আল্লামা সাঈদীকে নিয়ে পুত্র শামীম সাঈদীর আবেগঘন পোস্ট

আপলোড সময় : ১৪-০৮-২০২৬ ০২:৩৭:২০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০৮-২০২৬ ০২:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন
মামুন হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক


আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (রহ.)কে স্মরণ করে আবেগঘন পোস্ট করেছেন তার মেঝো পুত্র আলহাজ্ব শামীম সাঈদী। তিনি পিরোজপুর -২ ( ভান্ডারিয়া, কাউখালী ও নেছারাবাদ) আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সাংসদ প্রার্থী ছিলেন। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২ টায় ফেসবুকে আলহাজ্ব শামীম সাঈদী এ পোস্ট দেন। আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ ও বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (রহ.) এর ৩য় শাহাদাৎ বার্ষিকী।


এই দিনে গত ৩ বছর আগে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার আল্লাম সাঈদীকে শহীদ করে ছিলো। নিচে সাঈদী পুত্রের ফেসবুকে লেখা পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-এ যুগের মুজাদ্দেদ, কুরআনের পাখি, শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রহ. رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا আজ তিন বছর হয়ে গেল, অথচ মনে হয়, যেন সেদিনই আপনি আমার মাথায় হাত রেখে বলছেন: “আব্বু, কেমন আছো"? তিন বছর ধরে পৃথিবীটা আমার কাছে বড় অদ্ভুত, বড় বেশি নীরব । বড্ড কঠিন, চারপাশে সবকিছু আছে মানুষ আছে, কোলাহল আছে, হাসি আছে শুধু আপনি নেই আর শুধু আব্বা ডাকার কেউ নেই বলে- আমাকে সান্তনা দেবারও কেউ নেই ।


পৃথিবীটা যেমন গোল তেমনই শুন্য । যে বটবৃক্ষের ছায়ায়, আদরে, মমতায় আমার শৈশব কৈশর কেটেছে, যে মানুষটির উপস্থিতি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ছিলো, তিনি আজ দৃষ্টির আড়ালে । রাতে বিছানায় শুয়ে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে যায়, তখন সবচেয়ে বেশি আপনার অভাব অনুভব করি । ইদানীং ঘুম আসেই না । বারবার মনে পড়ে- জেলখানায় সাক্ষাৎ শেষে আপনার সেই দরদমাখা কণ্ঠস্বর “কীভাবে সংসার চালাও"? কিছু লাগবে"? আজ অনেক মানুষ খোঁজ নেয়, কিন্তু আপনার মতো করে কেউ জিজ্ঞেস করে না, কারণ খোঁজ নেওয়া আর মায়া দিয়ে আগলে রাখা দুটো এক জিনিস নয় । জীবনে কোনো সুখবর এলে আজও মনে হয়, সবার আগে আপনাকেই বলি । কোনো ছোট অর্জন, কোনো আনন্দ, কোনো সফলতা, ব্যার্থতা, শত্রুতা, ষড়যন্ত্রের কথা সবকিছু নিয়ে ছুটে যেতে ইচ্ছে করে আপনার কাছে ।


