আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় মৃত এক ব্যক্তির নাম ইউনিয়ন বিএনপির নবঘোষিত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর কুড়িগ্রাম জেলাজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়ন বিএনপির নবগঠিত কমিটির একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
একই কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
সোমবার (২০ জুলাই) কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোঃ গোলাম রসুল রাজা ও সদস্য সচিব মোঃ মোখলেছুর রহমান সই করা রামখানা ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে ১৮ নম্বর সদস্য হিসেবে রামখানা ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের নাখারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মৃত আফাজ উদ্দিনের নাম রয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, আফাজ উদ্দিন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। তার জানাজায় নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছিলেন। অথচ প্রায় পাঁচ মাস পর প্রকাশিত কমিটিতে তার নাম থাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, শুধু মৃত ব্যক্তিই নন; কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও জায়গা পেয়েছেন। এছাড়া গত ১৭ বছরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না, এমন অনেককে পদ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আব্দুল মান্নান ফেসবুকে আফাজ উদ্দিনের কবর জিয়ারতের একটি ছবি পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোঃ গোলাম রসুল রাজার নেতৃত্বে রামখানা ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের নেতারা তার কবর জিয়ারত ও দোয়া করেছিলেন।’
মৃত আফাজ উদ্দিনের স্ত্রী মোছাঃ মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী প্রায় পাঁচ মাস আগে মারা গেছেন। মৃত্যুর পরদিন বিএনপির নেতারা কবর জিয়ারত ও দোয়া করতে এসেছিলেন।’
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ গোলাম রসুল রাজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক মোঃ সবুর উদ্দিনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সদস্য সচিব মোঃ হাশেম আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে ফোন কেটে দেন।
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মোঃ শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, ‘প্রয়াত আফাজ উদ্দিনকে যদি কমিটিতে রাখা হয়ে থাকে, সেটি অনাকাঙ্ক্ষিত। এই ভুলটি দ্রুত সংশোধন করার নির্দেশনা দেওয়া হবে।