লোকগানের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন বেতার-টিভি শিল্পী দিলবাহার খান দিলু

আপলোড সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০৫:২৫:০২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০৫:২৯:৫৩ অপরাহ্ন
মাজহারুল ইসলাম উজ্জ্বল স্টাফ রিপোর্টারঃ



নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম মাস্টার পরিবারের সন্তান গায়ক দিলবাহার খান দিলু। ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ। সেই ভালোবাসা থেকেই দীর্ঘদিন ধরে লোকসংগীতের চর্চা করে আসছেন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নিয়মিত সংগীতচর্চা করছেন। ১৯৬৪ সালের ৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন দিলবাহার খান দিলু। তবে তাঁর জন্ম মদন উপজেলার ফতেপুর গ্রামে নানার বাড়িতে। তৎকালীন সময়ে সন্তান জন্মের আগে নারীরা বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার প্রচলন থাকায় তাঁর জন্মও নানার বাড়িতে হয়। শৈশব থেকেই কিছুটা ডানপিটে স্বভাবের দিলবাহার বাবার হাত ধরেই গানের জগতে পা রাখেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই টুকটাক গান গাওয়া শুরু করেন। হাইস্কুলে পড়ার সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করে সহপাঠী ও শিক্ষকদের প্রশংসা অর্জন করেন। পরবর্তীতে কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন আয়োজনে নিয়মিত গান পরিবেশন করতে থাকেন।


গানের প্রতি একাগ্রতা তাঁকে পেশাদার সংগীতচর্চার দিকে নিয়ে যায়। ২০০১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বেতারে পল্লীগীতি বিভাগে ‘গ’ শ্রেণির শিল্পী হিসেবে উত্তীর্ণ হন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশ বেতারের পল্লীগীতি শাখায় বিশেষ শ্রেণির শিল্পী হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। ২০০২ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে তালিকাভুক্ত হন। বর্তমানে বিটিভির প্রথম শ্রেণির ‘ক’ শাখার শিল্পী হিসেবে সংগীত পরিবেশন করছেন। শিক্ষাজীবনেও রয়েছে তাঁর বৈচিত্র্য। ফতেপুর চত্রকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। এরপর কেন্দুয়ার জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে কেন্দুয়া কলেজ ও গোপালপুর কলেজে অধ্যয়ন শেষে টাঙ্গাইলের গোপালপুর কলেজ থেকে বিকম ডিগ্রি অর্জন করেন।


ঢাকার শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে মিউজিকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে নজরুল ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেন। দিলবাহার খান দিলুর কণ্ঠে পরিবেশিত বেশ কিছু গান শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মধ্যে ‘কি মোবাইল বানাইছো দয়াল’, ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’, ‘কত রঙের খেলছো খেলা’ ও ‘সিডর না হয় আইলা’ উল্লেখযোগ্য। এসব গান ইতোমধ্যে দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। দীর্ঘ সংগীতজীবনে লোকগানকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, মানুষের শিক্ষা ও সচেতনতার হাতিয়ার হিসেবেও দেখেন এই শিল্পী। গানকে পাথেয় করেই জীবনের পুরোটা সময় নতুন কিছু করার চিন্তা ও সংগীতসাধনায় ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিল্পীদের গানের ভাবনা ও করণীয় প্রসঙ্গে দিলবাহার খান দিলু বলেন, বাউল গানে বর্তমানে এক ধরনের অশনি সংকেত চলছে।

এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। একটি ভালো গানের মধ্য দিয়ে সমাজের জন্য শিক্ষণীয় কোনো বার্তা অবশ্যই তুলে ধরতে হবে। গান শুধু বিনোদন নয়, মানুষের চিন্তা ও চেতনা জাগ্রত করার মাধ্যমও। লোকসংগীতের শিকড় ও ঐতিহ্য ধরে রেখে নতুন প্রজন্মের কাছে গানের ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়েই এগিয়ে চলেছেন বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের এই গানের পাখি।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]