কটিয়াদীতে অবৈধ গ্যাস সংযোগের দায়ে-চুনাপাথরের কারখানা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন !

আপলোড সময় : ০৫-০৮-২০২৬ ০৬:০৯:১৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০৮-২০২৬ ০৬:১২:১৭ অপরাহ্ন
কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:


কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় গড়ে ওঠা একটি চুনাপাথর কারখানায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে কারখানার তিনটি চুল্লি গুঁড়িয়ে দেয় এবং বিপুল পরিমাণ চুনাপাথর জব্দ করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে না পারলেও মামলার প্রস্তুতি চলছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সরেজমিনে দেখা যায়, পাইপলাইনের লিকেজস্থল দিয়ে এখনো গ্যাস নির্গত হচ্ছে। প্রথমে পানিতে ছোট ছোট বুদবুদ দেখে স্থানীয়রা বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করলেও পরে বুদবুদের মাত্রা বেড়ে গেলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করলে অবৈধ গ্যাস সংযোগের চেষ্টা ধরা পড়ে।


মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, কারখানাটি স্থাপনের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়নি এবং তাকে বিষয়টি জানানোও হয়নি। গ্যাস লিকেজের ঘটনা জানার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে এটি একটি অবৈধ কারখানা বলে নিশ্চিত হন। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, উচ্চচাপের পাইপলাইন থেকে গ্যাস চুরি করে কারখানায় সংযোগ দেওয়ার সময়ই লিকেজের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে প্রকৌশলীরা লিকেজ মেরামতের কাজ করছেন। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন তিতাস গ্যাসের ময়মনসিংহ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক (আঞ্চলিক অপারেশন) প্রকৌশলী সুমেধ মনি চাকমা, ব্যবস্থাপক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) শামীম হোসেন এবং কিশোরগঞ্জ জোনাল অফিসের ম্যানেজার মোশাররফ হোসেন। অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, কারখানাটি চালু হওয়ার আগেই সেখানে তিনটি চুল্লি নির্মাণ ও চুনাপাথর মজুত করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল অবৈধভাবে তিতাসের গ্যাস ব্যবহার করে কারখানা পরিচালনা করা। ভবিষ্যতে যাতে কারখানাটি আর চালু করা না যায়, সে জন্য চুল্লিগুলো সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। জব্দ করা চুনাপাথর ও চুল্লির ইট স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত স্থানীয় কয়েকজনের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। জমির মালিক অবৈধভাবে কারখানা স্থাপনের জন্য জমি ব্যবহারের সুযোগ দিলেও এ কার্যক্রমের কোনো বৈধ অনুমোদন বা লাইসেন্স ছিল না। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এম এ কুদ্দুস কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]