নিজস্ব প্রতিবেদক
মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী। সুবজ শ্যামল ভরা নদী ও খাল বিলের দেশ সোনার এই বাংলাদেশ। প্রিয় দেশের প্রকৃতি সৌন্দয্য ও পাখির কুকিল ডাক আমাদের কে মুগ্ধ করে। এই দেশে লক্ষ লক্ষ মসজিদ মাদরাসা, যেদিগে চোখ যায় সেদিগে মসজিদ আর মাদরাসা দেখা যায়। টুপিওয়ালা দাঁড়িওয়ালা ও সুন্নীতী লেবাস বান্দা দেখা যায়। প্রতিদিন পাঁচবার আল্লাহ আকবার ধ্বনীর ডাক শুনা যায়। মুসিল্লিরা মসজিদে যায়, শিশুরা মক্তবে যায়, ও ছাত্ররা মাদরাসা যায়। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সারাদেশে আল্লাহর পবিত্র কুরআন চর্চা হচ্ছে ও ভোর রাতে কুরআনের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
সারাদেশে মাদরাসার গুলোতে কুরআন হাদীসের গবেষণা ও জ্ঞান অর্জন চলতেছে। এই যে সুন্দর পরিবেশ ও কোটি কোটি মুসলিমদের বসাবস, এই পরিবেশ কারা তৈরী করলে কিভাবে ইসলামের আগমন হলো সেটা আমরা জানবো। এই দেশে মুসলিমদের কোনো অস্তত্বি ছিলনা, মুসলিমরা নামের আগে শ্রী লিখতো ও ধুতি পরতো। হিন্দু রাজাদের অত্যচারে মুসলমানেরা দিশেহারা ছিল। আযান দেওয়া নিষেধ ছিল ও গরু জবাই নিষেধ ছিল। বিভিন্ন ধর্মের সংস্কৃতি চর্চা হতো, ও মাটির পূজা, দেব দেব দেবিতার পূজা হতো। খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতক থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যে বাংলাদেশে ইসলামের আগমন ঘটে। ঐতিহাসিকদের মতে ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মাদ ইবনে কাসিমের সিন্দু বিজয় গোটা ভারতবর্ষে ইসলাম প্রচারের পথ উন্মক্ত করে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে ধর্ম প্রচারের জন্য অলি আউলিয়া গাউছ কতুব সূফি দরবেশগন আগমন করেন। পরে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী কর্তৃক বাংলা বিজয়ের মাধ্যমে এ দেশে ধর্ম প্রচারকদের ব্যপকহারে আগমন ঘটে। ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী তৎকালীন বাংলার সেন বংশীয় রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে ইসলামের প্রচারের পথ উম্মক্ত হয়।
খিলজী বিজিত রাজ্যের সীমানা ছিল উত্তরে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের অনন্তর্গত পূর্ণিয়া শহর হয়ে দেবকোট থেকে রংপুর শহর, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া, দক্ষিণে গঙ্গার মূলধারা বা পদ্ধা এবং পশ্চিমে কুশী নদীর নিম্নঞ্চল থেকে গঙ্গার কিনারায় রাজমহল পাহাড় পর্যন্ত বিস্তুত। খিলজীর এ বিজয়ের ফলে বাংলায় ইসলাম ব্যাপকভাবে পরিচিত ও প্রসারিত হয়। এ সময় থেকে দলে দলে অলি আউলিয়া সুফি সাধকরা সড়ক পথে ও পানি পথে বাংলায় এসে বসতি স্থাপন করেন এবং ইসলাম প্রচারের কাজ শুরু করেন। ঐতিহাসিকদের বড় একটি অংশের মতামত হলো-সাহাবিদের একটি দল প্রথম ইসলাম প্রচার করার জন্য ভারত ও বঙ্গ অঞ্চলে (বাংলাদেশে) আগমন করেন। আর তাদের মাধ্যমেই এ দেশে ইসলামের সুচনা ঘটে। যেহেতু আরব চীন বাণিজ্য সম্পর্ক বহু প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত ছিল, সেহেতু ভারত উপমহাদেশে সাহাবিদের আগমন অস্বাভাবিক ছিল না। ধারণা করা হয় রাসূল (সা.)- এর মামা সাহাবি আবু আক্কাস মালিক ইবনে ওয়াহাব (রা.) আনুমানিক ৬১৭ খ্রিষ্টাব্দে তার কতিপয় সাথিসহ ইসলাম প্রচারের জন্য চীনের উদ্দেশ্য দুটি জাহাজ নিয়ে রওনা হয়। এ যাত্রার কাইস ইবনে হুজাইফা (রা.), উরওয়া ইবনে আছাছা (রা.), আবু কায়েস ইবনে হারিস (রা.) প্রমুখ সাহাবি তার সঙ্গে ছিলেন।
