স্টাফ রিপোর্টারঃ
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের বালিজুড়া উত্তরপাড়া গ্রামে স্বজনদের সম্পত্তি কৌশলে ক্রয়, পরে সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে অতিরিক্ত টাকা দাবি এবং জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ পরশ মিয়ার বিরুদ্ধে। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী, অভিযুক্ত ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
ভুক্তভোগী মোঃ আনোয়ার খান অভিযোগ করেন, পিতৃসূত্রে পাওয়া তাদের ফুফুদের সম্পত্তি বিভিন্ন কৌশলে পরশ মিয়া ক্রয় করেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বালিজুড়া গ্রামের মাতব্বরদের উপস্থিতিতে একাধিক সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে জমির মূল্য পরিশোধ ও জমি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও পরশ মিয়া টাকা গ্রহণের পরও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেননি। বরং জমি বুঝিয়ে দিতে অতিরিক্ত এক লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আনোয়ার খান আরও বলেন, তাদের বর্গাচাষী স্বপন মিয়াকে জমিতে কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত বুধবার (৫ আগস্ট) অভিযুক্ত পক্ষ জোরপূর্বক জমি দখল করে নেয় বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে, বালিজুড়া ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সামির খান অভিযোগ করেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি ও ভুক্তভোগীর স্বজনরা মোটরযানে করে পরশ মিয়ার বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হন। তিনি আরো বলেন, পরশ মিয়া দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে গ্রামের নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজনকে নানা কৌশলে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে এবং বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা, যার মধ্যে আব্দুল হামিদ জিহাদী, জাহাঙ্গীর ও রহমতুসহ অনেকে দাবি করেন, পরশ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ওয়ারিশান সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে পক্ষাবলম্বন করে আর্থিক সুবিধা আদায় করেন। তাদের ভাষ্য, অতীতেও এ ধরনের অভিযোগে তাকে ঘিরে এলাকায় একাধিক বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বারবার সালিশ হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলেও তারা জানান।
তবে অভিযুক্ত মোঃ পরশ মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আইনগতভাবে রেজিস্ট্রি করা জমির মালিক। কারও জমি দখল করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান ভূইয়া সুমন বলেন, দরবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে সম্পূর্ণ জমি লিখে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক মাস ঘোরানোর পর দুই কাটা জমি কম লিখে দিয়ে সাত লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। জমি লিখে দেওয়ার পরও দখল বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তিনি আসলে বিএনপি নেতা হলেও সুস্থ মানুষ মনে হয় না। কারণ তিনি টাকার জন্য পাগল হয়ে গেছেন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, উক্ত বিষয়ে এখনও অভিযোগ পাইনি, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত স্বাপেক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।