ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ

আপলোড সময় : ২৩-০৮-২০২৬ ০৪:০২:২৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৮-২০২৬ ০৪:০২:২৫ অপরাহ্ন


নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র সিলেটের আম্বরখানা শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঋণ বিতরণ, আদায় এবং পরবর্তী সময়ে মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন শাখাটির এক ঋণগ্রহীতা মোহাম্মদ আলী।

অভিযোগপত্রে মোহাম্মদ আলী দাবি করেন, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র আম্বরখানা শাখা থেকে তিনি যথাক্রমে ৫ লাখ ও ১৫ লাখ টাকা ঋণ নেন। ব্যবসায়িক মন্দার কারণে কয়েকটি কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করে। পরবর্তী সময়ে আদালতের মাধ্যমে ঋণের টাকা পরিশোধ করলেও মামলাজট ও নতুন নতুন মামলা দায়েরের কারণে তিনি হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, আদালতের মাধ্যমে ঋণের টাকা পরিশোধের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা তার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন। একটি মামলার নিষ্পত্তির জন্য ব্যাংকের প্রতিনিধির মাধ্যমে ১ লাখ টাকা দাবি এবং মামলা দীর্ঘায়িত করার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে আপত্তি জানালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগকারীর দাবি।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালে ব্যাংকের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় ৫ লাখ টাকা এবং অপর একটি মামলায় প্রায় ২ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫ টাকা দাবির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, আদালতের কার্যক্রম চলাকালে তিনি ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে টাকা পরিশোধ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে অর্থ প্রদানের বিষয়টি আদালতেও উপস্থাপন করেছেন।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ব্যাংকের পক্ষ থেকে আরও কয়েকটি চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এসব মামলায় যেসব চেকের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলো তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে ইস্যু করেননি। তার অভিযোগ, পূর্বের ঋণসংক্রান্ত বিরোধ ও দুদকে অভিযোগ দায়েরের পর তাকে চাপে রাখতে এসব মামলা করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে ইসলামী ব্যাংকের আম্বরখানা শাখার কর্মকর্তা রাব্বি কামাল চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগও করেছেন মোহাম্মদ আলী।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি তদন্তে দুদকের সিলেট কার্যালয়ের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানের পর বিষয়টি নিয়ে দুদক প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হলেও পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। এ নিয়ে তিনি দুদক চেয়ারম্যানের কাছেও লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত করেছেন বলে দাবি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ব্যাংকের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে নতুন মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ সরবরাহ করা হয়নি। এসব ঘটনায় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগকারী মোহাম্মদ আলী বলেন, ঋণের টাকা পরিশোধের পরও যদি একই বিষয়ে বারবার মামলা করা হয়ে থাকে এবং ব্যাংকের নথি বা লেনদেনের তথ্যের সঙ্গে অসঙ্গতি থাকে, তাহলে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তিনি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র আম্বরখানা শাখার ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে কিছুই জানেন না এমন বললেও পরবর্তীতে তিনি শাখায় গিয়ে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋণ বিতরণ, আদায় এবং ঋণসংক্রান্ত মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাংকের নথিপত্র, হিসাব বিবরণী, আদালতে দাখিল করা কাগজপত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা পর্যালোচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগ সত্য হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে অভিযোগের প্রকৃত অবস্থাও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]