কিশোর অপরাধ ও আমাদের সমাজ-আতিকুর রহমান নগরী

আপলোড সময় : ১৫-০৭-২০২৬ ০৯:৫২:৫৮ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-০৭-২০২৬ ০৯:৫৭:৪৩ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক 

বন্ধন, মূল্যবোধ সব কিছু যেন ভেঙে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় পরিবারে সনত্দানদের আগের মতো গাইড করা হচ্ছে না। ব্রোকেন ফ্যামিলির সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন। এসব ফ্যামিলিতে বেড়ে ওঠা সনত্দানরা পাচ্ছে না বাবা-মা দুজনেরই পরিচর্যা। এর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সনত্দানদের সামাজিকীকরণে।



অসৎ সঙ্গে পড়ে এবং অনেক সময় জীবিকা অর্জনের জন্য নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশু-কিশোররা জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধে। শুধু নিম্নবিত্ত কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্ত সমাজেই নয়, উচ্চবিত্ত সমাজের শিশু-কিশোররাও ছিনতাই-রাহাজানিতে জড়িয়ে পড়েছে মাদক সেবন কিংবা অন্য কোনো কারণে টাকা সংগ্রহের জন্যই নয়, রোমাঞ্চের খোজেও তারা এসব অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। এ ৰেত্রে কেবল টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং ভায়োলেন্সপূর্ণ ভিডিও গেমসকেও দায়ী করা যায়। কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা ও মানব অধিকার সংগঠনের জরিপে দেখা গেছে, অপরাধের সঙ্গে জড়িত শিশুদের শতকরা ৯০ জনই মাদকসেবী। ফেনসিডিল, গাজা, হেরোইনের মতো মরণ নেশায় বুদ হয়ে থাকে তারা। আর এ নেশার খরচ জোগাতেই অপরাধ জগৎ থেকে তাদের বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে।


তখন এ সুযোগটি গ্রহণ করে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। তারা শিশু-কিশোরদের দিয়ে খুন-রাহাজানির মতো বড় অপরাধ করিয়ে থাকে। কারণ অপ্রাপ্তবয়স্করা আইনগতভাবে কিছুটা ছাড় পেয়ে থাকে এবং পুলিশও তাদের তেমন একটা সন্দেহ করে না ও নজরদারির মধ্যে রাখে না। সাধারণত দেখা যায়, অপরাধী শিশু-কিশোরদের শিশু-কিশোর অপরাধ সংশোধন কেন্দ্রে না পাঠিয়ে বয়স বাড়িয়ে জেল হাজতে পাঠানো হচ্ছে। এতে তারা সংশোধিত না হয়ে আরো বড় ধরনের অপরাধী হয়ে উঠছে বলে অপরাধ বিশেস্নষকরা মনে করছেন। শিশু-কিশোরদের অপরাধ প্রবণতা রোধে আমাদের সচেতন হতে হবে। এ জন্য সমাজ বিজ্ঞানী ও অপরাধ বিজ্ঞানীদের পরামর্শ নিতে হবে। পারিবারিক মূল্যবোধ রৰার বিষয়টির দিকেও জোর দিতে হবে। পরিবার হচ্ছে মানুষ গড়ার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র। পারিবারিক মূল্যবোধ আদর্শের চর্চা যেখানে থাকবে সেখানে কিশোররা ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। যেসব পরিবার তার সনত্দানদের ব্যাপারে সচেতন সেসব পরিবারের সনত্দানরা কখনো বিপথে যায় না। তাই কিশোর অপরাধ রোধে পারিবারিক মূল্যবোধ ও আদর্শের চর্চা বাড়াতে হবে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে শিশু-কিশোরদের ভয় দেখানো উচিত নয়।


ভয় দেখিয়ে সাময়িকভাবে তাদের হয়ত কিছুদিন অনৈতিকতা থেকে দূরে রাখা সম্ভব। কিন্তু অচিরেই তা আরো দারূণভাবে প্রকাশ পায়। তাই প্রত্যেক বাবা-মায়েরই উচিত ছোটবেলা থেকেই তাদের সন্তানদের স্নেহময় পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ রেখে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় এবং নৈতিক-অনৈতিক বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দেয়া।


তাছাড়া শিশু-কিশোরদের বর্তমান যান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে আবদ্ধ না রেখে তার মধ্যে কল্পনা শক্তির বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে তাদের সৃজনশীল কাজে যুক্ত করা প্রয়োজন। তবে নৈতিক শিক্ষার (ধর্মীয়) বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিশু-কিশোররা ক্রমশ নৈতিক শিক্ষা থেকে দূরে সরে আসছে বলেই তাদের একটা অংশ আজ বিপথগামী হয়ে পড়েছে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে মানবিক ও নৈতিক শিক্ষার অনুসঙ্গ যুক্ত করা খুবই প্রয়োজন। তাদের মাঝে মানবিক ও নৈতিক শিক্ষা এবং মূল্যবোধের প্রসার ঘটাতে না পারলে তাদেরকে কখনোই অবক্ষয় এবং অধঃপতনের হাত থেকে বাঁচানো যাবে না। তাই এই ব্যাপারে সরকার এবং অভিভাবকদের অত্যন্ত সচেতন হতে হবে। তবেই এই আত্মঘাতি সামাজিক অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব হতে পারে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]