কুড়িগ্রামে সরকারি ধান সংগ্রহে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম, বঞ্চিত প্রকৃত কৃষকেরা

আপলোড সময় : ১০-০৮-২০২৬ ১১:০৮:২০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৮-২০২৬ ১১:১০:২৭ পূর্বাহ্ন
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-



কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় সরকারি ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে হতদরিদ্র, ভূমিহীন ও দিনমজুরদের নাম ব্যবহার করে গুদামে ধান দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এতে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত কৃষকেরা। জানা যায়, একটি চক্র এসব মানুষের নাম ব্যবহার করে গুদামে ধান দিয়ে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত কৃষক। আর অনিয়মের দায় নিয়ে খাদ্য ও কৃষি বিভাগ একে অন্যের দিকে আঙুল তুলছে। নাগেশ্বরীতে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ৮০৭ জন প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে প্রতি টন ৩৬ হাজার টাকা দরে দুই হাজার ৪২৩ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।


এজন্য অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, একটি চক্র বিভিন্ন সরকারি ভাতা ও সহায়তা দেওয়ার কথা বলে দরিদ্র, ভূমিহীন ও দিনমজুরদের নাম ব্যবহার করে প্রায় এক হাজার আবেদন করে। পরে লটারির মাধ্যমে কৃষক বাছাই করা হয়। তালিকায় অর্ধেকের বেশি অকৃষকের নাম রয়েছে। তালিকাভুক্ত অনেকেই জানেন না, তাদের নামে আবেদন হয়েছে। পরে সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের ব্যাংক হিসাব খুলে এক থেকে দুই হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের নামে গুদামে ধান দিয়ে বড় অঙ্কের টাকা তুলে নেয় চক্রটি। খোঁজ নিয়ে কচাকাটা ইউনিয়নের ছাটবাড়ি গ্রামের ১৬ জন ভুয়া কৃষকের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদের কারও আবাদি জমি নেই। তারপরও সরকারি খাতায় তারা কৃষক এবং খাদ্য গুদামে ধান দিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় মোঃ দুলাল মিয়া কৃষি কার্ড, বিধবা কার্ড, ভিজিডি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার কথা বলে তাদের ব্যাংকে নিয়ে হিসাব খোলেন এবং ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নেন। পরে জনপ্রতি এক থেকে দুই হাজার টাকা দেন। মোছাঃ নাভজান বেওয়া বলেন, তিন বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। বাড়িভিটা ১৫ শতক ছাড়া কোনো জমি নেই। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চলে। বিধবা ভাতা দেওয়ার কথা বলে দুলাল তাকে ব্যাংকে নিয়ে যান। পরে দুটি চেকের পাতা নিয়ে দুই দফায় এক হাজার ৫০০ টাকা দেন।


মোছাঃ আছিয়া বেগম বলেন, ব্যাংকে সই নিয়ে বাইরে পান খেতে পাঠায় দিছে। পরে ওমরা চেক দিয়া টাকা তুলছে। বাড়িতে আইসা এক হাজার টাকা দিছে। মোছাঃ গোলভান বেগম বলেন, কৃষি কার্ডের কথা বলে ছবি আর আইডি কার্ড নিয়ে কম্পিউটারে নাম দেয় দুলালসহ দুজন। পরে ব্যাংকে নিয়ে যায়। কী করছে জানি না। দুলাল আর ব্যাংকের ম্যানেজার জানে। পরে আমাকে দেড় হাজার টাকা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষক মোঃ আব্দুর রহমান বলেন, তিনি বছরে ৩০০-৪০০ মণ ধান উৎপাদন করেন। অথচ কখনো সরকারি গুদামে ধান দিতে পারেননি। তার অভিযোগ, প্রকৃত কৃষক বাদ দিয়ে দরিদ্র মানুষের নাম ব্যবহার করে সিন্ডিকেট সরকারি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অভিযুক্ত মোঃ দুলাল মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শুধু কচাকাটা নয়, নাগেশ্বরীর সব ইউনিয়নেই কোথাও কৃষক ধান দেয় নাই। ধান ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে। তার দাবি, কোনো আর্থিক সুবিধা নেননি, প্রভাবশালী মহলের ‘বড় ভাইদের’ নির্দেশ পালন করেছেন। নাগেশ্বরী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ কাউছার হাবিব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। কৃষি বিভাগ থেকে দেওয়া কৃষকের তালিকা অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন হয়েছে। নাগেশ্বরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহরিয়ার হোসেন বলেন, স্বল্প সময়ে আবেদনকারী কৃষকদের যাচাই-বাছাই করা সম্ভব নয়। কৃষক নন এমন ব্যক্তির নাম থাকলেও তারা ধান দিতে পারবেন না। এসব নাম বাতিল করে পুনরায় লটারির নিয়ম রয়েছে।


তবে খাদ্য বিভাগ এসব বিষয়ে কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করেনি। কাদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করছে, তা তাদের জানা নেই। নাগেশ্বরী উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, এ মৌসুমে আট কোটি ৭২ লাখ ২৮ হাজার টাকার ধান সংগ্রহ করা হবে। সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]