আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
‘মনটা খুবই খারাপ, শেষমেশ বাড়ি-ভিটাটাও তিস্তা নদীত চলি গেল। কারো একনা জাগা পাইলে ঘর তুলি থাকনু হয়। বাপের দেড় একর জমি ছিল, সব নদী খায় গ্যাছে। বাড়ি-ভিটা আছিল, তাও আজ গেল।’
শুক্রবার (২৪ জুলাই) কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ গ্রামে নদীভাঙনের দৃশ্য দেখতে গেলে সর্বস্ব হারানোর বেদনায় এসব কথা বলেন ক্ষতিগ্রস্ত মোঃ মাঈদুল ইসলাম (৩৫)। তিস্তার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় গত তিন দিনে প্রায় ৫০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে একটি স্কুলসহ প্রায় দুই শতাধিক বাড়িঘর।
নদীভাঙন প্রতিরোধে ইতিমধ্যে ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তীব্র নদীভাঙনে বেশিরভাগ জিও ব্যাগ বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রাম দুটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন থেকে রক্ষা পায়নি মসজিদ, বাড়িঘর, হাজার হাজার গাছপালা ও ফসলি জমি।
চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রবল বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। নদীর প্রবল স্রোত ও বাতাসের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই কিছুক্ষণ পরপর ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও সেগুলো দ্রুত বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁর মোঃ মাঈদুল ইসলাম (৩৫), মোঃ ইয়াকুব আলী (৪৫), মোঃ মখলেছ (৩০), মোঃ ফকরুল (৪০), মোঃ শফিকুল (৩০), মোঃ হাজির উদ্দিন (৫০), মোঃ নাজির উদ্দিন (৪০), মোঃ হান্নান (৩৫), মোঃ রবিউল (৪০), মোঃ সোনা মিয়া (৪৫), মোঃ আব্দুল লতিফ (৪০), মোঃ মমিনুল ইসলামসহ (২৫) প্রায় ৫০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার চর বিদ্যানন্দ গ্রামের মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, গত দুই দিনে আমাগো চর বিদ্যানন্দ গ্রামের ২০টি ঘরবাড়ি নদীত চলি গেইছে। আমাগো একটাই মসজিদ ছিল, সবাই মিলি নামাজ পড়তাম, সেই মসজিদ ও আমাগো বাড়ি সবই নদী খায়া নিলো। এহন যামু কই।
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার তৈয়বখাঁ গ্রামের মোঃ মমিনুল ইসলাম বলেন, বাড়িঘর ভাইঙা এহন খোলা আকাশের নিচে বউ-ছাওয়াল লইয়া কষ্ট কইরা আছি। আমাগোরে দেহি কেউ দেহে না। যেভাবে নদী ভাঙতাছে, তাতে করি আমাগোও থাকবো না।
এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ তানজিলা তাসনিম জানান, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো ইতিমধ্যে পরিদর্শন করে জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে ভাঙন প্রতিরোধে আরও জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করা হবে।