নিজস্ব প্রতিবেদক
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নে ফাজেল নামের এক ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়াকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব হোসেনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় রাকিবের বাবা শাহিন ও মা রহিমা বিবিকে মারধর করা হয়। বর্তমানে তাঁরা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় আলমপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান পুটুর বিরুদ্ধে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী রাকিব হোসেনের বাবা শাহিন ও মা রহিমা বিবি উপজেলার দক্ষিণ বস্তা বাসতা গ্রামের বাসিন্দা।
এদিকে, গত ২৪ আগস্ট রাত ১১টায় বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরুল কায়েস স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয় এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আলমপুর ইউনিয়নের নলপুকুর গুচ্ছগ্রামের ফাজেল নামের এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলসহ নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় রাকিব হোসেনের কাছে ফাজেলের স্ত্রী মোবাইলে সহযোগিতা চাইলে তাকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন রাকিব। পরবর্তীতে গত ২৩ আগস্ট দুপুরে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাজেলকে মোটরসাইকেলসহ উদ্ধার করে বলে জানা গেছে।
এরপর ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্দেহের জেরে ২৩ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বস্তা বাসতা গ্রামে রাকিবের বাড়িতে খলিলুর রহমান পুটুর নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন লোক হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা রাকিবের বাবা-মাকে মারধর করে এবং তার ছোট ভাইয়ের একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে রাকিব হোসেন বলেন,আমাদের এলাকার ফাজেল নামের একজন ব্যক্তি নিখোঁজ হলে তার স্ত্রী আমাকে ফোন করে পরামর্শ চান। আমি শুধু বলেছি, স্বামী নিখোঁজ হয়েছে, আইনের আশ্রয় নেন। এ কথা বলার কারণেই খলিলুর রহমান পুটুর নেতৃত্বে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমার বাবা-মাকে মারধর করা হয়েছে। আমার ছোট ভাইয়ের একটি মোবাইল ফোনও নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা আমার বাবা-মাকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আমার বাবা-মা চিকিৎসাধীন। চিকিৎসা শেষে থানায় গিয়ে এজাহার দাখিল করব।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান পুটু তিনি বলেন, আমার নিজ গ্রাম বাসতা এবং রাকিবের বাড়িও একই গ্রামে। প্রথমে রাকিব আমার গায়ে হাত তোলে; আমি বা আমার কোনো লোক তাদের ওপর হামলা করিনি। বরং তারাই আমাদের ওপর হামলা করলে আমরা তা প্রতিহত করেছি। এখানে একটু হট্টগোল হয়েছে। তারা নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি করে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জয়পুরহাট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ বলেন, রাকিবের বাবা-মায়ের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা করা হয়ে থাকলে হামলাকারী যে-ই হোক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রদল শাখার পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার ওসি মুক্তারুল আলম জানান, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।