কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা, গুলিবর্ষণ, কারাগারে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

আপলোড সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ১০:২১:২০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ১০:২৫:২৫ অপরাহ্ন
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি


গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী সামাজিক উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা, গুলিবর্ষণ, প্রাণনাশের হুমকি এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মাসুদুল হাসান শামীমকে বুধবার (১৫ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অভিযোগকারী মো. মাহফুজুর রহমান নাইম (৩০) উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের পোটান গ্রামের বাসিন্দা এবং মফিজ উদ্দিনের ছেলে। অভিযোগে রুহুল আমিন (৫০), তার ছেলে আবিদ (২২), শাহিন (২৫), সেলিম (৩৫), মাসুদুল হাসান শামীম (৩৮) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জে মাদকের বিস্তার রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষার লক্ষ্যে মোক্তারপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া, বড়হড়া ও পোটান গ্রামের বাসিন্দাদের সমন্বয়ে একটি মাদক নির্মূল কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পর থেকেই এলাকায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত ১১ জুলাই নোয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে রোমান (৩০) কে ২০৫ পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরদিন ১২ জুলাই কালীগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় মামলা (নম্বর-১৯) রুজু হয়। ওই মামলায় রোমানের পাশাপাশি আবিদ ও শাহিনকে আসামি করা হলেও তারা পলাতক রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলা দায়েরের পর থেকেই পলাতক আসামি ও তাদের সহযোগীরা মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে।


একপর্যায়ে মামলার আসামিদের জামিনের খরচ এবং মাদক ব্যবসার ক্ষতির অজুহাতে কমিটির সদস্যদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয়দের উদ্যোগে গত ১৪ জুলাই বিকেল ৪টায় নোয়াপাড়া চাররাস্তার মোড়ে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সভা পণ্ড করার উদ্দেশ্যে বিকেল ৪টার আগেই রুহুল আমিন ও তার ছেলে আবিদের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি একটি মাইক্রোবাস, একটি প্রাইভেটকার এবং ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা নোয়াপাড়া চাররাস্তার মোড়ে এসে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়িভাবে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যদের নাম ধরে ডেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, “মাদক, সন্ত্রাস কিংবা জনশৃঙ্খলা বিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।”

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]