ব্ল্যা'ক'মে'ই'লে'র ফাঁ'দ থেকে বাঁচতে মিমিকে হ'ত্যা করেন কাউসার

আপলোড সময় : ২৫-০৮-২০২৬ ০৬:৩৬:৩০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৫-০৮-২০২৬ ০৬:৩৬:৩০ অপরাহ্ন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক
জামালপুর শহরে জানালা দিয়ে দুই শিশুর ‘পানি পানি’ বলে চিৎকারের পর তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে উদ্ধার হওয়া ইশরাত জাহান মিমি (৩০) হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় মিমির কথিত প্রেমিক ব্ল্যাকমেইলের শিকার কাউসার আহমেদ খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

পিবিআইয়ের দাবি, দীর্ঘদিনের অনৈতিক সম্পর্ক, সেই সম্পর্কের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মিমিকে গলা টিপে হত্যা করেন কাউসার। পিবিআইয়ের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

 

কাউসার শহরের মনিরাজপুর এলাকার রফিক খানের ছেলে।

 

মঙ্গলবার দুপুরে জামালপুর পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত। 

 

পরিচয় থেকে অনৈতিক সম্পর্ক

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, প্রায় তিন বছর আগে মনিরাজপুরের রাফি স্টোরে কেনাকাটার সূত্রে মিমির সঙ্গে কাউসারের পরিচয় হয়। পরে মিমি বিভিন্ন কৌশলে তাকে বাসায় ডেকে নেন এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত গোপনে ভিডিও ধারণ করে মিমি কাউসারকে ব্ল্যাকমেইল করতেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন কাউসার।

 

পুলিশের ভাষ্য, মিমিকে নিয়মিত টাকা দিতে দিতে একপর্যায়ে কাউসারের নিজের সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়। এমনকি জমিজমা এবং মা ও স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রি করেও তাকে টাকা দিতে বাধ্য হন কাউসার। তার দেওয়া অর্থে মিমি বিলাসী জীবনযাপন করতেন বলে কাউসারের জবানবন্দির বরাত দিয়ে জানিয়েছে পিবিআই।

 

পিবিআই আরো জানায়, মিমি ইয়াবা সেবন করতেন এবং একপর্যায়ে কাউসারকেও ইয়াবা সেবনে জড়িয়ে ফেলেন। মিমি বিত্তশালী ব্যক্তিকে ব্ল্যাকমেইলের জন্য টার্গেট করতেন এবং তাদের ফাঁদে ফেলতে কাউসারকে চাপ দিতেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধ আরো বাড়তে থাকে।

 

যেভাবে হত্যাকাণ্ড

পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ফোন করে কাউসারকে তার ভাড়া বাসায় ডেকে নেন মিমি। সেখানে টাকা চাওয়া নিয়ে দুইজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মিমি কাউসারের স্ত্রীকে ফোন করে তাদের অনৈতিক সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

 

পরে কাউসারের স্ত্রীকে ফোনে কথা বলিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুইজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে কাউসার ক্ষিপ্ত হয়ে মিমির গলা চেপে ধরলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর কাউসার ফ্ল্যাটে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান বলে জানায় পিবিআই।

 

পরদিন ২৩ আগস্ট সকালে রেলগেটসংলগ্ন ভবনের পঞ্চম তলার একটি কক্ষ থেকে মিমির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল এবং একই কক্ষে আটকে থাকা মিমির দুই শিশুসন্তানকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

 

এ ঘটনায় মিমির মা মুক্তা বেগম বাদী হয়ে কাউসারসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি করে জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

 

মঙ্গলবার বিকেলে মিমি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার কাউসার আহমেদকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে শাওনের সঙ্গে মিমির বিয়ে হয় এবং তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ২০২১ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে জামালপুর শহরে বসবাস করছিলেন মিমি।


 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]