কটিয়াদীতে নদীর তলদেশে পাইপ কেটে গ্যাস চুরির চেষ্টা

আপলোড সময় : ০২-০৮-২০২৬ ০৬:১২:৩২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০৮-২০২৬ ০৬:১২:৩২ অপরাহ্ন
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশে ৮ ইঞ্চি ব্যাসের গ্যাস সঞ্চালন লাইন কেটে একটি চুনের কারখানায় গ্যাস নেওয়ার চেষ্টা চালানোয় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। এই অবৈধ তৎপরতার কারণে দেড় মাস ধরে গ্যাস উদগিরণ হচ্ছে। এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে তিতাসের লোকজন মেরামতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পানি বেশি থাকায় তারা ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না। ঘটনাটি ঘটেছে কটিয়াদী উপজেলার কাজীরচর বাজারের কাছে। গতকাল শনিবার সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, তিতাসের ময়মনসিংহের ভালুকা জোনের ডিজিএম (উপমহাব্যবস্থাপক) সুমেধ মনি চাকমার তত্ত্বাবধানে গ্যাস কোম্পানির কর্মীরা যন্ত্র বসিয়ে মেরামতের চেষ্টা করছেন। ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ দিয়ে প্রায় চার দশক আগে নরসিংদীর মনোহরদী থেকে কিশোরগঞ্জ শহরে গেছে তিতাস গ্যাস সঞ্চালন লাইনের পাইপ। কাজীরচর এলাকায় সম্প্রতি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাজনা মহল এলাকার দেলোয়ার হোসেন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি ১৭ শতাংশ জায়গা তিন বছরের চুক্তিতে ভাড়া নিয়েছেন চুনের কারখানা করার কথা বলে। এলাকার এখলাছ উদ্দিন বাবু জানান, চুনের কারখানার জন্য চোরাই গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। এখন পাইপ থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। এলাকার অনেকে জানান, রাতের আঁধারে প্রায়ই একের পর এক গাড়ি আসত। তারা ধারণা করছেন, চুনের কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেন কারিগর এনে প্রায় দেড় মাস আগে পাইপলাইন কেটে চোরাই গ্যাসলাইন নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন এলাকাবাসী বিষয়টি টের পাননি। কিন্তু টানা বৃষ্টিপাত শুরু হলে জায়গাটি ডুবে যায় ।এই কারনে কাজ করতে না পেরে তারা চলে যায়।কিন্তু পাইপরকাটা অংশ দিয়ে অবিরাম গ্যস বের হতে থাকে।গ্যাসের চাপে পানি ছিটকে ছিটকে উপরে উঠছিল।পুরো এলাকায় গ্যাসের ঝাঁজলো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক ব্যাক্তি বলেন ,তিনি জানতে পেরেছেন,চুনের কারখানার আড়ালে চোরাই পথে গ্যাস পাচারের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। পাইপলাইনের গ্যাস সুরক্ষিত ব্যারেলে ভরে পাচার করার পরিকল্পনা ছিল। এর পেছনে এলাকার প্রভাবশালী চক্রও জড়িত। তিতাসের ডিজিএম সুমেধ মনি চাকমা জানিয়েছেন, বর্ষার পানি ছাড়াও নদীর তলদেশে বালু থাকায় কাজ করা যাচ্ছে না। একদিকে সেচ করা হচ্ছে, অন্যদিকে বালু চুয়ে পানি ঢুকে যাচ্ছে। তবে তিনি আশা করছেন, শিগগির মেরামত করা যাবে। মেরামত হওয়ার পর অফিসের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে নিয়মিত মামলা করা হবে। কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাহিদ হাসান খানও এলাকা পরিদর্শন করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেরামতের জন্য সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। তিতাস কোম্পানির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা হলে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে। তবে কথিত অভিযুক্তরা কেউ এলাকায় নেই। তিতাসের পক্ষ থেকেও নিয়মিত মামলা করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান, (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, এতদিন ধরে পাইপ লাইন কাটার মত বড় একটা অপরাধ হচ্ছে-কিন্ত এলাকাবাসি কেউ টেরই পেল না।প্রশাসনকেও জানাল না; এটি বিস্ময়কর। চুন কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেন এলাকায় নেই-পলাতক রয়েছে।তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]