ ও ‘স্লিপার সেল’ সক্রিয় করেছিল।

 

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিতেন্দ্র মিশ্র বলেন, পাকিস্তান এস-৪০০-এর অবস্থান শনাক্ত করতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করেছিল। এ কাজে তারা অন্য দেশগুলোর কাছ থেকেও স্যাটেলাইট সহায়তা পেয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে কোন কোন দেশ এ সহায়তা দিয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

 

এর আগে ভারতের ডেপুটি চিফ অব আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং দাবি করেছিলেন, চীন পাকিস্তানকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে রিয়েল-টাইম তথ্য দিচ্ছিল।

জিতেন্দ্র মিশ্রের ভাষ্য, অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি ছিল এস-৪০০। তিনি বলেন, পাকিস্তান যখনই আকাশপথে এগিয়েছে, এস-৪০০ তা প্রতিহত করেছে এবং এই ব্যবস্থা কোথায় মোতায়েন করা হয়েছে, তা জানতে পাকিস্তান ভারতের অভ্যন্তরে থাকা গুপ্তচর ও স্লিপার সেল সক্রিয় করেছিল।

 

তবে মিশ্রের এই দাবির সঙ্গে অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের বিষয়ে প্রকাশ্যে থাকা তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে। ওই অভিযানে ভারত পাকিস্তানের কোনো যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে—এমন স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভারতও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করেনি।

 

রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ একটি মোবাইল ও দীর্ঘপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় একাধিক স্তরের প্রতিরক্ষা বলয় তৈরির জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। ভারতীয় পরিসরে এই ব্যবস্থাকে ‘সুদর্শন চক্র’ নামেও অভিহিত করা হয়।

 

অপারেশন সিঁদুর ২০২৫ সালের ৭-৮ মে রাতে ভারত পরিচালিত সামরিক অভিযান। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ পর্যটক নিহত হওয়ার পর এর জবাব হিসেবে অভিযানটি চালানো হয় বলে ভারত জানায়।

 

সাক্ষাৎকারে জিতেন্দ্র মিশ্র দাবি করেন, ওই অভিযানে ভারতীয় সামরিক বাহিনীকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। তবে বেসামরিক মানুষের হতাহত এড়ানোর বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা ছিল। তার ভাষ্য, হামলার লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগী বা নির্দেশদাতারা; সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করা ভারতের উদ্দেশ্য ছিল না।

 

তিনি আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের যেকোনো স্থানে হামলা চালানোর সক্ষমতা ভারতের ছিল এবং পাকিস্তানের তা প্রতিহত করার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না।

 

এস-৪০০ ব্যবহারের সক্ষমতা নিয়ে মিশ্র আরও একটি বড় দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, একজন এস-৪০০ অপারেটর গুলি চালানোর অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দেন। এরপর ৩১৪ কিলোমিটার দূরত্বে একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। মিশ্রের মতে, এটি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ দূরত্বের সফল ‘সারফেস-টু-এয়ার কিল’।

২০১৮ সালে ভারত ও রাশিয়া পাঁচটি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার জন্য ৫ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করে।

 

 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]