কুড়িগ্রামে বাদামের বাম্পার ফলন হলেও বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে শতাধিক কৃষক

আপলোড সময় : ১২-০৭-২০২৬ ০৮:৪৪:৪০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-০৭-২০২৬ ০৮:৪৪:৪০ অপরাহ্ন
 
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার তিস্তা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এখন বাদাম তোলার ব্যস্ত সময় চলছে। কোথাও মাঠ থেকে বাদাম তোলা হচ্ছে, কোথাও শুকানো হচ্ছে, আবার কোথাও বাজারজাতকরণের প্রস্তুতি চলছে। তবে এই কর্মচাঞ্চল্যের মধ্যেও স্বস্তিতে নেই নিচু এলাকার কৃষকরা। মৌসুমের শেষ দিকে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে অনেক বাদামক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। অনেকে বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব বাদাম তুলে লোকসান গুনছেন।
 
সরেজমিনে চরাঞ্চল ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতে ফলনের আশা ছিল বেশ ভালো। গত বছরের বন্যার পর নদীবাহিত পলি জমে চরাঞ্চলের অনেক জমির উর্বরতা বেড়ে যাওয়ায় বাদাম চাষ নিয়ে আশাবাদী ছিলেন কৃষকরা। কিন্তু মৌসুমের শেষ দিকে টানা বৃষ্টিতে সেই প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা লেগেছে।
 
তিস্তার চরাঞ্চলে দেখা যায়, উঁচু জমির অধিকাংশ বাদামক্ষেতে ফলন সন্তোষজনক হলেও নিচু এলাকার চিত্র ভিন্ন। জমে থাকা পানিতে অনেক ক্ষেতের বাদাম পচে গেছে। কোথাও আবার বাদামের দানা পূর্ণতা পাওয়ার আগেই কৃষকরা ফসল তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে উৎপাদন ব্যয়ের বড় অংশই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং বাদামের মানও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
 
গোড়াইপিয়ার চরের কৃষক মোঃ কোব্বাস আলী জানান, তিনি ৪০ শতক জমিতে বাদাম চাষ করেছিলেন। টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে অধিকাংশ বাদাম নষ্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে আগেভাগেই ফসল তুলতে হয়েছে। মাঠ থেকে বাড়ি পর্যন্ত বাদাম তুলতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হলেও ফলন হয়েছে মাত্র পাঁচ মণ। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে উৎপাদন খরচের সামান্য অংশই উঠবে। ঋণ পরিশোধ ও সংসার চালানো নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
 
একই ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন, মোঃ চান মিয়া, মোঃ মঞ্জু মিয়া, মোঃ কাশেম আলী ও মোঃ রবিয়ালসহ চরাঞ্চলের আরও অনেক কৃষক। তাদের ভাষ্য, তিস্তার চরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল বাদাম। কিন্তু প্রতি বছরই বন্যা, আকস্মিক বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় তাদের স্বপ্ন ভেঙে যায়। ক্ষতি কমাতে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।
 
উলিপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৩৬৫ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ৩৬৮ হেক্টরে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৭৫ মেট্রিক টন। তবে সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে চরাঞ্চলের নিচু এলাকার কিছু জমিতে ফলনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 
উলিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন বলেন, “উঁচু চরাঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে বাদামের ফলন ভালো হয়েছে। তবে নিচু এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে কিছু ক্ষতি হয়েছে। বাজারদর অনুকূলে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বাদ দিলে অন্য কৃষকেরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছি।


 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]