নিজস্ব প্রতিবেদক
টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ার হাতছানি ছিল আর্জেন্টিনার সামনে। কিন্তু ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে লড়াই তো জমেনিই, উল্টো একাধিক শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় বড় শাস্তির মুখে পড়েছেন কাতার আসরের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। টুর্নামেন্টজুড়ে আগ্রাসী আচরণের দায়ে আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলারসহ এক কোচকেও বড় মেয়াদের নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর মারামারির জন্য আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসকে ১০ ম্যাচ, নাহুয়েল মোলিনাকে ৭ ম্যাচ ও থিয়াগো আলমাদাকে এক ম্যাচ এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অন্যদিকে, স্পেনের পাবলো গাভিকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।
টুর্নামেন্ট জুড়ে ‘বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি’ এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের পতাকা প্রদর্শনের জন্য আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) শাস্তি দিয়েছে ফিফা। সব মিলিয়ে এএফএ–কে ৩ লাখ ২১ হাজার ডলার জরিমানা দিতে হবে (যার মধ্যে ১ লাখ ডলার বর্ণবাদবিরোধী প্রচারাভিযান) এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে তাদের পরবর্তী দুটি হোম বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ ৫০ শতাংশ দর্শক নিয়ে খেলতে হবে।
আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের দেওয়া সবমিলিয়ে ১৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা ‘অতিরঞ্জিত’ বলে মনে করছেন সাবেক তারকা মিডফিল্ডার আনহেল ডি মারিয়া। ফিফার কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রধান শিকার পারেদেস এবং মোলিনার পক্ষ সমর্থন করেছেন তিনি। ২০২২ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই তারকার মতে, ‘এমনটা (শাস্তি প্রদান) হতেই পারে, কারণ শেষ পর্যন্ত তারা শারিরীক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল, কিন্তু পুরো বিষয়টিকে বেশ অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে।’
আর্জেন্টাইন ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালের অধিনায়কত্ব করছেন ডি মারিয়া। তালেরেসের সঙ্গে তার দলের ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে তিনি জোড়া গোল করেছেন। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে এল ফিদেও বলেন, ‘আমি সবসময় তার (পারেদেসের) সঙ্গে কথা বলি। এটা (শাস্তির মাত্রা) একটা অতিরঞ্জন। যার পরিমাণ নিশ্চিতভাবেই আরও অনেক কম হবে, শুধু তার জন্যই নয়, নাহুয়েলের জন্যও।’
অন্যদিকে, শাস্তির ঘটনায় টিওয়াইসি স্পোর্টস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আপিল করার কথা জানিয়েছেন এএফএ’র আইনি উপদেষ্টা আন্দ্রেস প্যাটন উরিচ, ‘আলমাদার নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না এবং নিষেধাজ্ঞাগুলো স্পষ্টতই মাত্রাতিরিক্ত ছিল। এরকম ঘটনা আছে। আপনি যদি লিয়েন্দ্রোর নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে ২০১৪ সালে লুইস সুয়ারেজের নিষেধাজ্ঞার তুলনা করেন, যিনি একজন প্রতিপক্ষকে কামড়ানোর জন্য ৯ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন, অথবা একজন ইউরোপীয় খেলোয়াড়ের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে, যিনি (ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার জসিপ শিমুনিচ) নাৎসি প্রতীক ব্যবহার করার জন্য ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন।’
‘আমাদের মতে, এমন অনেক শাস্তি আছে যা আরও গুরুতর এবং সেগুলোর জন্য একই সংখ্যক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আমরা ভিডিওগুলো ফ্রেম বাই ফ্রেম দেখেছি এবং আমাদের বিশ্বাস নিষেধাজ্ঞার মাত্রা আরও কম হওয়া উচিত ছিল’, আরও যোগ করেন তিনি।