নিজস্ব প্রতিবেদক
*দিনাজপুরের বীরগঞ্জে চার বছর বয়সী শিশু ধর্ষণ মামলার অভিযুক্তকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।*
১। র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনসহ অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ মামলার আসামি সাদেকুল ইসলাম (৩২) কে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গতকাল রাতে ঢাকার বিজিবি হেডকোয়ার্টার্স সংলগ্ন পিলখানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সাদেকুল বীরগঞ্জ থানাধীন ছয়ঘটি গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে।
৩। মামলার এজাহার থেকে জানা যায় যে, ধৃত আসামি সম্পর্কে ভুক্তভোগী ঐ শিশুটির ভাই হয়। সেই সুবাদে ধৃত আসামি মাঝে মাঝে ঐ শিশুটির বাড়িতে যাতায়াত করতো। বাড়িতে যাতায়াতের সময় আসামি সাদেকুল ঐ শিশুকে বিভিন্ন খাবার কিনে দিত। একপর্যায়ে শিশুটির মা জানতে পারে যে, খাবার কিনে দেওয়ার ফাঁকে সাদেকুল শিশুটির বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিত। শিশুটির মা তার পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি জানালে পরিবারের লোকজন আসামি সাদেকুলকে এইরকম কাজ না করার জন্য সাবধান করে দেয়। ফলে আসামি সাদেকুল শিশুটির পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হয়।
৪। গত ০৩ জুলাই, ২০২৬ তারিখ বিকাল ০৫.৩০ ঘটিকার দিকে শিশুটি তার ছয় বছর বয়সী চাচাতো ভাইয়ের সাথে বাড়ির বাইরে খেলা করছিল । সেই সময় আসামি সাদেকুল সবার অগোচরে চিপস, চকলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে দুজন শিশুকে তার সাথে নিয়ে যায়। আসামি সাদেকুল শিশুদের লক্ষীকান্দার নামক বিলের কাছে নিয়ে গিয়ে ভুক্তভোগী ঐ শিশুকে পাটের জমিতে নিয়ে গিয়ে জোর করে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগী ঐ শিশুটি চিৎকার শুরু করলে পাটক্ষেতের বাইরে থাকা শিশুটিও চিৎকার শুরু করে। চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন সেখানে গেলে আসামি সাদেকুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন শিশুটিকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। কিন্তু সন্ধ্যা থেকে শিশুটির বমি শুরু হলে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঐ শিশুটিকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
৫। এই ঘটনায় গত ৮ জুলাই, ২০২৬ ভুক্তভোগী ঐ শিশুটির মা বাদী হয়ে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানায় সাদেকুলকে আসামি করে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন ( মামলা নং-১১ )। ঘটনার পরে থেকেই আসামি সাদেকুল আত্মগোপনে চলে যায়।
৬। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব-১৩ কর্তৃক গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবহিকতায় র্যাব-১৩, সিপিসি-১, দিনাজপুর ক্যাম্প এবং সদর কোম্পানী, র্যাব-১০, কেরানীগঞ্জ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখ রাত ১০.০০ ঘটিকার সময় ঢাকা মহানগরীর ধানমন্ডি থানাধীন পিলখানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানার চারবছর বয়সী শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মোঃ সাদেকুল ইসলাম (৩২), পিতা- মোঃ আব্দুল খালেক,সাং -ছয়ঘটি, ডাকঘর-সনকা, থানা-বীরগঞ্জ, জেলা-দিনাজপুর'কে গ্রেফতার করে।
৭। গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া সমাজ থেকে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণের মতো মারাত্মক অপরাধ দমনে র্যাবের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
...মূলকপি স্বাক্ষরিত...
বিপ্লব কুমার গোস্বামী
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
সিনিয়র সহকারী পরিচালক
(মিডিয়া)
অধিনায়কের পক্ষে