আঃ লীগ-জামায়াত নিয়ে ‌‘মনগড়া’ ভোটার তালিকা, ‘পকেট কমিটির’ মাধ্যমে পাতানো কাউন্সিলের চেষ্টা উপজেলা বিএনপি'র

আপলোড সময় : ১০-০৭-২০২৬ ০৭:২৪:১৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৭-২০২৬ ০৭:২৮:২৭ অপরাহ্ন
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-


কুড়িগ্রাম জেলার চর রাজিবপুর উপজেলায় বিএনপির দ্বি-বার্ষিক ইউনিয়ন কাউন্সিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সরকারি হাই স্কুলের দুই শিক্ষক। কাউন্সিলকে সামনে রেখে চর রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মোখলেছুর রহমান এবং সদস্যসচিব মোঃ আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা বিএনপি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী স্থানীয় যুবদল নেতা মোঃ বুলবুল আহমেদ। দলীয় গঠনতন্ত্র এবং সাংগঠনিক নীতিমালা উপেক্ষা করে মনগড়া ভোটার তালিকা করে ‘পাতানো কাউন্সিলের’ আয়োজন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই যুবদল নেতা।


আগামী ১০ জুলাই চর রাজিবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়ন, ১১ জুলাই কোদালকাটি এবং ১২ জুলাই মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলার চর রাজিবপুর উপজেলার রাজিবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ সামসুল আলমকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এবং মোঃ আব্দুর রাজ্জাককে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারি হয়ে রাজনৈতিক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মচারী আচরণবিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, পকেট ইউনিয়ন কমিটি করার উদ্দেশে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করেছেন চর রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব। কমিটিগুলোতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের সক্রিয় কর্মীদের স্থান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ড কমিটিগুলোতে স্বামী ও স্ত্রীকে একই কমিটিতে রেখে সাংগঠনিক ভারসাম্য নষ্ট করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার চর রাজিবপুর উপেজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কমিটিতে স্থান পাওয়া মোঃ ছানোয়ার হোসেন ও মোঃ শাহিনুল ইসলাম, ৫ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির মোঃ মনিরুজ্জামান ও মোঃ এমদাদুল হক ইউনিয়ন জামায়াতের সক্রিয় কর্মী। তারা পারিবারিকভাবে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলেও জানা গেছে। একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কমিটিতের স্থান পাওয়া মোঃ আবু শামা ও মোঃ রফিকুল ইসলাম, ৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির মোঃ শামীম হোসেন, মোঃ সাইদুর রহমান ও মোঃ ফুল মিয়া এলাকায় আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে, ৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিটিতে স্থান পাওয়া মোঃ ফারুক হোসেন ও মোছাঃ রেখা আক্তার এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আলী ও মোছাঃ চায়না খাতুন সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিটিতে থাকা মোঃ বেলাল হোসেন ও মোঃ রফিকুল ইসলাম সম্পর্কে আপন ভাই।


‘পাতানো’ কাউন্সিলের মাধ্যমে ইউনিয়ন কমিটি করার উদ্দেশে ওয়ার্ড কমিটিগুলোকে ‘পকেট কমিটি’ করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সকল সদস্য কাউন্সিলর হিসেবে ভোট বা মতামত প্রদানের ক্ষমতা পাওয়া নিয়ম থাকলেও প্রতিটি ওয়ার্ড কমিটি থেকে তাদের পছন্দমাফিক মাত্র ১১ জন সদস্যকে ভোটার করে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যা গঠনতন্ত্রের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থি। চর রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মোখলেছুর রহমান এবং সদস্যসচিব মোঃ আব্দুল হাই দলীয় গঠনতন্ত্র এবং সাংগঠনিক নীতিমালা উপেক্ষা করে কাউন্সিল পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করায় দলের অভ্যন্তরে চরম অসন্তোষ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সব অনিয়ম ও নীতিমালা পরিপন্থি কার্যক্রম দূর করে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য কাউন্সিল অনুষ্ঠান আয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে দলীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারী যুবদল নেতা। সরকারি চাকরিজীবী হয়ে রাজনৈতিক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক থাকা প্রশ্নে রাজিবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ সামছুল আলম বলেন, ‘আমি দায়িত্বে থাকতে পারি কিনা এ ব্যাপারে আপনি চর রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের সঙ্গে কথা বলুন। আমি কোনও কথা বলবো না।’ জানতে চাইলে চর রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের নির্বাচন পরিচালনায় রাখা হয়েছে তাদের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য। সরকারি দল তাদের কাজের সুবিধার্থে এটা করতে পারে। তবে এ নিয়ে বিতর্ক হলে আমরা তাদের বিরত রাখবো।’ ভোটার তালিকা প্রস্তুতিতে দলীয় গঠনতন্ত্রের লঙ্ঘন করে মনগড়া তালিকা করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘গঠনতন্ত্রের বিষয়ে আমি কিছু বলবো না। তবে সরকারি দল আর বিরোধী দল এক নয়। ৫১ সদস্যকে ভোটার করে ভোট করলে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। এজন্য আমরা চর রাজিবপুর উপজেলা কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে ১১ জন করে সদস্যকে ভোটার করা হয়েছে। এটাকে আপনি মনগড়া বললেও আমি বলতে পারবো না।’ তবে দলে জামায়াত বা আওয়ামী লীগের লোকদের স্থান দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন এই বিএনপি নেতা।


এ ব্যাপারে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আব্দুল খালেক বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ওয়ার্ড কমিটিতে ৫১ সদস্যের সকলেই ভোট প্রদানের ক্ষমতা পাবেন। তা না হলে গঠনতন্ত্রের লঙ্ঘন হবে। ব্যত্যয় হয়ে থাকলে এটার বিরুদ্ধে জেলা কমিটি ব্যবস্থা নিতে পারবে। তারা ব্যবস্থা না নিলে বিভাগীয় নির্বাহী কমিটি কিংবা কেন্দ্রে অভিযোগ দেওয়া যেতে পারে।’ কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, ‘গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে কাউন্সিল করার সুযোগ নেই।


সেক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে আমি কথা বলবো। কাউন্সিল হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হতে হবে। কমিটিতে জামায়াত-আওয়ামী লীগের লোকজন থাকলে সেটা যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হবে। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]