ভাঙা সেতুতে উঠতে লাগে কাঠের নড়বড়ে সাঁকো

আপলোড সময় : ১৯-০৭-২০২৬ ০৪:১৬:৩৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-০৭-২০২৬ ০৪:১৬:৩৫ অপরাহ্ন
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:- কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় ২৩ বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে বেরুবাড়ী বাহেজের ঘাট সেতু। অর্ধেক সেতু একেবারেই বিলীন হয়ে গেছে, বাকিটাও মাঝ বরাবর ভেঙে পড়ে আছে। বিকল্প না থাকায় সেই সেতু দিয়েই ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার করছেন ১৫ গ্রামের অসংখ্য মানুষ। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। কাঠের সাঁকো দিয়ে অর্ধেকটা পেরিয়ে সেই সেতুতে উঠতে হয়। কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলা সদর থেকে ৮-৯ কিলোমিটার দূরবর্তী বেরুবাড়ী ইউনিয়নের পাশ দিয়ে প্রবাহিত বেরুবাড়ীর ছড়াটি একসময় দুধকুমার নদীর শাখা ছিল। কালের পরিক্রমায় ক্রমাগত ভাঙনে নদীটির প্রবাহ ঘুরে গেছে। বিচ্ছিন্ন সেই শাখাটিকে স্থানীয়রা ছড়া নামেই ডাকেন। শুষ্ক মৌসুমে তাতে হাঁটুপানি থাকলেও বর্ষায় দুধকুমারের কূল উপচে পানিতে টইটম্বুর হয়ে যায় ছড়াটি। তখনই দুর্ভোগ পোহাতে হয় আশপাশের গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের। জানা যায়, ১৯৯৪ সালে এলজিইডির অর্থায়নে ছড়ায় নির্মিত হয় বাহেজের ঘাট সেতুটি। এটি ধরে যাতায়াত করেন মীরের ভিটা, চর বেরুবাড়ী, মাস্টারপাড়া, মণ্ডলপাড়া, সবুজপাড়া, আকন্দপাড়া, হাজীপাড়া, চেয়ারম্যানপাড়া, চর রহমানের কুটি, মাদারগঞ্জ, জালির চর, কাইয়ের চর, শোলমারীসহ ১৫ গ্রামের মানুষ। ২০০৩ সালে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে সেতুটির পশ্চিমের অর্ধেক অংশ ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় গ্রামগুলোর। এভাবে চলে প্রায় ১০ বছর। ২০১৩ সালে তৎকালীন কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মোত্তালেব নিজ অর্থায়নে সেখানে সেতুর ভাঙা অংশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে একটি কাঠের সাঁকো তৈরি করে দেন। সেই সাঁকো ধরে সেতুতে উঠে যাতায়াত করেন মানুষজন। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময়ে তা নড়বড়ে হয়ে গেছে। পাড়ের সঙ্গে সংযোগও প্রায় বিচ্ছিন্ন। পিলারগুলোও হেলে পড়েছে। পচে নষ্ট হয়ে গেছে পাটাতনের কাঠ। একটু অসাবধানতায় সেখানে পা ঢুকে যায়। নড়বড়ে সে কাঠের সাঁকো দিয়ে ভাঙা সেতুতে উঠে একটু এগিয়ে গেলে দেখা যায় আরও ভয়াবহ দৃশ্য। সেতুর দাঁড়িয়ে থাকা অংশের মাঝ বরাবর ঢালাই পাটাতন ভেঙে দেবে গেছে। পাশে বেঁধে দেওয়া বাঁশ ধরে খাড়া সে পাটাতন বেয়ে উঠতে ও নামতে হয়। বৃষ্টিতে পিচ্ছিল হলে ওঠা-নামা সম্ভব হয় না কোনোভাবেই। তখন হেঁটে পারাপারও বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে এ অবস্থাতেও যাদের ভাঙা সেতুটি পাড়ি দিতেই হয় তারা হরহামেশাই দুর্ঘটনার শিকার হন। ভয়ে শিশুশিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান না অভিভাবকরা। ফলে বর্ষার এ সময়টাতে স্কুল কামাই নিয়মিত ঘটনা গ্রামগুলোয়। ভরা বর্ষায় অনেকেই কলাগাছের ভেলা এবং শুষ্ক মৌসুমে হেঁটে হাঁটুপানি মাড়িয়ে যাতায়াত করেন। কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার চর বেরুবাড়ীর মোঃ আব্দুল আলীম, মোহাম্মদ আলী, মোঃ আয়নাল হক, মোঃ মনছুর আলী মোঃ হোসেন আলীসহ বাসিন্দাদের অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, সরকার আসে, সরকার যায়। তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। একটি সেতুর জন্য অনেক আবেদন নিবেদন করেও কোনো ফল মেলেনি। মীরের ভিটার আব্দুস শাফি বলেন, ‘আমরা অভাগাই রয়ে গেলাম। ছোট শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারে না। বৃদ্ধরা এসে সেতুর কাছে আতঙ্কে বসে থাকেন। মণ্ডলপাড়ার রফিকুল ইসলাম বলেন, কেউ অসুস্থ হলে রাত-বিরাতে তাদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার বেরুবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সোলায়মান আলী বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ নিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমের পর খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম-১ আসনের এমপি মোঃ আনোয়ারুল হোসেনকে বারবার ফোন করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছিলেন এইচ এম খোদাদাদ হোসেন। গতকাল শনিবার রাতে ফোন করলে তিনি বলেন, আমি নাগেশ্বরী উপজেলায় অল্প কিছুদিন দায়িত্বে ছিলাম। এখন অন্যত্র বদলি হয়ে গেছি। ওই সেতুর বিষয়টি আমি জানি না। নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ গোলাম রসুল রাজা বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমি ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করব যেন দ্রুত সেখানে একটি সেতু তৈরির ব্যবস্থা করা হয়।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]