চুরির অপবাদ দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় চালকের পায়ের নখ প্লাস দিয়ে উপড়ে দিলো স্টেডফাস্ট কুরিয়ারের কর্মকর্তারা

আপলোড সময় : ০৪-০৭-২০২৬ ০২:৪৩:২৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-০৭-২০২৬ ০২:৪৭:২৩ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক



ঢাকার কেরাণীগঞ্জে একটি বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যান চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চালক ও তার সহযোগীকে কুরিয়ার সার্ভিসের ওয়ারহাউজে আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের একপর্যায়ে চালকের পায়ের নখ প্লাস দিয়ে উপড়ে ফেলা হয় এবং জোরপূর্বক ব্যাটারির এসিড খাইয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কাভার্ড ভ্যান চালকের নাম শাহ আলম মৃধা (৩৫)।


তিনি 'স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিস'-এর ঘাটারচর শাখায় গত তিন বছর ধরে চালক হিসেবে কর্মরত আছেন। এ ঘটনায় গত ২৮ জুন রাতে শাহ আলমের স্ত্রী ময়না আক্তার বাদী হয়ে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় ৫ জন নামধারী এবং আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা কুরিয়ার সার্ভিস স্টাফের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টার সময় চালক শাহ আলম ও তার সহযোগী সোহাগ কাভার্ড ভ্যানটি কেরাণীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাটারচর মোচরের পাকা রাস্তার পাশে পার্কিং করে পাশের একটি দোকানে চা খেতে যান। চা খাওয়া শেষে মাত্র ২০ মিনিট পর রাত ১১টা ২০ মিনিটে ফিরে এসে তারা দেখতে পান যে গাড়িটি সেখানে নেই।

তাৎক্ষণিকভাবে তারা সিএনজি ও মোটরসাইকেল যোগে চারদিকের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেন। কোথাও গাড়িটির সন্ধান না পেয়ে চালক শাহ আলম কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর ঘাটারচর শাখার কোম্পানির লোকজন চালক ও তার সহযোগীকে খোঁজার নাম করে তাদের ঘাটারচর ওয়ারহাউজের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা মামুন (২৮), মোঃ রাসেল (৩২), ইয়াসিন, রোজ ও শুভসহ কয়েকজন স্টাফ তাদের ওপর চড়াও হয়। লিখিত অভিযোগে ময়না আক্তার উল্লেখ করেন, ওয়ারহাউজের ভেতরে আসামিরা চালক শাহ আলম ও সহযোগী সোহাগকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর নীলাফুলা জখম করে। একপর্যায়ে নৃশংসতার চরম সীমায় গিয়ে বিবাদীরা চালক শাহ আলমের বাম পায়ের বুড়ো আঙুলের নখ প্লাস দিয়ে টেনে উপড়ে ফেলে।

এরপর তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বুকে ও গলায় পাড়া দিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত শাহ আলম তৃষ্ণার্ত হয়ে পানি খেতে চাইলে বিবাদীরা তাকে পানি না দিয়ে জোরপূর্বক ব্যাটারির ক্ষতিকর এসিড খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। নির্যাতনের পাশাপাশি বিবাদীরা চালকের কাছে থাকা একটি ভিভো (VIVO) অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি বাটন মোবাইল এবং তার ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা মুমূর্ষু অবস্থায় চালক ও তার সহযোগীকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করান।
হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে স্বামী কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ঘটনার বিস্তারিত জেনে থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান বাদী ময়না আক্তার। এ বিষয়ে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা gallant করা হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]