চারটি দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে দুর্বৃত্তদের হামলার হুমকি ও চাঁদা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকা গুলশান ও বারিধারায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। দূতাবাসগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ডিবি জানিয়েছে, ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাস ও সরকারি দপ্তরে ই-মেইল পাঠিয়ে চাঁদা দাবির ঘটনাটি একটি ভুয়া গ্রুপের কাজ। সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যেই এ কাজ করা হয়েছে। হুমকি আসার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা দূতাবাসগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। এ হুমকিতে দূতাবাসের প্রতিনিধিদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ই-মেইলে হুমকির ঘটনায় গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা লিখিত অভিযোগ করেনি কোনো দূতাবাস।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে গতকাল রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
তিনি আরো জানান, ইন্টারনেটের মাধ্যমে গ্রুপটি কাজ করছে। এটি একটি ভুয়া গ্রুপ। ই-মেইলে যেসব বিকাশ নম্বর দেওয়া হয়েছে, তার সূত্র ধরে তিন-চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল। কিন্তু তারা কিছুই জানেন না। এ ব্যাপারে তাদের কোনো ধারণাই নেই।
কতটি দূতাবাসে হুমকি দেওয়া হয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান বলেন, তিন-চারটি দূতাবাসের পাশাপাশি সরকারি কয়েকটি দপ্তরেও এমন ই-মেইল পাঠানো হয়েছে।
এটি নিছক হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি-না-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আমাদের ধারণা, এটি পূর্বশত্রুতা বা দেশের ভাবমূর্তি (ইমেজ) নষ্ট করার জন্য করা হয়েছে। সরকারকে বিব্রত করার জন্যও এটি করা হতে পারে। বিষয়টি তদন্তে আমাদের টিম মাঠে কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা আশাবাদী, দ্রুত এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করব। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব।
কূটনৈতিক জোনের নিরাপত্তা জোরদার
বিদেশি দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে হুমকির ঘটনায় পুরো কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। বারিধারা ও গুলশানে অবস্থিত দূতাবাসগুলোয় নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একাধিক স্থানে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএমপির ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি বিভাগের এডিসি আবু খায়ের জানান, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। হুমকির বিষয়ে থানায় জিডি বা লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।
তিনি আরো জানান, চেকপোস্ট, টহল এবং দূতাবাসের সামনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি কুইক রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তদন্ত করছে ডিবি ও সিটিটিসি
এদিকে, হামলার হুমকি আসার পর হুমকিদাতাদের চিহ্নিত করতে মাঠে কাজ করছে ডিএমপির ডিবি ও সিটিটিসি ইউনিট। এই হুমকি বিদেশ থেকে আসছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে তারা।
ডিবি জানিয়েছে, এ হুমকিতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যারা হুমকি দিয়েছে, তাদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ই-মেইলের মাধ্যমে দুর্বৃত্তরা চীন, তুরস্ক, পাকিস্তান ও অন্য একটি দেশের দূতাবাসে হামলার হুমকি দেয়। গ্রুপটি একাধিক সরকারি দপ্তরেও চাঁদা চেয়ে মেইলও পাঠিয়েছে।