তাদের উদ্দেশ্য ছিল চীনে ধর্ম প্রচার করা। এ লক্ষ্যে তারা ও চীনের মধ্যবর্তী ভারতীয় বন্দরগুলোতেও অবতরণ করেন। তারা সেসব বন্দরে অবস্থানকালে ইসলাম প্রচার করেন। (শায়খ যাইনুদ্দিন সীয় তোহফাতুল মুজাহিদীন গন্থে ভারতে নানা বন্দরে এরূপ একদল আরবের ইসলাম প্রচারকের বর্ণণা উপস্থাপন করেন। ) আল্লাহ বলেন: তোমরা আহ্বান করো তোমাদের রবের পথে, হিকমাহ এবং সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে। (সূরা নাহল, আয়াত: ১২৫) আল্লাহর বাণী ও তার সত্য ধর্ম প্রচার করার জন্য, আরব, ইয়েমেন, ইরাক, ইরান, মধ্য এশিয়া ও উত্তর ভারত থেকে পীর, ফকির, দরবেশ, ওলি আউলিয়া ও সূফি সাধকদের এ দেশে আগমন ঘটতে থাকে। তবে ১১ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে ১৭ শতাব্দী পর্যন্ত এ দেশে ইসলামের সর্বাধিক প্রচার ও প্রসার হয়েছে বলে জানা যায়। এই সুবজ দেশে যেসব অলি আউলিয়া সূফি সাধকরা ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন। হযরত শাহজালাল ইয়েমেনি (রহ.) (১২৩৮-১৩৪৬) খ্রি.) বৃহত্তর সিলেট (শ্রীহট্র) অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও প্রসার করেন। তিনি পূর্ব বাংলায় ইসলাম প্রচারের প্রধান পথিকৃৎ মহান সূফি। সিলেট তার মাজার অবস্থিত। হযরত শাহজালাল (রহ.) এর ভাগিনা হযরত শাহ পরাণ (রহ.)। দুই সাধক এক সঙ্গে সিলেট অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। সিলেট অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও মুসলিম শাস প্রতিষ্ঠায় হযরত শাহ পরাণের ভূমিকা ছিল তাৎপর্য। সৈয়দ আহমাদ গেছুদারাজ কল্লা শহীদ (রহ.) হযরত শাহজালাল (রহ.) এর অন্যতম শিষ্য ছিলেন। কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। বিবাড়িয়া আখাউড়ার খড়মপুর গ্রামে তার মাজার শরিফ রযেছে। হযরত শাহ আলী বোগদাদী (রহ.) (১৪৯৮ খ্রি.) তিনি বৃহত্তর ফরিদপুর ও ঢাকা অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। বর্তমানে ঢাকা মিরপুর ১-এ তার মাজার শরিফ রয়েছে। হযরত শাহ মাখদুম রূপোশ (রহ.) (১২১৮-১৩৩১ খ্রি.) তিনি বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ ইসলাম প্রচারক।
রাজশাহী দরগাপাড়ায় তার মাজার শরিফ রয়েছে। হযরত শাহ আমানত (রহ.) (১৭৭৪ খ্রি.) বহত্তর চট্রগ্রাম অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। চট্রগ্রাম লালদীঘির পূর্ব পাশে তার মাজার অবস্থিত। হযরত শাহ খান জাহান আলী (রহ.) (১৪৫৯ খ্রি.) তিনি বৃহত্তর যশোর ও খুলনা অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ ইসলাম প্রচারক। বাগেরহাটের হযরত খান জাহান আলী (রহ.) এর তৈরী করা ৬০ গম্বুজ মসজিদের পাশেই তার পবিত্র মাজার শরিফ। ছারছীনার দাদা হুজুর শাহ সূফী কুতুবুল আলম আল্লামা নেছারুদ্দীন আহমেদ (রহ.) (১৮৭৩-১৯৫২) বাংলাদেশের একজন সূফি সাধক ও ধর্ম প্রচারক ছিলেন। তিনি ফুরফুরা শরীফের পীর আবু বকর সিদ্দিকী এর খলিফা ছিলেন। তিনি ছারছিনা দরবার ও ছারছিনা আলিয়া সহ সারাদেশে বহু মাদরাসা খানকাহ প্রতিষ্ঠাতা করেন। তিনি লাখো লাখো মানুষদের কে আল্লাহর পথে নিয়ে আসেন। পিরোজপুর, ছারছিনা দরবার শরীফে মসজিদের পাশে তার মাজার শরিফ। লেখক: আলেম, গবেষক
মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী। সুবজ শ্যামল ভরা নদী ও খাল বিলের দেশ সোনার এই বাংলাদেশ। প্রিয় দেশের প্রকৃতি সৌন্দয্য ও পাখির কুকিল ডাক আমাদের কে মুগ্ধ করে। এই দেশে লক্ষ লক্ষ মসজিদ মাদরাসা, যেদিগে চোখ যায় সেদিগে মসজিদ আর মাদরাসা দেখা যায়। টুপিওয়ালা দাঁড়িওয়ালা ও সুন্নীতী লেবাস বান্দা দেখা যায়। প্রতিদিন পাঁচবার আল্লাহ আকবার ধ্বনীর ডাক শুনা যায়। মুসিল্লিরা মসজিদে যায়, শিশুরা মক্তবে যায়, ও ছাত্ররা মাদরাসা যায়। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সারাদেশে আল্লাহর পবিত্র কুরআন চর্চা হচ্ছে ও ভোর রাতে কুরআনের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
সারাদেশে মাদরাসার গুলোতে কুরআন হাদীসের গবেষণা ও জ্ঞান অর্জন চলতেছে। এই যে সুন্দর পরিবেশ ও কোটি কোটি মুসলিমদের বসাবস, এই পরিবেশ কারা তৈরী করলে কিভাবে ইসলামের আগমন হলো সেটা আমরা জানবো। এই দেশে মুসলিমদের কোনো অস্তত্বি ছিলনা, মুসলিমরা নামের আগে শ্রী লিখতো ও ধুতি পরতো। হিন্দু রাজাদের অত্যচারে মুসলমানেরা দিশেহারা ছিল। আযান দেওয়া নিষেধ ছিল ও গরু জবাই নিষেধ ছিল। বিভিন্ন ধর্মের সংস্কৃতি চর্চা হতো, ও মাটির পূজা, দেব দেব দেবিতার পূজা হতো। খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতক থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যে বাংলাদেশে ইসলামের আগমন ঘটে। ঐতিহাসিকদের মতে ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মাদ ইবনে কাসিমের সিন্দু বিজয় গোটা ভারতবর্ষে ইসলাম প্রচারের পথ উন্মক্ত করে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে ধর্ম প্রচারের জন্য অলি আউলিয়া গাউছ কতুব সূফি দরবেশগন আগমন করেন। পরে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী কর্তৃক বাংলা বিজয়ের মাধ্যমে এ দেশে ধর্ম প্রচারকদের ব্যপকহারে আগমন ঘটে। ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী তৎকালীন বাংলার সেন বংশীয় রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে ইসলামের প্রচারের পথ উম্মক্ত হয়।
খিলজী বিজিত রাজ্যের সীমানা ছিল উত্তরে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের অনন্তর্গত পূর্ণিয়া শহর হয়ে দেবকোট থেকে রংপুর শহর, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া, দক্ষিণে গঙ্গার মূলধারা বা পদ্ধা এবং পশ্চিমে কুশী নদীর নিম্নঞ্চল থেকে গঙ্গার কিনারায় রাজমহল পাহাড় পর্যন্ত বিস্তুত। খিলজীর এ বিজয়ের ফলে বাংলায় ইসলাম ব্যাপকভাবে পরিচিত ও প্রসারিত হয়। এ সময় থেকে দলে দলে অলি আউলিয়া সুফি সাধকরা সড়ক পথে ও পানি পথে বাংলায় এসে বসতি স্থাপন করেন এবং ইসলাম প্রচারের কাজ শুরু করেন। ঐতিহাসিকদের বড় একটি অংশের মতামত হলো-সাহাবিদের একটি দল প্রথম ইসলাম প্রচার করার জন্য ভারত ও বঙ্গ অঞ্চলে (বাংলাদেশে) আগমন করেন। আর তাদের মাধ্যমেই এ দেশে ইসলামের সুচনা ঘটে। যেহেতু আরব চীন বাণিজ্য সম্পর্ক বহু প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত ছিল, সেহেতু ভারত উপমহাদেশে সাহাবিদের আগমন অস্বাভাবিক ছিল না। ধারণা করা হয় রাসূল (সা.)- এর মামা সাহাবি আবু আক্কাস মালিক ইবনে ওয়াহাব (রা.) আনুমানিক ৬১৭ খ্রিষ্টাব্দে তার কতিপয় সাথিসহ ইসলাম প্রচারের জন্য চীনের উদ্দেশ্য দুটি জাহাজ নিয়ে রওনা হয়। এ যাত্রার কাইস ইবনে হুজাইফা (রা.), উরওয়া ইবনে আছাছা (রা.), আবু কায়েস ইবনে হারিস (রা.) প্রমুখ সাহাবি তার সঙ্গে ছিলেন।
