নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের বহুল প্রতীক্ষিত কালুরঘাট সড়ক-রেল সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় জনমনে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। একের পর এক কারিগরি ত্রুটি, নকশা পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক জটিলতায় দেশের অন্যতম বৃহৎ এই অবকাঠামো প্রকল্পটি দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১০ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকায়।
২০২৫ সালের ১৪ মে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কালুরঘাট সেতু প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের নভেম্বরের মধ্যে পরামর্শক নিয়োগ এবং ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সেতুটি চালু হলে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার যানবাহন চলাচল করতে পারবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রতিদিন ২০ জোড়া ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে। বর্তমানে ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত প্রায় ৯৫ বছর পুরোনো কালুরঘাট সেতুর ওপর নির্ভর করেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের লাখো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন। মেয়াদোত্তীর্ণ এই সেতুর বিকল্প হিসেবে নতুন সেতু নির্মাণকে সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে সোমবার (২৭ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নাগরিক ছাত্র ঐক্যের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও বোয়ালখালীর কৃতি সন্তান মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয় “ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের এক বছর পার হলেও নির্মাণকাজ শুরু না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের বহু বছরের স্বপ্নের এই প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রকল্পের ব্যয় বাড়লেও বাস্তব অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী বলেন কালুরঘাট সেতু শুধু একটি সেতু নয়, এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র। নতুন সেতু নির্মিত হলে বোয়ালখালী, পটিয়া, রাঙ্গুনিয়া, রাউজানসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
তিনি আরো বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় সাধারণ মানুষ হতাশ হয়েছে। তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করতে হবে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে দ্রুত প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা নিরসন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করারও আহ্বান জানান।