সাবেক সেনা সদস্য স্বামীর বিরুদ্ধে সন্তানের ভরণ পোষন না দেয়া, যৌতুক, শারীরিক বিকৃতি ও জমি দখলের অভিযোগ সাবেক স্ত্রীর

আপলোড সময় : ১৯-০৭-২০২৬ ০৫:৩৪:৪৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-০৭-২০২৬ ০৫:৩৪:৪৯ অপরাহ্ন
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরের অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মোঃ মঞ্জুরুল হকের বিরুদ্ধে প্রতারণা, যৌতুক দাবি, শারীরিক নির্যাতন, চিকিৎসাগত অপরাধ, সন্তানদের ভরণ পোষণ না দেয়া ও জমি দখলের অভিযোগ করেছে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী চার সন্তানের জননী মোছাঃ জেসমিন আক্তার ডলি। রবিবার (১৯জুলাই) ময়মনসিংহের গৌরীপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিন কন্যা সন্তান নিয়ে এসে এই অভিযোগ করেন তনি। তিনি তাঁর চার কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ রক্ষা এবং পাষণ্ড স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেসমিন আক্তার ডলি জানান, ১৯৯৯ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় যশোর সেনানিবাস সংলগ্ন এলাকায় বাসায় থাকাকালীন চিকিৎসার সূত্রে মঞ্জুরুল হকের সাথে তার পরিচয় হয়| পরে অবুঝ বয়সের সরলতার সুযোগ নিয়ে কৌশলে সই করিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকেই মঞ্জুরুল হক যৌতুকের দাবি এবং সীমাহীন নির্যাতন শুরু করে। ১৫ বছর বয়সে প্রথম সন্তান গর্ভে আসার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম নির্যাতন করা হতো এবং দুটি গর্ভ জোরপূর্বক নষ্ট (অ্যাবোরশন) করানো হয়।

ভুক্তভোগী নারী আরও অভিযোগ করেন, মঞ্জুরুল হক তার ˆনতিক স্খলন আড়াল করতে এবং তাকে অচেতন রাখতে 'মাসকুরিন' নামক তীব্র ভেষজ ওষুধ খাইয়ে বিকৃত নির্যাতন চালাত| এমন কি চতুর্থ সন্তান জন্মের সময় তার অজান্তে শল্যচিকিৎসকদের প্রভাবিত করে স্থায়ী বন্ধ্যাত্বকরণ (লাইগেশন) করিয়ে দেওয়া হয়|

সবচেয়ে জঘন্যতম অভিযোগ তুলে ধরে জেসমিন আক্তার বলেন, ২০২২ সালের ১৭ মে গৌরীপুরের বাড়ীওয়ালাপাড়া রোডে মঞ্জুরুল হকের পরিচালিত 'আছিয়া ডেন্টাল ক্লিনিক'-এ যৌনাঙ্গ সংকুচিত করার কথা বলে আইনগত এখতিয়ার ছাড়াই একটির জায়গায় পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়। এর ফলে তিনি স্থায়ীভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন, যার প্রমাণ¯^রূপ ভয়েস রেকর্ড সংরক্ষিত আছে। এছাড়াও শিক্ষা জীবন ধ্বংসের উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি রেজিস্ট্রেশনে তার ও বাবা-মায়ের নাম সম্পূর্ণ ভুল লিপিবদ্ধ করে জালিয়াতি করা হয়।

বক্তব্যে তিনি আরও জানান, চার কন্যা সন্তানের জন্ম হওয়ার পর মঞ্জুরুল হক তাদের কোনো ভরণ পোষণ না দিয়ে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সন্তানদের নিয়ে বর্তমানে জেসমিন আক্তার ময়মনসিংহ শহরের কাচিঝুলি ইটাখলা রোড এলাকায় বসবাস করছেন। বড় মেয়ে কিরগিজস্তান সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস এবং অন্য তিন মেয়ে ময়মনসিংহের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে।

জেসমিন আক্তার বলেন, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ ও ভরণ পোষণ নিয়ে ইতিপূর্বে পারিবারিক সালিশ এবং গৌরীপুর থানায় আপোষনামা হলেও মঞ্জুরুল হক কোনো শর্ত মানেনি| উল্টো জেসমিন আক্তারের নামে থাকা ৩৫ শতাংশ কেনা বৈধ জমি বেদখল করে উচ্ছেদ করতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে এবং প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে অসহায় শিক্ষার্থী চার কন্যা সন্তানের ও নিজের জীবন রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত মো.মঞ্জুরুল হকের নাম্বারে (০১৭১৬০৮৪২৯৮) একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।

 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]