তিন বছরেও শেষ হয়নি কাউখালীর সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ, পরিদর্শনে জলবায়ু ট্রাস্টের এমডি; দ্রুত চালুর দাবি এলাকাবাসীর

আপলোড সময় : ০৭-০৮-২০২৬ ০৭:০১:৩৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৭-০৮-২০২৬ ০৭:০৫:৫১ অপরাহ্ন
কাউখালী প্রতিনিধি।


পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর এবতেদায়ী মাদ্রাসা কাম সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার তিন বছর পার হলেও এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি। অর্ধেকের কম কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে দুর্যোগপ্রবণ এ এলাকার মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের সুবিধা থেকে। স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে এবং এলজিইডি পিরোজপুরের বাস্তবায়নে ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ পায় বরিশালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স রুপালি কনস্ট্রাকশন’। ২০২২ সালের ১ নভেম্বর কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে কাজ শুরুর কিছুদিন পর অর্ধেকের কম নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ বন্ধ করে দেয়। অভিযোগ রয়েছে, কাজের অধিকাংশ বিল উত্তোলন করে ঠিকাদার গা-ঢাকা দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম। এ সময় তিনি অবহেলায় পড়ে থাকা ভবনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং দ্রুত কাজ শেষ করার উপায় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।


পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম বলেন, "এই ভবনটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি সাইক্লোন সেন্টারও। তাই শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগের সময় এলাকার মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কীভাবে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা যায়, সে লক্ষ্যেই আমরা সরেজমিনে এসেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রকল্পটির স্থবিরতা ও এলাকার মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে কথা বলেন কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির। তিনি বলেন, "উপকূলীয় এই এলাকার মানুষের জন্য সাইক্লোন সেন্টারটি অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের চরম অবহেলা ও অনিয়মের কারণে কোটি কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্প আজ থমকে আছে। আমরা চাই দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং অবহেলায় পড়ে থাকা কাজ দ্রুত নতুনভাবে শুরু করে ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়া হোক।


উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, "তিন বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের কাজ অর্ধেক হয়ে পড়ে থাকবে—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে একদিকে শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট অনুভব করছে। বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে প্রশাসনিক আইনি জটিলতা নিরসন করে এই প্রকল্পের অবশিষ্টাংশ সম্পন্ন করা হোক। কাজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল বলেন, "প্রকল্পটির কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ও এলজিইডির সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


পরিদর্শনকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মোঃ মোস্তফা রায়হান, কাউখালী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হাসান লিকসন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল মাহমুদ সুমন এবং রঘুনাথপুর এবতেদায়ী মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মোঃ সোলায়মানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]