লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার নোয়াগড় স্বামীর বাড়ি থেকে জাকিয়া সুলতানা তন্নী (২২) নামে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, হত্যা করে লাশ ঘরের ভেতর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। রোববার (২৬-জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার নগর পশ্চিমহাটি এলাকায় স্বামী জিল্লুর রহমানের বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে হাটুভাঙ্গা ও রক্তাক্ত অবস্থায় তন্নীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে আজমিরীগঞ্জ থানা পুলিশ। নিহত তন্নী উপজেলার শিবপাশা গ্রামের বং মহল্লার মৃত ডা. মোখলেসুর রহমানের মেয়ে। ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই তন্নীর বিয়ে হয় আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকার নগর পশ্চিমহাটি এলাকার মুজিবুর রহমান ওরফে মোজাই মিয়ার ছেলে জিল্লুর রহমানের সঙ্গে। জিল্লুর রহমান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঢাকা বনানী সদর দপ্তরে সৈনিক হিসেবে কর্মরত। সে সরকারি চাকরি করায় বিয়ের সময়ই পর্যাপ্ত পরিমাণ উপহার সামগ্রী দেয়া হয় যৌতুক হিসেবে।
কয়েকদিন আগে তিনি ছুটিতে বাড়িতে আসেন। তন্নীকে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালায়। বিষয়টি তন্নী তার পরিবারকে অবগত করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বামীর ঘরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর সন্ধ্যায় ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হবিগঞ্জ জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনার পর থেকেই স্বামী জিল্লুর রহমানসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মগোপনে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বামীর ঘরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর সন্ধ্যায় ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হবিগঞ্জ জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনার পর থেকেই স্বামী জিল্লুর রহমানসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মগোপনে রয়েছেন।
নিহতের বোন মফু আক্তার অভিযোগ করেন, ‘আমার বোনকে হত্যা করে পরে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। লাশের শরীরের বিভিন্ন আঘাতের চিহ্নই সেটি প্রমাণ করে। এ বিষয়ে আজ সোমবার আজমিরীগঞ্জ আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করব।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ আকবর আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল শেষে সন্ধ্যায় ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হবিগঞ্জ জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে শশুর বাড়ির লোকজন পলাতক থাকায় সন্দেহের তীর আরও ঘনীভূত হচ্ছে।