আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
সোমবার, ০৩ আগষ্ট ২০২৬ ইং ০৭:০১ পিএম. তিস্তার ভয়াল ভাঙন থেকে জনপদ রক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় ও উলিপুর উপজেলায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪১টি প্যাকেজে নদীতীর সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। কিন্তু প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অংশই একজন সাব-ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মূল ঠিকাদাররা কমিশনের বিনিময়ে কাজ ছেড়ে দেওয়ায় অধিকাংশ স্থানে কার্যকর তদারকি নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ফলে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, ধীরগতিতে কাজ এবং সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলমান পূর্ব সতর্কতামূলক নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ভিন্ন ভিন্ন ঠিকাদারের নামে কাজ বরাদ্দ হলেও বাস্তবে অধিকাংশ কাজ পরিচালনা করছেন সাব-ঠিকাদার আবদুস ছালাম। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে সাব-ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারকারী এই ব্যক্তি সরকার পরিবর্তনের পরও একইভাবে কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন। নদী-তীরবর্তী বাসিন্দাদের অভিযোগ, একজন সাব-ঠিকাদারের হাতে অধিকাংশ কাজ থাকায় নির্ধারিত সময় পার হলেও ভাঙনপ্রবণ অনেক স্থানে এখনও জিও ব্যাগ ডাম্পিং শেষ হয়নি। একই সঙ্গে জরুরি নদীভাঙন প্রতিরোধের একাধিক কাজও তাঁর মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এর আগে একই প্রকল্পে নিম্নমানের বালু ব্যবহার এবং নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কম সিমেন্ট সরবরাহের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাজ বাতিল করে পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রামহরি, বুড়িরহাট, কালীরমেলা ও পাড়ামৌলা গ্রামের একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, সাব-ঠিকাদার আবদুস ছালামের মাধ্যমে অধিকাংশ কাজ পরিচালিত হওয়ায় এবং যথাযথ তদারকি না থাকায় প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। বুড়িরহাট এলাকার বাসিন্দা ইফনুস আলী বলেন, ‘নদীভাঙন রোধে আশপাশের অধিকাংশ তীর সংরক্ষণ কাজই আবদুস ছালাম নামে একজন সাব-ঠিকাদার করছেন।’ কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার রামহরি গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘একজন লোকই অধিকাংশ কাজ করায় নিজের ইচ্ছামতো কাজ হচ্ছে। ফলে কাজের মানও ভালো হচ্ছে না।’ এ বিষয়ে কথা বলতে কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে ইউনাইটেড কনস্ট্রাকশনের সাইড ম্যানেজার মোঃ শরিফুল ইসলাম ও বেলাল কনস্ট্রাকশনের সাইড ম্যানেজার মোঃ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার শ্রমিকদের সঙ্গে চুক্তি করে কাজ করছেন না সাব-ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছেন, তা আমাদের কিছু জানা নেই
। উল্লিখিত দুই প্রতিষ্ঠানের সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছেন মোঃ আবদুস ছালাম। তিনি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোথাও গিয়ে জোর করে কাজ নিই না। যে ঠিকাদার কাজ পান, তারাই আমাকে ডেকে কাজ দেন। আমি নিম্নমানের কাজ করি– এ অভিযোগ সঠিক নয়।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, গত বছরসহ এ পর্যন্ত অন্তত ২০টি প্যাকেজের কাজ তিনি করেছেন। অন্য প্যাকেজগুলোর বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চাননি। কুড়িগ্রাম জেলার পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি) মোঃ ময়দুল ইসলাম বলেন, ‘নাদিম কনস্ট্রাকশন চারটি, ইউনাইটেড ব্রাদার্স দুটি, বেলাল কনস্ট্রাকশন একটিসহ একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বর্তমানে প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে একই ঠিকাদারের একাধিক কাজ থাকায় সব জায়গায় তাদের সরাসরি উপস্থিতি সম্ভব হয় না। সেসব ক্ষেত্রে তাদের প্রতিনিধি, ম্যানেজার বা সাইট ইঞ্জিনিয়াররা কাজ পরিচালনা করছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকেও সার্বক্ষণিক তদারকি রাখা হচ্ছে। ‘সালাম’ নামের ব্যক্তির বিষয়ে বলা হলে তিনি আদৌ কোনো সাব-ঠিকাদার কিনা, তা আমার জানা নেই। তবে লিখিত বা নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।’ কুড়িগ্রাম জেলার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, ‘তিস্তা তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে কোনো অনুমোদিত সাব-কন্ট্রাক্টর নেই। ই-জিপির মাধ্যমে নির্বাচিত মূল ঠিকাদারদের সঙ্গেই আমাদের চুক্তি হয়েছে। এর বাইরে কেউ কাজ করে থাকলে প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ডঃ মোঃ আতিকুর রহমান মুজাহিদ প্রতিবেদককে বলেন, ৫ আগস্ট পর্যন্ত আমাদের ‘জুলাই পদযাত্রা’র নির্ধারিত কর্মসূচি চলছে। সেই কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। তবে ৫ আগস্টের পরই আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমি নিজে সরেজমিন পরিদর্শনে যাব। তিস্তা তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সোমবার, ০৩ আগষ্ট ২০২৬ ইং ০৭:০১ পিএম. তিস্তার ভয়াল ভাঙন থেকে জনপদ রক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় ও উলিপুর উপজেলায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪১টি প্যাকেজে নদীতীর সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। কিন্তু প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অংশই একজন সাব-ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মূল ঠিকাদাররা কমিশনের বিনিময়ে কাজ ছেড়ে দেওয়ায় অধিকাংশ স্থানে কার্যকর তদারকি নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ফলে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, ধীরগতিতে কাজ এবং সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলমান পূর্ব সতর্কতামূলক নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ভিন্ন ভিন্ন ঠিকাদারের নামে কাজ বরাদ্দ হলেও বাস্তবে অধিকাংশ কাজ পরিচালনা করছেন সাব-ঠিকাদার আবদুস ছালাম। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে সাব-ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারকারী এই ব্যক্তি সরকার পরিবর্তনের পরও একইভাবে কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন। নদী-তীরবর্তী বাসিন্দাদের অভিযোগ, একজন সাব-ঠিকাদারের হাতে অধিকাংশ কাজ থাকায় নির্ধারিত সময় পার হলেও ভাঙনপ্রবণ অনেক স্থানে এখনও জিও ব্যাগ ডাম্পিং শেষ হয়নি। একই সঙ্গে জরুরি নদীভাঙন প্রতিরোধের একাধিক কাজও তাঁর মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এর আগে একই প্রকল্পে নিম্নমানের বালু ব্যবহার এবং নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কম সিমেন্ট সরবরাহের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাজ বাতিল করে পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রামহরি, বুড়িরহাট, কালীরমেলা ও পাড়ামৌলা গ্রামের একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, সাব-ঠিকাদার আবদুস ছালামের মাধ্যমে অধিকাংশ কাজ পরিচালিত হওয়ায় এবং যথাযথ তদারকি না থাকায় প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। বুড়িরহাট এলাকার বাসিন্দা ইফনুস আলী বলেন, ‘নদীভাঙন রোধে আশপাশের অধিকাংশ তীর সংরক্ষণ কাজই আবদুস ছালাম নামে একজন সাব-ঠিকাদার করছেন।’ কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার রামহরি গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘একজন লোকই অধিকাংশ কাজ করায় নিজের ইচ্ছামতো কাজ হচ্ছে। ফলে কাজের মানও ভালো হচ্ছে না।’ এ বিষয়ে কথা বলতে কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে ইউনাইটেড কনস্ট্রাকশনের সাইড ম্যানেজার মোঃ শরিফুল ইসলাম ও বেলাল কনস্ট্রাকশনের সাইড ম্যানেজার মোঃ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার শ্রমিকদের সঙ্গে চুক্তি করে কাজ করছেন না সাব-ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছেন, তা আমাদের কিছু জানা নেই
। উল্লিখিত দুই প্রতিষ্ঠানের সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছেন মোঃ আবদুস ছালাম। তিনি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোথাও গিয়ে জোর করে কাজ নিই না। যে ঠিকাদার কাজ পান, তারাই আমাকে ডেকে কাজ দেন। আমি নিম্নমানের কাজ করি– এ অভিযোগ সঠিক নয়।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, গত বছরসহ এ পর্যন্ত অন্তত ২০টি প্যাকেজের কাজ তিনি করেছেন। অন্য প্যাকেজগুলোর বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চাননি। কুড়িগ্রাম জেলার পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি) মোঃ ময়দুল ইসলাম বলেন, ‘নাদিম কনস্ট্রাকশন চারটি, ইউনাইটেড ব্রাদার্স দুটি, বেলাল কনস্ট্রাকশন একটিসহ একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বর্তমানে প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে একই ঠিকাদারের একাধিক কাজ থাকায় সব জায়গায় তাদের সরাসরি উপস্থিতি সম্ভব হয় না। সেসব ক্ষেত্রে তাদের প্রতিনিধি, ম্যানেজার বা সাইট ইঞ্জিনিয়াররা কাজ পরিচালনা করছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকেও সার্বক্ষণিক তদারকি রাখা হচ্ছে। ‘সালাম’ নামের ব্যক্তির বিষয়ে বলা হলে তিনি আদৌ কোনো সাব-ঠিকাদার কিনা, তা আমার জানা নেই। তবে লিখিত বা নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।’ কুড়িগ্রাম জেলার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, ‘তিস্তা তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে কোনো অনুমোদিত সাব-কন্ট্রাক্টর নেই। ই-জিপির মাধ্যমে নির্বাচিত মূল ঠিকাদারদের সঙ্গেই আমাদের চুক্তি হয়েছে। এর বাইরে কেউ কাজ করে থাকলে প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ডঃ মোঃ আতিকুর রহমান মুজাহিদ প্রতিবেদককে বলেন, ৫ আগস্ট পর্যন্ত আমাদের ‘জুলাই পদযাত্রা’র নির্ধারিত কর্মসূচি চলছে। সেই কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। তবে ৫ আগস্টের পরই আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমি নিজে সরেজমিন পরিদর্শনে যাব। তিস্তা তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।