বোয়ালখালীতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া নৈরাজ্য, ক্ষুব্ধ সাধারণ যাত্রীরা: মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী

আপলোড সময় : ২২-০৭-২০২৬ ১১:৪৩:১৭ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২২-০৭-২০২৬ ১১:৪৫:০৯ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক


চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা/সিও অফিস থেকে পূর্ব কালুরঘাট পর্যন্ত টেম্পুর নির্ধারিত ভাড়া ১০ টাকা। অথচ মাত্র প্রায় ৭০০ মিটার দীর্ঘ কালুরঘাট সেতু পার হয়ে পশ্চিম কালুরঘাটে যেতে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ২৫ টাকা। অর্থাৎ, সেতু পার হওয়ার জন্য অতিরিক্ত ১৫ টাকা গুনতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ ভাড়া নৈরাজ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং নিয়মিত যাত্রীরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টেম্পু চালকরা শাকপুরা থেকে যাত্রী উঠিয়ে কালুরঘাট এলাকায় নামিয়ে দিলেও পুরো ২৫ টাকা ভাড়া আদায় করছেন। এমনকি এ নিয়ে কোনো যাত্রী প্রতিবাদ করলে অনেক ক্ষেত্রে চালক ও তাদের সহযোগীদের অসৌজন্যমূলক আচরণেরও শিকার হতে হচ্ছে।


ফলে প্রতিদিন শত শত মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করছেন। স্থানীয়দের দাবি, একই রুটের অল্প দূরত্বে ভাড়ার এমন বিশাল পার্থক্যের কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে সাধারণ মানুষের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নিম্ন আয়ের মানুষ এবং দৈনিক কর্মজীবীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। ওই সময় অনেক টেম্পু চালক ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করেন এবং যাত্রীদের কোনো আপত্তি গ্রহণ করা হয় না। বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন। প্রতিদিনের এই ভোগান্তির স্থায়ী সমাধান কবে হবে এ প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।


এ বিষয়ে নাগরিক ছাত্র ঐক্য কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সদস্য সচিব মোঃ মোস্তানছিরুল হক চৌধুরী বলেন, “আমি বিষয়টি দুইবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে সরাসরি ফোন করে জানিয়েছি। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মোন্নাকেও অবহিত করেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন, “সন্ধ্যার পর ভাড়া নৈরাজ্য আরও বেড়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। কালুরঘাট সেতু পারাপারের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ভাড়া তালিকা কার্যকর করা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা এবং যাত্রীদের হয়রানি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।”


এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, বিআরটিএ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভাড়া নৈরাজ্যের অবসান ঘটবে এবং সাধারণ যাত্রীরা স্বস্তি ফিরে পাবেন। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কবে এই দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]