আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
শুক্রবার, ০৭ আগষ্ট ২০২৬ ইং ০২:০১ পিএম. কুড়িগ্রামের ঐতিহ্য এবং ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার শাপলা চত্বর ভেঙে সংকোচিত করার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূতিকাগার এই শহীদ মিনার চত্বর। কুড়িগ্রামকে চেনার আইকনিক স্থাপনা। এর সৌন্দর্য সবাইকে বিমোহিত করে। উন্নয়নের বিকল্প পথ না খুঁজে মুছে ফেলা হচ্ছে কুড়িগ্রাম জেলা শহরের ঐতিহ্যকে। কুড়িগ্রাম শহরের শাপলা চত্বর এলাকায় যানজট নিরসনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের একটি অংশ অপসারণের কাজ শুরু করেছে সড়ক বিভাগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম পৌরসভা ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শহরের জিরো পয়েন্টে এ কাজ শুরু হয়। তবে শহীদ মিনারের অংশ ভেঙে সড়ক প্রশস্ত করায় স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও শাপলা চত্বর কুড়িগ্রাম-রংপুর ও কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের সংযোগস্থল। প্রশাসনের ভাষ্য, মোড়টি সরু হওয়ায় বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে অটোরিকশা, বাস ও ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এতে যানজটের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ে। জনদুর্ভোগ নিরসনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, যানজট নিরসনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের প্রায় ১৫ ফুট অংশ অপসারণ করা হবে। এতে মোড়টি প্রশস্ত হবে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হবে। তিনি আরও বলেন, শহীদ মিনার একটি সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় জেলার সকল রাজনৈতিক দল ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সওজ কেবল নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে। কাজ পরিদর্শনে গিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, শাপলা চত্বর দীর্ঘদিন ধরে শহরের যানজটের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত। শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভ অক্ষত রেখে শুধু অব্যবহৃত ও অনাবশ্যক অংশ অপসারণ করা হচ্ছে, যাতে সড়ক প্রশস্ত করা যায়। এতে শহরের কেন্দ্রস্থলে যান চলাচল আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কাজ শুরুর সময় কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মোঃ শফিকুল ইসলাম বেবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মোঃ হাসিবুর রহমান হাসিব, কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ নিজাম উদ্দিন, এনসিপির কুড়িগ্রাম জেলা আহ্বায়ক মোঃ মুকুল মিয়া, সাবেক মেয়র মোঃ আবু বকর সিদ্দিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অটোরিকশা চালক মোঃ মাইদুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বরে পৌঁছালেই প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট আটকে থাকতে হতো। মোড়টি বড় হলে সময় বাঁচবে। তবে শহীদ মিনারের ক্ষতি না করে কাজটি করা গেলে ভালো হবে। তবে সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সুশীল সমাজ ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। তাঁদের দাবি, শাপলা চত্বরসংলগ্ন রেলওয়ের খাসজমি এবং আশপাশের দোকানপাট উচ্ছেদ করেও সড়ক প্রশস্ত করা সম্ভব ছিল। কুড়িগ্রাম জেলা প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সভাপতি মোঃ সামিউল হক নান্টু জানান, এঘটনা দুঃখজনক। কুড়িগ্রামের সার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ সিদ্ধান্ত পুন ববেচনা করবার জন্য অনুরোধ জানাই কুড়িগ্রাম জেলার সিনিয়র সিটিজেন হিসাবে। রাস্তা সম্প্রসারিত করার অনেক বিকল্প পথ রয়েছে। শহীদ মিনারের মতো সেনসেটিভ এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা রক্ষায় সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। এ শহীদমিনার স্থাপনের পেছনেও রয়েছে অনেক লড়াই ও সংগ্রামের ইতিহাস। ইতিহাস বদলানো বা মুছে ফেলা উচিৎ হবে না। রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহসভাপতি সুব্রতা রায় বলেন, শহীদ মিনারের অংশ ভেঙে রাস্তা প্রশস্ত করা গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়। প্রয়োজন হলে আশপাশের জমি অধিগ্রহণ বা দোকানপাট সরিয়ে সড়ক সম্প্রসারণ করা যেত।