তাদের উদ্দেশ্য ছিল চীনে ধর্ম প্রচার করা। এ লক্ষ্যে তারা ও চীনের মধ্যবর্তী ভারতীয় বন্দরগুলোতেও অবতরণ করেন। তারা সেসব বন্দরে অবস্থানকালে ইসলাম প্রচার করেন। (শায়খ যাইনুদ্দিন সীয় তোহফাতুল মুজাহিদীন গন্থে ভারতে নানা বন্দরে এরূপ একদল আরবের ইসলাম প্রচারকের বর্ণণা উপস্থাপন করেন। ) আল্লাহ বলেন: তোমরা আহ্বান করো তোমাদের রবের পথে, হিকমাহ এবং সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে। (সূরা নাহল, আয়াত: ১২৫) আল্লাহর বাণী ও তার সত্য ধর্ম প্রচার করার জন্য, আরব, ইয়েমেন, ইরাক, ইরান, মধ্য এশিয়া ও উত্তর ভারত থেকে পীর, ফকির, দরবেশ, ওলি আউলিয়া ও সূফি সাধকদের এ দেশে আগমন ঘটতে থাকে। তবে ১১ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে ১৭ শতাব্দী পর্যন্ত এ দেশে ইসলামের সর্বাধিক প্রচার ও প্রসার হয়েছে বলে জানা যায়। এই সুবজ দেশে যেসব অলি আউলিয়া সূফি সাধকরা ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন। হযরত শাহজালাল ইয়েমেনি (রহ.) (১২৩৮-১৩৪৬) খ্রি.) বৃহত্তর সিলেট (শ্রীহট্র) অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও প্রসার করেন। তিনি পূর্ব বাংলায় ইসলাম প্রচারের প্রধান পথিকৃৎ মহান সূফি। সিলেট তার মাজার অবস্থিত। হযরত শাহজালাল (রহ.) এর ভাগিনা হযরত শাহ পরাণ (রহ.)। দুই সাধক এক সঙ্গে সিলেট অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। সিলেট অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও মুসলিম শাস প্রতিষ্ঠায় হযরত শাহ পরাণের ভূমিকা ছিল তাৎপর্য। সৈয়দ আহমাদ গেছুদারাজ কল্লা শহীদ (রহ.) হযরত শাহজালাল (রহ.) এর অন্যতম শিষ্য ছিলেন। কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। বিবাড়িয়া আখাউড়ার খড়মপুর গ্রামে তার মাজার শরিফ রযেছে। হযরত শাহ আলী বোগদাদী (রহ.) (১৪৯৮ খ্রি.) তিনি বৃহত্তর ফরিদপুর ও ঢাকা অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। বর্তমানে ঢাকা মিরপুর ১-এ তার মাজার শরিফ রয়েছে। হযরত শাহ মাখদুম রূপোশ (রহ.) (১২১৮-১৩৩১ খ্রি.) তিনি বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ ইসলাম প্রচারক।
রাজশাহী দরগাপাড়ায় তার মাজার শরিফ রয়েছে। হযরত শাহ আমানত (রহ.) (১৭৭৪ খ্রি.) বহত্তর চট্রগ্রাম অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। চট্রগ্রাম লালদীঘির পূর্ব পাশে তার মাজার অবস্থিত। হযরত শাহ খান জাহান আলী (রহ.) (১৪৫৯ খ্রি.) তিনি বৃহত্তর যশোর ও খুলনা অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ ইসলাম প্রচারক। বাগেরহাটের হযরত খান জাহান আলী (রহ.) এর তৈরী করা ৬০ গম্বুজ মসজিদের পাশেই তার পবিত্র মাজার শরিফ। ছারছীনার দাদা হুজুর শাহ সূফী কুতুবুল আলম আল্লামা নেছারুদ্দীন আহমেদ (রহ.) (১৮৭৩-১৯৫২) বাংলাদেশের একজন সূফি সাধক ও ধর্ম প্রচারক ছিলেন। তিনি ফুরফুরা শরীফের পীর আবু বকর সিদ্দিকী এর খলিফা ছিলেন। তিনি ছারছিনা দরবার ও ছারছিনা আলিয়া সহ সারাদেশে বহু মাদরাসা খানকাহ প্রতিষ্ঠাতা করেন। তিনি লাখো লাখো মানুষদের কে আল্লাহর পথে নিয়ে আসেন। পিরোজপুর, ছারছিনা দরবার শরীফে মসজিদের পাশে তার মাজার শরিফ। লেখক: আলেম, গবেষক