অনুমতি ছাড়াই সেচ্ছাসেবক দল নেতা খাল থেকে আয়রন ব্রিজের মালামাল তুলে নেওয়ার চেষ্টা, ব'ন্ধ চার গ্রামের মানুষের যাতায়াত

আপলোড সময় : ২৩-০৮-২০২৬ ০৬:০৩:১৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৮-২০২৬ ০৬:০৬:২৭ অপরাহ্ন
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:


ঝালকাঠির রাজাপুরে দাপ্তরিক কোনো অনুমতি ছাড়াই জনগুরুত্বপূর্ণ একটি আয়রন ব্রিজের লোহার মালামাল তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পথচারীদের চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না করেই ব্রিজটি খুলে ফেলায় প্রায় চার গ্রামের কয়েকশত মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।



গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর তারাবুনিয়া এলাকায় এদবর খালের ওপর থাকা জনগুরুত্বপূর্ণ পুরোনো আয়রন ব্রিজের বীমসহ বিভিন্ন মালামাল তুলে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন সাতুরিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মামুন আকন। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালের ওপর থাকা ওই সেতুটি ব্যবহার করে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে আসছেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে খাল পারাপার হতেন। কিন্তু মানুষের চলাচলের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করেই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়া গোপনে ব্রিজের বীম ও অন্যান্য



মালামাল তুলে নেওয়ার সময় স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে তাকে বাধা দেন। পরে এলজিইডি অফিস থেকে লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রিজের মালামালের তালিকা (সিজার লিস্ট) তৈরি করেন। এরপর উদ্ধার করা মালামাল স্থানীয় গ্রাম পুলিশ হেমায়েতের জিম্মায় দেওয়া হয় বলে জানান স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, সেতুটি পুরোনো হওয়ায় এর কিছু অংশের স্লাব ভেঙে গিয়েছিল। ফলে স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সুপারি গাছ ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতেন। তারপরও সেতুটি ছিল ওই এলাকার মানুষের চলাচলের অন্যতম ও কার্যত একমাত্র মাধ্যম।

কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে সেতুর বীম ও লোহার মালামাল খুলে নেওয়ায় বর্তমানে চার গ্রামের কয়েকশত মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মামুন আকন বলেন, “সেতুর মালামাল তুলেছি, পরিষদে জমা দেওয়ার জন্য। সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাইনুল হায়দার নিপু ও ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ফিরোজা খানমের অনুমতি নিয়ে খাল থেকে আয়রন ব্রিজের বীম ও মালামাল তুলেছি।” মানুষের চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না করে তিনি ব্রিজের বীম ও মালামাল নেওয়ার কে—এমন প্রশ্নের জবাবে মামুন আকন বলেন, “আমি এলাকায় সামাজিক কাজ করি, তাই।” এ বিষয়ে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ফিরোজা খানমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাঈনুল হায়দার নিপু বলেন, “আমি কাউকে ওই ব্রিজের বীমসহ মালামাল তুলে নেওয়ার অনুমতি দেইনি। ব্রিজের মালামাল অন্যত্র নিতে হলে পরিষদে রেজুলেশন করতে হবে। মানুষের চলাচলের জন্য নতুন ব্রিজ কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা করে তারপর মালামাল নিতে হবে। তাও ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি করবে। এখানে মামুন আকনের কোনো অধিকার নেই মালামাল খুলে নেওয়ার।” রাজাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রতন দেবনাথ বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। এসব কাজ দল সমর্থন করে না। এটা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে দল তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।” রাজাপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী এস এম জিয়াউল হক জানান, “মালামাল ওঠানোর আগে আমাদের অনুমতি নেয়নি। আমরা শুনে লোক পাঠিয়ে সিজার লিস্ট করে দিয়েছি। পরে মাল চৌকিদার ইউনিয়ন পরিষদে এনে রেখেছে।


এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি জানান, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। জেনে দেখি। ঘটনা সত্য হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক করতে দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে সেতুটি পুনঃস্থাপন অথবা বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থাপনা অপসারণ বা এর মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও অনুমোদন নিশ্চিত করা জরুরি। তাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। মো. নাঈম হাসান ঈমন ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]