তার ভাষ্য, শহীদ মিনারের জায়গা সংকুচিত করে সড়ক সম্প্রসারণ ভাষা আন্দোলনের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্রশাসক বি এম কুদরত-এ-খুদার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার, ০৭ আগষ্ট ২০২৬ ইং ০২:০১ পিএম. কুড়িগ্রামের ঐতিহ্য এবং ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার শাপলা চত্বর ভেঙে সংকোচিত করার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূতিকাগার এই শহীদ মিনার চত্বর। কুড়িগ্রামকে চেনার আইকনিক স্থাপনা। এর সৌন্দর্য সবাইকে বিমোহিত করে। উন্নয়নের বিকল্প পথ না খুঁজে মুছে ফেলা হচ্ছে কুড়িগ্রাম জেলা শহরের ঐতিহ্যকে। কুড়িগ্রাম শহরের শাপলা চত্বর এলাকায় যানজট নিরসনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের একটি অংশ অপসারণের কাজ শুরু করেছে সড়ক বিভাগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম পৌরসভা ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শহরের জিরো পয়েন্টে এ কাজ শুরু হয়। তবে শহীদ মিনারের অংশ ভেঙে সড়ক প্রশস্ত করায় স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও শাপলা চত্বর কুড়িগ্রাম-রংপুর ও কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের সংযোগস্থল। প্রশাসনের ভাষ্য, মোড়টি সরু হওয়ায় বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে অটোরিকশা, বাস ও ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এতে যানজটের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ে। জনদুর্ভোগ নিরসনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, যানজট নিরসনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের প্রায় ১৫ ফুট অংশ অপসারণ করা হবে। এতে মোড়টি প্রশস্ত হবে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হবে। তিনি আরও বলেন, শহীদ মিনার একটি সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় জেলার সকল রাজনৈতিক দল ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সওজ কেবল নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে। কাজ পরিদর্শনে গিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, শাপলা চত্বর দীর্ঘদিন ধরে শহরের যানজটের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত। শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভ অক্ষত রেখে শুধু অব্যবহৃত ও অনাবশ্যক অংশ অপসারণ করা হচ্ছে, যাতে সড়ক প্রশস্ত করা যায়। এতে শহরের কেন্দ্রস্থলে যান চলাচল আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কাজ শুরুর সময় কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মোঃ শফিকুল ইসলাম বেবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মোঃ হাসিবুর রহমান হাসিব, কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ নিজাম উদ্দিন, এনসিপির কুড়িগ্রাম জেলা আহ্বায়ক মোঃ মুকুল মিয়া, সাবেক মেয়র মোঃ আবু বকর সিদ্দিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অটোরিকশা চালক মোঃ মাইদুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বরে পৌঁছালেই প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট আটকে থাকতে হতো। মোড়টি বড় হলে সময় বাঁচবে। তবে শহীদ মিনারের ক্ষতি না করে কাজটি করা গেলে ভালো হবে। তবে সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সুশীল সমাজ ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। তাঁদের দাবি, শাপলা চত্বরসংলগ্ন রেলওয়ের খাসজমি এবং আশপাশের দোকানপাট উচ্ছেদ করেও সড়ক প্রশস্ত করা সম্ভব ছিল। কুড়িগ্রাম জেলা প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সভাপতি মোঃ সামিউল হক নান্টু জানান, এঘটনা দুঃখজনক। কুড়িগ্রামের সার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ সিদ্ধান্ত পুন ববেচনা করবার জন্য অনুরোধ জানাই কুড়িগ্রাম জেলার সিনিয়র সিটিজেন হিসাবে। রাস্তা সম্প্রসারিত করার অনেক বিকল্প পথ রয়েছে। শহীদ মিনারের মতো সেনসেটিভ এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা রক্ষায় সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। এ শহীদমিনার স্থাপনের পেছনেও রয়েছে অনেক লড়াই ও সংগ্রামের ইতিহাস। ইতিহাস বদলানো বা মুছে ফেলা উচিৎ হবে না। রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহসভাপতি সুব্রতা রায় বলেন, শহীদ মিনারের অংশ ভেঙে রাস্তা প্রশস্ত করা গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়। প্রয়োজন হলে আশপাশের জমি অধিগ্রহণ বা দোকানপাট সরিয়ে সড়ক সম্প্রসারণ করা যেত।
তার ভাষ্য, শহীদ মিনারের জায়গা সংকুচিত করে সড়ক সম্প্রসারণ ভাষা আন্দোলনের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্রশাসক বি এম কুদরত-এ-খুদার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।