আগামী মৌসুম থেকেই মিঠা পানির মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার উদ্যোগ: মন্ত্রী

আপলোড সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ১২:২২:৩৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ১২:২৫:১৪ পূর্বাহ্ন
কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি :



কৃষি ও মৎস্য-প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশীয় মিঠা পানির মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে হাওর, বিল, নদী ও জলাশয়ে ‘মিঠা পানির মাছের অভয়াশ্রম’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। হাওর ও জলাভূমির বিভিন্ন এলাকায় বড় গর্ত ও খাঁড়ি তৈরি করে সেগুলো মা মাছের জন্য সংরক্ষিত রাখা হবে। পাশাপাশি অভয়াশ্রমে পাহারাদারের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে সেখানে কেউ মাছ ধরতে না পারে। ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফর উপলক্ষে শনিবার দুপুরে কটিয়াদীতে আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) আসনের এমপি মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের এমপি মো. জালাল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।



মন্ত্রী বলেন, আগামী মৌসুম থেকেই এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। এ জন্য ইতোমধ্যে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বাজেটও নির্ধারণ করা হয়েছে। একসময় হাওর, বাওড়, নদী ও বিভিন্ন জলাশয়ের দেশীয় মাছ মানুষের খাদ্যের বড় একটি অংশের জোগান দিত। তখন চাষের মাছের প্রচলনও তেমন ছিল না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে কৃষিতে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের পাশাপাশি মা মাছের প্রজননক্ষেত্রগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দেশীয় মিঠা পানির মাছের স্বাভাবিক উৎপাদন কমে গেছে। মন্ত্রী বলেন, মা মাছের অভয়াশ্রম প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। ফলে প্রাকৃতিক মিঠা পানির মাছ এখন বিলুপ্তির পথে। আগে হাওর ও জলাভূমির বিভিন্ন ডোবা ও খাঁড়িতে মা মাছ আশ্রয় নিত। কিন্তু এখন সেসব স্থান থেকেও নির্বিচারে মাছ ধরে ফেলা হচ্ছে। ফলে মাছের প্রজননের জন্য নিরাপদ স্থান ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাওর ও জলাভূমির বিভিন্ন এলাকায় সরকারি উদ্যোগে বড় গর্ত ও খাঁড়ি তৈরি করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব স্থান মা মাছের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। সেখানে পাহারাদারের ব্যবস্থাও করা হবে, যাতে অন্যত্র মাছ ধরা হলেও অভয়াশ্রমের মাছ কেউ ধরতে না পারে।


তিনি বলেন, মা মাছের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা গেলে তাদের প্রজননের সুযোগ বাড়বে। এতে ডিমের পরিমাণ বাড়বে এবং ধীরে ধীরে দেশীয় মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে। মা মাছ যত বাড়বে, ডিম তত বেশি হবে, আর ডিম যত বেশি হবে, মাছের উৎপাদনও তত বাড়বে। এ উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিঠা পানির মাছের অভয়াশ্রম’। আগামী মৌসুম থেকে কর্মসূচিটির বাস্তবায়ন শুরু হবে। এর পরিকল্পনা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বাজেটও নির্ধারণ করা হয়েছে।


সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হাওরাঞ্চলে দেশীয় মিঠা পানির মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এম এ কুদ্দুস কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি মোবাইল নং-০১৭১৭-৭৮১৬৯৬ তারিখঃ০৮/০৮/ ২০২৬ ইং

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]