রানা ইসলাম বদরগঞ্জ রংপুর
রংপুরে বদরগঞ্জে স্বজনদের প্ররোচনায় স্বামীকে মানসিক ও শারীরিক ভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২'জুলাই পৌর শহরের ছকিমুদ্দীন ডাঙ্গা গ্রামে স্বামীর ভাড়া বাসায় মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পিতা ছেলেকে নির্যাতনের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও ঘটনাস্থলে যেয়ে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগে দামোদরপুর ইউনিয়নের চক পলাশবাড়ী গ্রামের মীর কাশেমের ছেলে হারুন উর রশিদ সঙ্গে রাধানগর মানসিংহ নয়াপাড়া গ্রামের মৃত বাছেত উল্লাহ মেয়ে রোকসনার বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছর পর তাদের একটি কন্যা সন্তান হয়। হারুন একটি মাদ্রাসা অফিস সহায়ক পদে কর্মরত। গ্রামের বাসায় না থেকে এই দম্পতি পৌরশহরে ছকিমুদ্দীন ডাঙ্গা গ্রামে একটি বাসা ভাড়া নেন। সংসারের দুই বছর পার হতে স্ত্রী বিভিন্ন চাহিদা বেড়ে গেলে। তখন স্বামীর উপর মানসিক অত্যাচার চালাতে থাকেন। একাধিকবার তার খেয়াল খুশি মতে স্বামীর উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। সেখানে দুই ভাইয়ের প্ররোচনায় কিছুদিন পর আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে এসে সংসারের অভাবের অজুহাত দেখিয়ে স্বামীর উপর মানসিক নির্যাতন শুরু করে। এতে সংসারে দৈনতা বাড়তে থাকে। মাদ্রাসায় যৎসামান্য বেতনে হারুন তার স্ত্রী চাহিদা ও সংসার চালাতে হিমশিম খান। রোকসানা বেগম স্বামীর উপর অনবরত চাপ সৃষ্টি করলে হারুন তাকে বকাঝকা করে। বিষয়টি মুঠোফোনে রোকসানা তার দুই ভাইকে জানান। খবর পেয়ে গত ২ জুলাই তার দুই ভাই আশরাফ, রাজেকুল, ছকিমুদ্দীন ডাঙ্গা গ্রামে আসেন। এরপর রোকসানা মিলে হারুনকে মারধর করে। এসময় হারুন গরু বিক্রি টাকাও তারা কেড়ে নিয়ে চলে যায়।
ছকিমুদ্দীন ডাঙ্গা গ্রামে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, রোকসনা ও তার ভাইয়েরা এসে সেদিন হারুনকে খুব মারধর করে। এরপর হারুন স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে যায়।
অভিযোগ বিষয়ে রোকসানা পিতার বাসায় গেলে তার দুই ভাই কে পাওয়া যায়নি। রোকসানা বলেন, ওই সংসারে খুব অভাব। আমাকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিয়ে করেছে। হারুন সংসার চালাতে পারে না। আমার, ভাইয়েরা তাকে সাহায্য করে।
বদরগঞ্জ থানার এসআই ওয়াদুদ আলী বলেন, দু'পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে মেয়ে পক্ষ আমাকে জানিয়েছেন আদালতে মামলা দায়ের করবেন।