কুড়িগ্রামে নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই ফ্যামিলি কার্ডের গণনাকারী হিসেবে নিয়োগ পেলো কর্মকর্তার ভাগনি

আপলোড সময় : ১৯-০৮-২০২৬ ০২:৪৮:০৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-০৮-২০২৬ ০২:৪৯:৫১ অপরাহ্ন
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-


কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকারী (গণনাকারী) নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও কয়েকজনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে।


সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে থাকা ব্যক্তিরাও রয়েছে চুড়ান্ত তালিকায়। এছাড়া মাদক মামলার অভিযোগভুক্ত এক আসামির নামও তথ্য সংগ্রহকারী পদের তালিকায় রয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের সদস্যসচিব ও রৌমারী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার মোঃ আবদুল্লাহিল কাফির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে। রৌমারী উপজেলা প্রশাসন বলছে, আগের ইউএনওর সিলগালা করা ফাইলের ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।


অভিযোগগুলো যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। জানা গেছে, ১৪ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড শুমারি প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকারীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে রৌমারী উপজেলা প্রশাসন। তালিকায় কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ নাসরিন আক্তারের নাম রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন পরীক্ষার্থীর দাবি, নাসরিন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেননি। মোছাঃ নাসরিন আক্তার প্রকল্পের সদস্যসচিব মোঃ আবদুল্লাহিল কাফির ভাগনি। অভিযোগ রয়েছে, মোঃ আবদুল্লাহিল কাফির আরেক ভাগনি মোছাঃ মাসুমা আক্তার বৈবাহিক সূত্রে অন্য জেলার বাসিন্দা হলেও তার নামও চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে। এছাড়া রৌমারী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও তালিকায় স্থান পেয়েছেন। মোছাঃ নাসরিন আক্তারের সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তিনি মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশ নিয়েছেন। তবে কবে, কোথায় এবং কারা তার ভাইভা নিয়েছেন, জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ভাইভায় কী ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাও বলতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর কল ধরেননি। মোছাঃ নাসরিন আক্তারের এক প্রতিবেশী ও নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক প্রার্থী জানান, তারা রৌমারীতে ভাইভায় অংশ নিয়েছেন। তাদের ইউনিয়নের অনেক প্রার্থীও ভাইভা দিয়েছেন। কিন্তু ওই ভাইভায় নাসরিনকে দেখা যায়নি। ফ্যামিলি কার্ড শুমারি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। এ প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকারী পদের তালিকায় মাদক মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামির নাম থাকায়ও প্রশ্ন উঠেছে।


তালিকা অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের শ্রীফলগাতী গ্রামের মোঃ আকিব হাসান সিফাতের নামও তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর ১ হাজার ৯৬০টি ইয়াবাসহ ঢাকার মিরপুর মডেল থানার পুলিশের হাতে তিনি গ্রেফতার হন এবং এ ঘটনায় তিনি পাঁচ মাসের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। স্থানীয় ও নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের অভিযোগ, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী আবেদন ও নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করার কথা। কিন্তু বাস্তবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। এতে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আবদুল্লাহিল কাফির সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার ভাগনি মোছাঃ নাসরিন আক্তার ভাইভায় অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া ও ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি তেমন কিছু জানেন না। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সব কাগজ যাচাই বাচাই করেছেন। রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি তথ্য সংগ্রহকারী নির্বাচন কমিটির সভাপতি মোঃ মাহবুবুল হাসান বলেন, আমি রৌমারীতে যোগদানের আগেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আগের রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর সিলগালা করা ফাইলের ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি। কেউ নিষিদ্ধ দল বা কোনো মামলায় জড়িত থাকলে তাকে বাদ দেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]