নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশালের হিজলা উপজেলার মাউলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এই বিতর্কিত নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে গত ৮ জুলাই হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্থানীয় সংবাদকর্মী এস. এম. মনির হোসাইন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। কোনো প্রকার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা বা প্রচারণা ছাড়াই সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছিল। সাধারণ অভিভাবকদের অন্ধকারে রেখে ভোটার তালিকা প্রদর্শন এবং মনোনয়ন ফরম বিক্রির সময়সীমা গোপন রাখার মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠনের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী এস. এম. মনির হোসাইন জানান, তাঁর ছেলে ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির নিয়মিত ছাত্র। নিয়ম অনুযায়ী একজন অভিভাবক হিসেবে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার থাকলেও, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম তাঁকে বিভিন্ন কূটকৌশলে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অপমান ও নাজেহাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারী এস. এম. মনির হোসাইন জানান, তাঁর ছেলে ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির নিয়মিত ছাত্র। নিয়ম অনুযায়ী একজন অভিভাবক হিসেবে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার থাকলেও, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম তাঁকে বিভিন্ন কূটকৌশলে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অপমান ও নাজেহাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারী আরও জানান, ২০০৩ সাল থেকে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম নিজের খেয়ালখুশিমতো বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য ও খামখেয়ালিপনার কারণে এই দীর্ঘ সময়ে বিদ্যালয়টিতে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক যোগ দিতে পারেননি। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের ওপর। এর প্রমাণ হিসেবে সর্বশেষ ২০২৫-২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আশানুরূপ ফলাফল করতে না পারার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, "এস. এম. মনির হোসাইন বিদ্যালয়ে না জানিয়ে তাঁর ছেলেকে পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। এ নিয়ে অন্যান্য অভিভাবকদের অভিযোগ থাকায় তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি। অভিযোগকারী প্রতিহিংসাবশত আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।"
এ বিষয়ে হিজলা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোমান্স আহম্মেদ বলেন, "মাউলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে অনিয়মের বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কমিটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইলিয়াস সিকদার বলেন, "অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।"
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। তারা অবিলম্বে এই বিতর্কিত নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করে স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত প্রক্রিয়ায় পুনরায় তফসিল ঘোষণা এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।