কোনও শিডিউল ছাড়াই কুড়িগ্রামে চলছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং

আপলোড সময় : ১০-০৮-২০২৬ ১২:১৬:৫৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৮-২০২৬ ১২:২০:১১ পূর্বাহ্ন
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-



কুড়িগ্রামে বেড়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। দিন ও রাতে নির্দিষ্ট কোনও শিডিউল ছাড়াই চলছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন গ্রাহকরা। বাণিজ্যিক উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গরমে কষ্ট পাচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বিঘ্নিত হচ্ছে গৃহস্থালি কর্মকাণ্ড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসায় তারা লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সঙ্গে ন্যাশনাল লোড ডিসপাস সেন্টার স্ক্যাডা পরিচালনার কারণে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। লোডশডিংয়ের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন আবাসিক এলাকার বাসিন্দাসহ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। লাগামহীন লোডশেডিং চলছে পল্লী বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনেও। প্রতিষ্ঠানটির আওতাধীন অনেক এলাকায় দিনে রাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। ফলে শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও বিরক্তি প্রকাশ করছেন নাগরিকরা। কুড়িগ্রাম জেলা শহরের দাদামোড়ের ব্যবসায়ী মোঃ ইউনুস আলী বলেন, ‘সিরিয়াল ছাড়া লোডশেডিং।


এই কারেন্ট আইসে এই যায়। ১০ মিনিটও থাকে না। মাঝে মাঝে টানা দুই ঘণ্টাও লোডশেডিং চলে। দোকানে কাজ করা যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসায় লালবাতি জ্বলবে।’ কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের গৃহবধূ মোছাঃ মোহতারিমা বলেন, ‘গ্রামে এখন প্রায় সব ঘরেই নারীরা রাইসকুকার আর কারেন্টের চুলায় (ইন্ডাকশন কুকার) রান্না করে। কয়েক দিন ধরে কারেন্ট থাকতেছে না। ভাত উঠায় দিলে ভাত আধা হওয়া হতেই কারেন্ট চলে যায়। খুব সমস্যায় পড়ছি। সারা দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা কারেন্ট থাকে।


কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের রসূলপুর গ্রামের বাসিন্দা ও পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ‘গরমে মরে গেলাম ভাই। দিনে তো কারেন্ট থাকে না, রাতেও নাই। আজ (শনিবার) সেই আসরের আগে গেছে এখন রাত ৮ পার হলেও আসে নাই। অন্ধকারে বসে আছি। গ্রামের বাড়িতে ছেলেমেয়েরা পড়াশোনাও করতে পারতেছে না। এভাবে চলা যায় না।’ এদিকে কোনো ধরনের শিডিউল ছাড়া অনিয়ন্ত্রিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরক্তি প্রকাশ করছেন গ্রাহকরা। কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার শহরের বাসিন্দা ও বিশিষ্ট সংস্কৃতিকর্মী জ্যোতি আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে নিজ আইডিতে লিখেছেন, ‘কোনও নোটিশ ছাড়া, রুটিন ছাড়া যখন ইচ্ছা, যেমন ইচ্ছা নেসকোর লোডশেডিং অন্যায়, অনিয়ম, ঔদ্ধত্য ও গ্রহকদের পাত্তা না দেওয়ার মনোভাব প্রকাশ করে।’ বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, শুধু কুড়িগ্রাম নয়, উৎপাদন কম হওয়ায় সারাদেশে বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছে। কুড়িগ্রামে প্রায় ৮৫ মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে ৪১ থেকে ৪৯ মেগাওয়াট বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে রেশনিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে করে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। উপরন্তু ন্যাশনাল লোড ডিসপাস সেন্টার (এনএলডিসি) থেকে স্ক্যাডার অপারেশনের মাধ্যমে সরবরাহ বন্ধ করলে লোডশেডিংয়ের সময় আরও বাড়ছে। অনেক সময় কোনও কোনও ফিডারে লোডশেডিং শেষে বিদ্যুৎ আসার পর স্ক্যাডার কারণে ফের বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। নেসকো কুড়িগ্রাম অফিস জানায়, কুড়িগ্রাম শহরে নেসকোর আওতাধীন ৩২ হাজারের বেশি গ্রাহক রয়েছে। তাদের আওতায় বিদ্যুতের চাহিদা বর্তমানে ১৩ মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠছে।



কিন্তু চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র সাড়ে ৬ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি পূরণে তারা লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সঙ্গে চলছে স্ক্যাডার অপারেশন। শনিবার সারাদিনে ৬ বার স্ক্যাডা অপারেশনের কারণে বিদ্যুৎহীন ছিল কুড়িগ্রাম নেসকো। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শত শত গ্রাহক অফিসে ফোন করে ক্ষোভ জানাচ্ছেন।


নেসকোর কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অর্ধেক, কখনও অর্ধেকেরও কম। ফলে লোডশেডিং চলছে। সাথে স্ক্যাডা অপারেশনের কারণে কোনও সময় নেসকোর আওতাধীন সকল ফিডার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ছে। বরাদ্দ বাড়লে লোডশেডিং কমে যাবে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]