বদরগঞ্জে সারের জন্য কৃষকদের হ'য়রানি চলছেই, চার পাচ ঘন্টা ধরে স অপেক্ষা করে সার মিলছে

আপলোড সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ০৯:৩৬:২১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ০৯:৩৮:৩১ অপরাহ্ন
রানা ইসলাম বদরগঞ্জ রংপুর


রংপুরের বদরগঞ্জে সারের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে আছেন কৃষকেরা, কিন্তু ডিলাররা সময়মতো বিক্রয়কেন্দ্রই খোলেননি। রোববার সোমবার দুপুরে অনেক পরে বদরগঞ্জ বিভিন্ন এলাকায় সারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন কৃষকেরা, কিন্তু ডিলাররা বিক্রয়কেন্দ্রই খোলেননি। আমনের ভরা মৌসুমে সারের জন্য একের পর এক হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকেরা। সারের জন্য ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রে


গিয়ে কৃষকেরা অপেক্ষা করছেন, কিন্তু বিক্রয়কেন্দ্র খোলার লোক নেই। এ অবস্থায় কৃষকেরা এক ডিলারের কাছ থেকে আরেক ডিলারের কাছে ছুটছেন। এদিকে সার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে অনেকে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। রবিবার দুপুর তিনটা উপজেলা কুতুবপুর ইউনিয়ন কাঠেরপুল এলাকায়



গিয়ে দেখা যায়, সারের নেওয়ার জন্য সকাল ৯ টা থেকে অপেক্ষা করছেন আশিকুর নামে এক কৃষক। তিনি বলেন, বেলা ২টা ৪০ মিনিট এখন পর্যন্ত সারের ডিলার এসে গুদাম খুলেনি। ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ধরে তীব্র রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি এখনো সার পায়নি। নাটারাম বাগমারা গ্রামে কয়েকজন কৃষক বলেন, সাত কিলোমিটার রাস্তা মাড়িয়ে আসলাম এখানে। কিন্তুু বেলা দুইটা, বাজে এখনো সারের গুদাম খোলেনি ডিলার। তিনি আরো বলেন, সারা দিন মজুর করে একজন লোক হাজিরা পায় ৬০০- ৭০০ টাকা। এখানে সার নিতে এসে দিন শেষ হয়ে যায়। অজবোল্লা গ্রামের আকবর আলী, ডিলারে বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন। তিনি আরো বলেন, চার পাঁচ ঘন্টা রোদ ও গরমের মধ্যে অপেক্ষা করে এক বস্তা ইউরিয়া পাইলাম। আকবর আলি ডিলার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, পাইকারি ব্যাবসায়ী কাছে তারা সার বিক্রি করছেন। অভিযোগ বিষয়ে

ডিলার শাহনেওয়াজ আলী বলেন, তাদের অভিযোগ সত্যি নয়। সার বিতরণ আগে কৃষি অফিসে যেয়ে এরোভেল কিছু থাকে এজন্য একটু সময় লাগে। তিনি আরো বলেন, সার কোন ব্যবসায়ী কাছে বিক্রি করা অসত্য কথা। আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়ন কালামেরতল এলাকার বিসিআইসির সার ডিলার রাজিয়া সুলতানা সার বিক্রয়কেন্দ্র ‘গেলে একদল কৃষক অভিযোগ করেন। আবিয়া বেগম নামে এক কৃষক বলেন, আমি সকাল ৯ টার দিকে সার নিতে এসেছি। এখনো সার পায়নি। আমার পরে অনেকে এসে দুইবার তিনবার করে নিয়ে যাচ্ছে। এখানে দেখার কেউ নেই। বৈরামপুর গ্রামের আসকর আলী একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, অন্য ইউনিয়ন লোক এসে সার নিয়ে যাচ্ছে। ডিলার সুলতানা রাজিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কে প্রকৃত কৃষক চেনা যাচ্ছে না। তাই এমনটা হচ্ছে। আগামীকাল থেকে ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে সার দেওয়া হবে।। সার নিতে আসা লোহানীপাড়ার ইউনিয়ন কাঁচাবাড়ি এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রফিক মিয়া বলেন, রোদ গরম উপেক্ষা করে সার নিতে এসেছি মন্ডলে হাট শান্তি সার বিক্রয় কেন্দ্রে। এখানে এসে দেখি দীর্ঘ লাইন। বেলা ১১ টায় তার গুদাম খোলে সার বিক্রি শুরু করছে। এখানে ঠাসাঠাসি করে সার নিতে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পৌরশহরে মিতা রোডে কৃষক উজ্জ্বল মিয়া বলেন, এবার ১১ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত এক ছটাক সারও দিতে পারেননি। এই ডিলারের দোকানে তিন দিন ঘুরে গেছেন, কিন্তু দোকান খোলা পাননি। আজও সার না পেয়ে খালি হাতে ফিরেছেন। একই বিক্রয়কেন্দ্রে সার নিতে এসেছিলেন সাহাপুর ১ নং ওয়ার্ডে গ্রামের কৃষক আয়নাল হক তিনি চার বিঘা জমিতে কোনো সার দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ডিলারের কাছ থেকে সার নেন, কিন্তু এবার তিনি সার দিতে পারছেন না। এখানে এসেও পেলেন না।


এ বিষয়ে ডিলার মাহফিজুল মুঠোফোনে কল দিলে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। বদরগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকতা সেলিনা আফরোজ বলেন, এমনটা হওয়ার কথা নয়।খোঁজ নিয়ে যদি অভিযোগ সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে ডিলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]