বাবার ম'র'দে'হ নিয়ে মা'রা'মা'রি'র দুদিন পরই বৃদ্ধা মাকে বাড়িছা'ড়া করল ছেলেরা

আপলোড সময় : ২৬-০৮-২০২৬ ০৮:০৯:১১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-০৮-২০২৬ ০৮:১১:৪১ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের কেশবপুরে বাবার মরদেহ সামনে রেখে জমি নিয়ে সংঘর্ষে জড়ানো সেই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে এবার তাদের সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও উপযুক্ত ভরণপোষণের দাবিতে বুধবার (২৬ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে দুই ছেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মা নুরজাহান বেগম (৭০)। বর্তমানে তিনি পৈতৃক ভিটা ছেড়ে উপজেলার ব্যাসডাঙ্গা গ্রামে মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

 

ইউএনও বরাবর দেওয়া অভিযোগে নুরজাহান বেগম উল্লেখ করেন, ছেলেরা তার কোনো ভরণপোষণ দিচ্ছেন না এবং প্রতিনিয়ত দুর্ব্যবহার করছেন। এমনকি তার প্রয়াত স্বামীর দাফনকাজেও ছেলেরা চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল। বৃদ্ধ বয়সে ছেলেদের এমন অমানবিক আচরণের শিকার হয়ে তিনি ন্যায়বিচারের পাশাপাশি দুই ছেলে ও তাদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। নুরজাহান বেগম জানান, জীবনের শেষ সময়ে এসে ছেলেদের দায়িত্বহীনতায় তিনি আজ পুরোপুরি আশ্রয়হীন ও চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাবার মৃত্যুর পর সংঘর্ষে আহত ছোট ছেলে আসাবুল ও তার স্ত্রী হালিমা খাতুন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেই বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। নিরুপায় হয়ে নুরজাহান বেগম মেয়ে তাসলিমার আশ্রয়ে চলে যান। তাসলিমা জানান, ভাইয়েরা মাকে বাড়িছাড়া করলেও তিনি তার মাকে ফেলতে পারবেন না এবং ভাইয়েরা দায়িত্ব না নিলে শেষ পর্যন্ত তিনিই মায়ের সব দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করবেন।

 

অভিযোগের বিষয়ে সন্ন্যাসগাছা গ্রামে ছোট ছেলে আসাবুলের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি এবং তার মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। তবে আসাবুলের ছেলে আল আমিন দাবি করেছেন, তার দাদি ক্ষোভের বশে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন এবং তাকে বুঝিয়ে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বড় ছেলে মাহবুবুর রহমান জানান, মা ছোট ভাইয়ের সঙ্গে এবং বাবা তার সঙ্গে থাকতেন। মায়ের দায়িত্ব দুই ভাইয়েরই যৌথভাবে নেওয়া উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, ছোট ভাই দায়িত্ব এড়িয়ে গেলেও তিনি নিজে মায়ের আজীবন ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবেন।

 

এর আগে গত সোমবার ভোরে সন্ন্যাসগাছা গ্রামের বাসিন্দা খালেক মান (৭৫) মারা গেলে তার মরদেহ বাড়িতে রেখেই পারিবারিক কবরস্থান ও জমির ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন বড় ছেলে মাহবুবুর রহমান (৫২) ও ছোট ছেলে আসাবুল (৪২)। এতে দুই পক্ষের চারজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং বাবার দাফনকাজ আটকে যায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে দাফন সম্পন্ন হয়েছিল।

 

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করা হয়েছে এবং নির্যাতিত এই অসহায় মাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।


 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]