কিন্তু হঠাৎ মনে পড়ে, আপনি তো আর এই পৃথিবীর ঠিকানায় নেই । বুকের ভেতরটা তখন কেমন হাহাকার করে ওঠে । আজ আপনার নাতি,নাতনিরা বাসার চারপাশে ঘুরে বেড়ায় । তাদের হাসি দেখি, তাদের দুষ্টুমি দেখি, আর আপনাকে খুঁজি । ভাবি, আপনি থাকলে হয়তো তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন, ভুল করলে শাসন করতেন, আবার একটু পরই বুকে টেনে নিতেন । দোয়া করতেন । আপনার শাসনের ভেতরেও ছিলো মমতা, আপনার কঠোরতার ভেতরেও ছিল অফুরন্ত ভালোবাসা । আমি নিজেও একজন বাবা, কিন্তু যতোই চেষ্টা করি, বারবার মনে হয়, আমি আপনার মতো করে ছেলে- মেয়েকে আদর করতে পারি না । হয়তো কখনো পারবোও না । সন্তানদের ভালোবাসি, তাদের জন্য ভাবি ,তবুও আপনার সেই ব্যক্তিত্ব, সেই ধৈর্য, সেই দায়িত্ববোধ আর সেই নিবীর ভালোবাসার কাছে নিজেকে খুব অসহায় মনে হয় । কয়েক দিন আগে হঠাৎ অনেক পুরোনো একটি স্মৃতি মনে পড়লো । হয়তো ১৯৯৮ কিংবা ১৯৯৯ সাল । আপনার মেরুন রঙের প্রাডো গাড়িতে করে আমরা পিরোজপুর যাচ্ছি । ড্রাইভার জাহাঙ্গীর গাড়ি চালাচ্ছে । আর আমি আর আপনি পেছন সিটে বসা । সামনের সিটপ সম্ভবত রাফে ভাই । গাড়িতে উঠলে আমার ঘুম আসে, যথারিতি আমি ঘুমিয়ে পড়লাম । আপনার কোলে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে শুয়ে আছি । গাড়ির ক্যাসেট প্লেয়ারে আপনার প্রিয় গজলের সুর ভেসে আসছে । আপনার সেই খয়েরী মোটা ফ্রেমের চশমার আড়ালে লুকানো প্রশান্ত চোখদুটি আজও আমার স্মৃতিতে অমলিন । সেদিন বুঝিনি, কিন্তু আজ বুঝি, আপনার কোলের সেই উষ্ণতাই ছিলো আমার পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় ।


পৃথিবীর কোনো প্রাসাদ, কোনো সম্পদ, কোনো অর্জন সেই নিরাপত্তার অনুভূতি আমাকে আর কখনো দিতে পারেনি, পারবে না । আব্বা, খুব ইচ্ছে করে আপনাকে একবার দেখি । স্বপ্নে দেখা দেন, একবার শুধু আপনার হাতটা ছুঁয়ে বলি,“আমি এখনও আপনার সেই ছোট্ট ছেলে হয়েই আছি।” খুব ইচ্ছে করে দূর আকাশের ওপার থেকে একবার আপনার সেই গম্ভীর কণ্ঠস্বর শুনি,“আব্বু !” জানি, তা আর হবে না । তবুও মন মানতে চায় না । সন্তান যতো বড়ই হোক, বাবার কাছে সে চিরকালই ছোট্ট শিশু হয়ে থাকে । আর বাবা চলে গেলে সেই শিশুটার ভেতরে এক শূন্যতা জন্ম নেয়, যা কখনো পূরণ হয় না । আজ তিন বছর পরও আপনার জন্য চোখ ভিজে যায় । প্রতিদিন অশ্রু ফেলে দোয়া করি । আমি পাপি বান্দা, আমার দোয়া কি কবুল হয় ? মানুষের ভিড়ের মাঝেও নিজেকে এতো একা লাগে যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারি না । ভিষন একা লাগে । আসলেই আমার কেউ নেই । আমি যে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলতে পারি না, আমিতো তেলাইতে পারি না । আপনি যে বলতেন: এতো স্পষ্টবাদী আর সরল বিশ্বাস ভালো নয় । এখন ঐটা আমার কাল হয়ে দাড়িয়েছে । আপনার রেখে যাওয়া স্মৃতিগুলোই এখন আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন । জীবনে আর কিছু চাইনা শুধু আপনার নছিহা অনুযায়ী আপনার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান গুলোকে বিশ্ব দরবারে দাড় করিয়ে দিতে চাই । আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যেন দয়াকরে, করুনা করে আপনার স্বপ্নগুলো আমাকে দিয়ে বাস্তবায়ন করান, আমিন ।


আল্লাহ তায়ালা আপনাকে তাঁর অসীম রহমত ও মাগফিরাতের ছায়ায় রাখুন । দূনিয়ার মানুষ আপনাকে কুরআনের পাখি বলে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে জান্নাতুল ফিরদাউসে সবুজ পাখি হিসেবে কবুল করুন, জান্নাতে বায়তুল হামদে স্থায়ী ঠিকানা বানিয়ে দিন, আমিন । اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِأَبِي وَارْحَمْهُ وَاجْعَلْ قَبْرَهُ رَوْضَةً مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ.🤲🏻💔 মো: মামুন হোসেন ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]