কুড়িগ্রামে নেমেছে বন্যার পানি, বেড়িয়েছে ফসলের ক্ষতচিহ্ন

আপলোড সময় : ০৮-০৭-২০২৬ ০২:৪২:১৯ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-০৭-২০২৬ ০২:৪৫:১৩ পূর্বাহ্ন
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-


কুড়িগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে উঠছে কৃষকদের ক্ষতির চিত্র। তলিয়ে থাকা জমি থেকে পানি সরে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসল। মাঠজুড়ে এখন হতাশা আর অনিশ্চয়তা। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব কষে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। এদিকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে নতুন করে মরিচ, বেগুন, শসা ও শাক জাতীয় ফসল চাষ করতে পারেন।


আর তা সম্ভব না হলে মাসকলাই চাষ লাভজনক বিকল্প হতে পারে বলে পরামর্শ দিয়েছেন, কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি আরও বলেন, যেহেতু আবারও বন্যা হতে পারে, তাই উঁচু জমিতে আমন বীজতলা করতে হবে। পাট বড় হয়ে গেছে পাটের তেমন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সোমবার (০৬ জুলাই) কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর অববাহিকা ঘুরে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে পটল, মরিচ, বেগুন, আমনের বীজতলা, পাটসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও আবাদি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন।


কিন্তু এক দফা বন্যাতেই তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যায় কুড়িগ্রাম জেলায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা সম্পন্ন করে তাদের হাতে কৃষি প্রণোদনা, উন্নতমানের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হোক। তাদের মতে, সময়মতো সহায়তা না পেলে নতুন করে চাষাবাদ শুরু করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হবে না। কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক মোঃ আব্দুল খালেক বলেন, বন্যার পানিতে আমার বিভিন্ন ধরনের সবজি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এত বড় ক্ষতির পর কী করব বুঝতে পারছি না। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।


একই এলাকার কৃষক মোঃ আবু বকর বলেন, আমার বেগুন ও পটলের ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন সরকার যদি আমাদের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে আবার ঘুরে দাঁড়ানো খুব কঠিন হবে। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আর দুই-এক দিনের মধ্যেই ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এরপর প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]